বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও আমাদের প্রজন্ম

বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও আমাদের প্রজন্ম
ছবি: সংগৃহীত

মার্চ বাঙালির অর্জনের মাস। মার্চে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম। এই মার্চেই তার অগ্নিঝরা ভাষণ। স্বাধীনতার ঘোষণা। মার্চ, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যেন একই সূত্রে গাঁথা। মার্চ-২০২১। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ৫০ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। জীবনের শেষ প্রান্তে বসে কত স্মৃতি সামনে আসছে।

মনে পড়ে ১৯৬২ সালে ফেনী পাইলট হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। হোস্টেলে থাকি। স্কুল ছুটি। বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে ফেনী ট্রাংক রোডে এলাম। বড় ভাইয়ের বন্ধু মুহাম্মদ উল্ল্যাহ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। তার সঙ্গে তত্কালীন প্রভাবশালী দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মাহবুবুল হক সাহেব। তারা মাইজদী যাচ্ছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জনসভায়। বললেন তুমিও চলো আমাদের সঙ্গে সেখানে তোমার ভাইও থাকবেন। আমি তো মহা খুশি। সোহরাওয়ার্দী সাহেব যখন আসবেন তখন শেখ মুজিবও থাকবেন। একসঙ্গে দুই জনকে দেখব। মাইজদী আসলাম। জনসভা শুরু হলো। কী একটা হইচই। একটা আওয়াজ মুজিব ভাই কই! শেখ মুজিব তখনো স্টেজে ওঠেননি। একটু পরে মঞ্চে উঠলেন সুদর্শন একজন মানুষ। জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লেন, জনতা শান্ত। জীবনে প্রথম দেখলাম। তার বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। কী কণ্ঠস্বর। অসাধারণ বক্তব্য। জনতা মনমুগ্ধ হয়ে তার বক্তৃতা শুনল। সোহরাওয়ার্দী সাহেবের বক্তব্য শেষে জনসভার সমাপ্তি। বড় ভাইয়ের সঙ্গে অনেক জায়গায় ঘুরলাম। তিনি বললেন রাতে রেল স্টেশনে সোহরাওয়ার্দী সাহেব মুজিব ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হবে। তারপর বাড়ি যাব। আমি ভীষণ উত্তেজিত। এত বড় মানুষের সঙ্গে দেখা হবে আলাদা অনুভূতি। সময়মতো আমরা স্টেশনে গেলাম। সোহরাওয়ার্দী সাহেব ও শেখ সাহেব পাশাপাশি কামরায়। আমরা গেলে শেখ সাহেব বের হয়ে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কামরায় গেলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি গেটে আসলেন। শেখ সাহেব সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে বললেন, স্যার জেলা ন্যাপের নেতারা দেখা করতে এসেছে। তখন জেলা ন্যাপের সেক্রেটারি সালাম ভাই। আমার বড় ভাই নুরুল হক চৌধুরী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সালাম ভাই একে একে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সবার নামের আগে মিস্টার যুক্ত করলেন। সর্বশেষ সাক্ষাত্প্রার্থী আমি। তখন তিনি বললেন ইনি মাস্টার রাজ্জাক। সোহরাওয়ার্দী সাহেব হেন্ডসেক করলেন আর বললেন এত মিস্টারের মধ্যে মাত্র একজন মাস্টার। শেখ সাহেব আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। কিশোর বয়স। এত বড় মাপের মানুষের সামনে আসা স্বপ্নের মতো। আজও সেদিনের মধুর স্মৃতি ভুলতে পারি না। সেই থেকে দেশের সব আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। নেতা ও আদর্শের প্রতি এখনো অনুগত।

৩ মার্চ ১৯৭১ পল্টনের জনসভা থেকে ঘোষণা হলো—৭ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দান থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন। তখনো গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর জনসভায় আসতেই হবে। ঐ সময় যোগাযোগব্যবস্থা ছিল বড় করুণ। রাস্তাঘাট খুবই খারাপ। সড়ক পথে দাউদকান্দি, মেঘনা, কাঁচপুর ফেরি পার হয়ে ঢাকা আসতে হয়। রেলে চাঁদপুর, চাঁদপুর থেকে কোনো রকমে লঞ্চে ঢাকায় পৌঁছালাম। সদরঘাট থেকে মিছিল করে রেসকোর্স ময়দানে। সবার মনে একই কথা। কী বলবেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার ঘোষণা না অন্য কিছু। তবে নেতার প্রতি জনতার অগাধ আস্থা। তিনি যা বলবেন জনতা তাই মানবে। কী এক কঠিন অবস্থা। দলের ভেতর উগ্র অংশ চাপ দিচ্ছিল, স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে পাকিস্তানিরা অপেক্ষা করছিলেন হঠকারী কিছু করলেই চরম আঘাত হানবে। গোয়েন্দারা ঘুর ঘুর করছে। মাথার ওপর সেনা হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছিল। উদ্যানে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষ অবিরাম স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। ৩টার পর তিনি এলেন, মাইকের সামনে দাঁড়ালেন। ১০ লাখ জনতার সমাবেশ স্তব্ধ। বক্তৃতা শুরু করলেন। প্রত্যেকটি বাক্যের সঙ্গে জয় বাংলা ধ্বনিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল জনতা। ১৮ মিনিটের ভাষণ শেষ হলো। স্বাধীনতার কথা, মুক্তির কথা, গেরিলাযুদ্ধের কথার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ অধিবেশন ডাকার কথা সবই বললেন; কিন্তু তাকে বিচ্ছন্নতাবাদী দেশদ্রোহী অপবাদ দেওয়ার সুযোগ রাখলেন না। এর মধ্যেই ৭ মার্চের ভাষণে বাংলা সাড়ে ৭ কোটি মানুষের মনের আবেগ ফুটে উঠেছে।

