বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য নাট্য সংগঠন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়। তাদের তারুণ্যের তিন যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে। কালের স্রোতে তারা বাংলা নাট্য-ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে যোগ করেছে বহু নন্দিত নাটক। দর্শকনন্দিত প্রযোজনা যেন তাদের স্মারক বহন করে। বাঙালি জাতি সবসময়ই উত্সবমুখর। বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ঐতিহ্যের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিকশিত মাধ্যম হলো নাটক। নাটকের মাধ্যমে মানুষের অনেক কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদারিত্ব নিয়ে এই শিল্পটি অত্যন্ত আশাবাদসহ এগিয়ে চলছে দীর্ঘদিন যাবত। বাঙালি সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে নাটক সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় জন্মলগ্ন থেকেই তার নাটকের বিষয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বৈচিত্র্যের সন্ধানী। সাফল্যের তিন যুগে দাঁড়িয়ে মহাকাল আয়োজন করেছে বাংলা ভাষাভাষী ৩১টি নাটক নিয়ে ‘বাংলা নাট্যোত্সব ২০১৯’। একই উত্সবে ভারতের তিনটি রাজ্য এবং বাংলাদেশের নাটকগুলো উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নাটকের একটি যোগসূত্র রচনা করাই মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য। উত্সবের এ মিলনমেলায় দর্শক ও নাট্যকর্মীরা একত্রে ভারত ও বাংলাদেশের নান্দনিক নাট্য প্রযোজনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ১০ দিনব্যাপী ‘বাংলা নাট্যোত্সব ২০১৯’-এর উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা সরকারের চিফ হুইপ শ্রীমতি কল্যাণী রায়, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এবং মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুছ, ইন্দিরা গান্ধি কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ড. নিপা চৌধুরী ও নাট্যজন কামাল বায়েজীদ। সভাপতিত্ব করেন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। উত্সবে ভারতের আসাম রাজ্য থেকে ভাবিকাল থিয়েটার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে এবং আমরা থিয়েটার ও রঘুনাথগঞ্জ থিয়েটার গ্রুপ এবং ত্রিপুরা রাজ্য থেকে শুভম নাট্যচক্র ও লারনার্স থিয়েটার অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, দেশনাটক, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, নাট্যচক্র, বুনন থিয়েটার, শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র, আরণ্যক নাট্যদল, থিয়েটার সার্কেল, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা থিয়েটার, ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী, নাট্যতীর্থ, নাট্যম রেপার্টরি, লোক নাট্যদল (বনানী), সময়, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল, বটতলা, অনুরাগ থিয়েটার, চন্দ্রকলা থিয়েটার, নবনাট, পদাতিক নাট্য সংসদ (টিএসসি), বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা কেন্দ্র, কথক, নাট্যযোদ্ধা, বাঙলা নাট্যদল, মেঠোপথ। বাংলাদেশ ও ভারতের এই দলগুলো উত্সবকে রাঙিয়ে তুলছে। নগরের দর্শক মোহিত হচ্ছে নাট্য প্রযোজনাগুলোর মূর্ছনায়।
গত ২১ অক্টোবর উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মূল হলে মঞ্চস্থ হয় মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের প্রযোজনা ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাট্যচক্রের প্রযোজনা ‘একা এক নারী’ এবং মহিলা সমিতি মঞ্চে ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনা ‘তক্ষক’।
গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় মূল হলে মঞ্চস্থ হয় শুভম নাট্যচক্র, ত্রিপুরার প্রযোজনা ‘অন্তর্গত আগুন’, পরিক্ষণ থিয়েটার হলে ভাবিকাল থিয়েটার আসামের প্রযোজনা ‘হনোয়া কা বেটা’ এবং মহিলা সমিতি মঞ্চে নাট্যতীর্থের প্রযোজনা ‘দ্বীপ’।