বাংলাদেশে বর্তমানে ডিজিটাল ইনোভেশন ও নারীদের
ব্যবসায় অংশগ্রহণ অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দেশের
আর্থসামাজিক উন্নয়নে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একজন সফল নারীর গল্প তুলে ধরেছেন— ইফফাত ই ফারিয়া
‘উই’ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে ই-ক্যাবের ইসির জয়েন্ট সেক্রেটারি এই নারী ব্যবসায় শিক্ষা নিলেও নিজের আইটি নলেজ না থাকাকে প্রতিবন্ধকতা মনে করেননি। তথ্যপ্রযুক্তি ইন্ডাস্ট্রির প্রতি প্রচ্ছন্ন একটা ভালোবাসার সঙ্গে, কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই ‘রিভারি করপোরেশন’ চালু করেন, যেখানে বর্তমানে ১৬ জনের টিম কাজ করছে গেম ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপস, সফটওয়্যার, অ্যানিমেশনসহ বিভিন্ন কাজে। উচ্চ শিক্ষার জীবন শুরুর দু-এক বছরের মাথায় বাবার ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যবসা দেখতে শুরু করেন। পরিবারের নিরন্তর সহযোগিতা তাকে সাহস যুগিয়েছে বারবার। তবে কম বয়সেই নিজের বাবার অসুস্থতায় কিডনি প্রদান করেও তাকে বাঁচাতে না পারার বেদনা তাকে এখনো কাঁদায়।
সফলভাবে কর্ম ও ব্যক্তিজীবন গুছিয়ে চলার মাধ্যমেই তিনি নারীদের পিছিয়ে পড়া বন্ধ করতে নানা সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নিয়ে চলেছেন। এই চিন্তা থেকেই ‘উই’-এর জন্ম। নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে প্রতি মাসে একটি করে কর্মশালা পরিচালনা করেন। পাশাপাশি দেশের ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জীবনমান উন্নয়নে সারা জীবন কাজ করে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন যেন সব দিক থেকে সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। ইন্টারন্যাশনাল ওমেন কংগ্রেস থেকে সম্প্রতি তিনি ‘ বাংলাদেশ ওমেন লিডারশিপ’ শীর্ষক পুরস্কার পান। এ বছর ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ডের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি ‘উই’ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১০ হাজার পেরিয়েছে। ব্যবসার জন্য নারীদের মেম্বার ও ছেলেদের জন্য সাপোর্টার হিসেবে আলাদা ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। শুধু ব্যবসাই নয়, সদস্যদের বই পড়া, গাছ লাগানো, দেশি ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি ও হাতে বানানো পণ্যের জন্য ভালোবাসা ও সচেতনতা চর্চার জন্য উই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা রাজিব আহমেদের সঞ্চালনা এবং ছয় জন ওয়ার্কিং ডাইরেক্টরসহ স্বেচ্ছাসেবীদের টিম নিয়ে নিশা এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে, ব্যবসায় নারীদের দিন বদলের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দান করতে।