এলাকায় ফিরলাম। ৯ মার্চ ৭১ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী সংগ্রাম কমিটি গঠন করলাম। ফয়জুল ইসলাম সভাপতি, আমি সাধারণ সম্পাদক আমাদের প্রথম কাজ ছিল সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও ছুটিতে থাকা লোকজনকে খুঁজে বের করা আর যুবকদের প্রাথমিক সামরিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাক্তন সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা যোগাযোগ করলেন। ট্রেনিং মানে শারীরিক কসরত শুরু হলো; কিন্তু ট্রেনিংয়ের সরঞ্জাম কই পাব। আপাতত বাঁশ দিয়ে কাজ শুরু হলো।

ইতিমধ্যে ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া ঢাকা এলেন। ১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সংলাপ করলেন। আমরা নিশ্চিত ছিলাম আলোচনায় কিচ্ছু হবে না। তারা আঘাত করবে। তাই হলো। ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হলো। নির্বিচারে বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরু করল তারা। রাত ১২টা ২০ মিনেট বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। রাতে পাকিস্তানি মিলিটারি বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গেল। ২৬ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বার্তা প্রত্যেক জেলায় জেলায় মাইকে প্রচার করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

২৬ তারিখ দুপুর ২টার কিছু পর চট্টগ্রাম বেতার থেকে একটা তেজদীপ্ত কণ্ঠ ভেসে এলো। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান, তিনি জানালেন রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণ শুরু করেছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত-আহত। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিরাপদ স্থান থেকে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তখন কেউ জানত না বঙ্গবন্ধু বন্দি হয়েছেন। ঐদিন বিকালে সবাই জড় হলাম। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকলাম। আমরা যুব ব্রিগেড গঠন করলাম। পাড়ায় পাড়ায় লাঠি নিয়ে পাহারা বসালাম। যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে। এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে পাকিস্তানি সেনারা নোয়াখালী দখল করল। বড় বড় বাজারে মুসলিম লীগাররা লুটপাট চালাল। শত শত হিন্দু ও আওয়ামী লীগারদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হলো। হিন্দুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। সিদ্ধান্ত হলো এলাকার যেসব হিন্দু পরিবার ভারত যেতে চায় তাদেরকে নিরাপদে বর্ডার পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এরূপ ৪০/৪৫টি পরিবারকে আমরা বর্ডারে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। আমার এক বন্ধু স্কুলের হেড মাস্টার, তাকে নিজে গিয়ে পৌঁছায়ে দিলাম।

অবশেষে বিজয়ের দ্বার প্রান্তে বাংলাদেশ। সারা দেশে মুক্তি বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা নাস্তানাবুদ। ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তান পশ্চিম সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। ভারতীয় সেনা ও মুক্তি বাহিনীর সমন্বয়ে মিত্র বাহিনী গঠিত হলো। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারত বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দিল। মিত্র বাহিনী গঠিত হলো। মিত্র বাহিনী সারা দেশে পাকিস্তানিদের ওপরে জলে, স্থলে, আকাশে একযোগে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করল। একে একে পাকিস্তানিদের বিভিন্ন ঘাঁটির পতন হতে লাগল। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, বিকাল ৪টা ৩১ মিনিট: পাকিস্তানের ৯৪ হাজার সৈন্যসহ জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণ করলেন। আমি তখন রণাঙ্গনে। তিন দিন আগে থেকেই আমরা বুঝেছিলাম এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা গুলি ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলাম। আপামর জনতা ঘর থেকে বের হয়ে আমাদেরকে অভিনন্দন জানাল। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে চারদিকে মুখরিত।

