বিসিকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কারখানা নির্মাণসহ উত্পাদন কার্যক্রম শুরুতে ব্যর্থ হওয়ায় সাভার চামড়া শিল্পনগরীর ১১টি প্লটের বরাদ্দ অবশেষে বাতিল হলো। সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার পর দীর্ঘ সময়েও ট্যানারি স্থাপন করা হয়নি। এসব প্লট বাতিলের বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। অবশেষে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলো মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার চলতি অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিসিকসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত অর্থবছরে মন্ত্রণালয় এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল।
শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও করপোরেশনের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৪৯টি উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প, তিনটি কারিগরি এবং একটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাতে ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্যখাতে ৫৬ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন খাতে ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
আরো পড়ুন: এই সরকারের বিদায় ঘটলেই দেশে শান্তি ফেরবে : মির্জা আব্বাস
সভায় চাষি পর্যায়ে নীরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিসিআইসিয়ের বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। গুণগতমান বজায় রেখে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক নির্মাণ চুক্তি পরিহারের নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া প্রকল্প সম্পর্কিত সমস্যাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি, অর্থছাড়, দরপত্র আহ্বান, যথাসময়ে অধিগ্রহণের সুবিধার্থে ভূমির উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকি, সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের পিপিআর সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, প্রকল্প এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি নির্মাণ শেষ হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও নিশ্চয়তা দিয়েছে মর্মে সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভায় নভেম্বরের মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বিসিকের সব দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের জন্য যাবতীয় দরপত্র প্রক্রিয়া জুন, ২০২০-এর মধ্যে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন কোনো সমস্যা নয়। গুণগতমান বজায় রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ খরচ করলে সরকার প্রয়োজনে আরো অর্থ বরাদ্দ দেবে।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটো-খাটো কারণ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। তিনি বিসিকসহ বিভিন্ন সংস্থার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে শিল্পসচিবকে নির্দেশ দেন। তিনি বিসিকের খালি প্লট প্রকৃত উদ্যোক্তাদের মাঝে দ্রুত বরাদ্দের পাশাপাশি বিসিআইসির বাফার গুদামগুলোর প্রকৃত মজুদ পরিস্থিতি নিরীক্ষা করার তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের হেরফের পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
সভায় শিল্পসচিব বলেন, যেসব কর্মকর্তা কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে, তাদেরকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিগত অর্থবছরে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