টিভিতে সাক্ষাতকার দেওয়া জেলেকে নির্যাতন, প্রধান আসামি গ্রেফতার

টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে জেলে সম্ভু হাওলাদারের ওপর নির্যাতন ঘটনার প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে (৪৫) বুধবার  বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে শাহিনকে বগুড়ার সদর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শাহিন মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের দইহারা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি একেএম মেহেদি হাসান জানান, বুধবার দুপুরে তাকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক পার্থ ভদ্র তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরো পড়ুন: বিসিবির লাভের ভাগসহ ১৩ দফা দাবি ক্রিকেটারদের

জানা গেছে, গত রবিবার রাতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর রিমন তালুকদার বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হল- উপজেলার শ্রীমুখ গ্রামের নুরুল আমিন চেংটুর ছেলে রাসেল (২৭), আব্দুর রশিদের ছেলে মোনারুল (২৮), মোজাহার আলীর ছেলে আনু মিয়া (৩৫) ও শিবপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মিয়া (২৫)।

প্রসঙ্গত, উপজেলার একাধিক সরকারি পুকুর ইজারায় অনিয়ম তুলে ধরে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুসন্ধানী দলকে সম্প্রতি সাক্ষাৎকার দেন মৎস্যজীবী সম্ভু হাওলাদার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী দইহারা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন মিয়াসহ কয়েকজন যুবক পুকুর ইজারা নিয়ে কথা বলবেন বলে গত শনিবার দুপুরে সম্ভুকে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী কোচাশহর বাজারে নিয়ে যান। পরে সেখানে এক দোকানে ঢুকে নিয়ে তাকে রড় দিয়ে বেদম মারপিট করে। এসময় তার আর্ত চিৎকারে স্থানীয় লোকজন চলে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।

ইত্তেফাক/বিএএফ