এত আনন্দের মধ্যেও জাতি মন খুলে হাসতে পারল না। কারণ বঙ্গবন্ধু নেই। কোথায় আছেন তাও কেউ জানে না। সম্প্রতি এক পল্লি কবি একটা গান বানিয়েছেন—‘যে কারিগর দেশ বানাইছে, সেই কারিগর নাই’। আসলে সাধারণ মানুষের অনুভূতি তা-ই ছিল। সব বাঙালির বুকে বেদনার ভার। সারেন্ডারের আগে পাকিস্তানিরা দেশের সমস্ত রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, পোর্ট, বিমানবন্দরসহ সব স্থাপনা ধ্বংস করে গেছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ লুট করে কাগজের নোটগুলোও পুড়িয়ে দেয়। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, জেনারেল নিয়াজির নির্দেশে আলবদর আলশামসরা শত শত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। জানুয়ারির ৭ তারিখ সুখরব এলো। বঙ্গবন্ধু মুক্তি পাচ্ছেন। ১০ জানুযারি তিনি দেশে পৌঁছাবেন। স্বাধীনতা, মুক্তি পূর্ণতা লাভ করল। তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায় ফিরলেন জাতির পিতা। দেশের দায়িত্ব নিলেন। সব কিছু শূন্য। রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য। পোর্ট ধ্বংস। রেল ধ্বংস। সড়ক ধ্বংস। খাদ্যগুদাম শুন্য। ঘরছাড়া ১ কোটি মানুষকে পুনর্বাসন করতে হবে। ঘর হারানোদের ঘর করে দিতে হবে। তিনি ধীরস্থির। সব সামলালেন। রাস্তাঘাট চালু, পোর্ট চালু, সচিবালয়, সেনা, নৌবাহিনী গঠন, বিমান বাহিনী গঠন, বহির্বিশ্বের স্বীকৃতিসহ হাজার হাজার কাজ করে গেলেন। আট মাসের মধ্যে নতুন সংবিধান। ১৪ মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন। বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন। প্রথম বাজেট ৭৮৫ কোটি টাকা। বর্তমান টাকার মানে ২০ হাজার কোটি টাকার কম নয়। পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা—সব করেন বিদ্যুত্ গতিতে। এর মধ্যে ৭৪ সালের বন্যা। নগদ টাকায় কেনা খাদ্য এলো না। ষড়যন্ত্র। কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ। ব্যাপক অপপ্রচার। পাকিস্তানপন্থি আমলাদের অসহযোগিতা। তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। সব দলমত এক করে বাকশাল গঠন করলেন। চারদিকে উন্নয়নের জোয়ার। ১০ টাকার চালের দাম ৩ টাকায় নেমে এলো। মানুষ স্বস্তি পেল। শত্রুরা ভাবল এখনই আঘাত না করলে আর সময় পাবে না। চরম আঘাত হানল। জাতির পিতাকে হত্যা করা হলো। অন্ধকার নেমে এলো। ভাগ্যগুণে তার দুই কন্যা বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে গেলেন।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫, আমি সিলেটে সরকারি একটা ব্যাংকে কর্মরত। একটি ব্যাচেলর কোয়ার্টারে থাকি।

বাসার পাশে একটি পুকুরে গোসল করতাম। সকালের দিকে গোসল করতে যাচ্ছিলাম। কয়েক জন জড় হয়ে আছে। বললেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে বলল ভুয়া খবর। আমি বললাম বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তারা কখনো রেডিও স্টেশন যেতে পারত না। গোসল না করেই বাসায় ফিরলাম। আমরা পাঁচ-ছয় জন এক সঙ্গে। সবাই স্তব্ধ। কারো মুখে কথা নেই। এক দিন পর জানলাম। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। আশার আলো মিটমিট করে জ্বলল। হয়তো একদিন তাদের মাধ্যমেই ফিরে পাব বাংলাদেশ। ২১ বছর পর তা-ই হলো। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলাম বুক ফুলিয়ে।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজ কোন পর্যায়ে পৌঁছাত। সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির গবেষণায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু জীবদ্দশায় মাত্র সাড়ে তিন বছরে শত প্রতিকূলতার মধ্যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৯৯৫ সালেই মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যেত। তাহলে অনুমান করা যায়—২০২১ সালে আমরা কোথায় পৌঁছাতাম।

বঙ্গবন্ধুকন্যা এখন প্রধানমন্ত্রী। পিতার মতো চারিত্রিক দৃঢ়তা, দেশ প্রেম—সবই তার মধ্যে বিদ্যমান। গত ১২ বছরে তিনি দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আমি নিশ্চিত, আগামী পাঁচ বছর পর আমরা ভিন্ন বাংলাদেশ দেখব। নতুন প্রজন্ম এর ফল ভোগ করবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নও তা-ই ছিল। আমাদের প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা পেয়েছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনা আছেন, তিনি দিয়ে যেতে পারবেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। সেদিন হয়তো আর দূরে নয়। জীবনের শেষ বেলায় আমাদের প্রজন্মের যারা বেঁচে আছে তাদের একটিই স্বপ্ন—এই দেশটি গড়ে উঠুক ছবির মতো, একটি স্বপ্নের দেশে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে, স্বাধীনতা সার্থক হবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x