মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক, জানে না মানুষ

মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক, জানে না মানুষ
নামফলকের উপর পোস্টার লাগানোয় সড়কটির নাম বোঝায় উপায় নেই। ছবি: ইত্তেফাক

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাজধানীতে বেশি কিছু সড়কের নামকরণ করা হলেও সেগুলো চেনেন না সাধারণ মানুষ। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা থাকাকালীন বেশিরভাগ সড়কের নামকরণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। তখন সড়কে শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামফলক নির্মাণ করা হলেও তা অযত্নে অবহেলা ঢাকা পড়ে গেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের শুরুতে নামফলক করা হলেও তা পোস্টারের কারণে বোঝার উপায় নেই। এছাড়া স্থানীয়রাও জানেন সড়কটি মুক্তিযোদ্ধার নামে। সড়কের পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনগুলোর ঠিকানা আছে পুরাতন সড়কের নামে। রাজধানীতে প্রায় একশোর বেশি মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক এবং বুদ্ধিজীবীদের নামে সড়ক রয়েছে।

রাজধানীর কাঁটাবন ক্রসিং হতে হাতিরপুল বাজার হয়ে সোনারগাঁও ক্রসিং পর্যন্ত সড়কটি মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম সি. আর. দত্ত নামে। কিন্তু এ সড়কটি সবাই চেনেন সোনারগাঁও রোড হিসেবে। এ সড়কে রয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এর কার্যালয়। কিন্তু এই কার্যালয়ের ঠিকানায় দেওয়া আছে ৩ সোনারগাঁও রোড, কাঁটাবন, ঢাকা।

বীর উত্তম সি. আর. দত্ত সড়ক হলেও লেখা রয়েছে সোনারগাঁও রোড

পাশে ৫ বছর ধরে দোকানদারী করছেন মো. হিরন। ইত্তেফাক অনলাইনকে তিনি বলেন, ৫ বছর ধরে দোকানদারী করলেও সড়কটি মুক্তিযোদ্ধার নামে তা জানতাম না। সব সময়ে জানতাম সোনারগাঁও রোড হিসেবে। এখানের সরকারি-বেসরকারি সব কিছুতে তো দেখা যায় সোনারগাঁও রোডের ঠিকানা হিসেবে।

নিউ মার্কেট হতে সজল স্কয়ার হয়ে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল পর্যন্ত সড়কটির আগের নাম ছিল গ্রিন রোড। ২০০৭ সালে নতুন নামকরণ করা হয় বীর উত্তম কে. এম. সফিউল্লাহ সড়ক নামে। ১৪ বছর পরও এ সড়কটি সবাই চেনেন গ্রিন রোড হিসেবে। এ সড়কের পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল। সবগুলোতে ঠিকানায় ব্যবহার করা হয়েছে গ্রিন রোড। কোথাও নেই বীর উত্তম কে. এম. সফিউল্লাহ সড়কের নাম।

অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কে. এম. সফিউল্লাহর নামফলক

সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে বিডিআর গেট পর্যন্ত সড়কটি ২০০৫ সালে নামকরণ করা হয় বীর উত্তম এম. এ. রব সড়ক হিসেবে। কিন্তু এ সড়কটি সবাই জেনেন পুরাতন নাম ২নম্বর সড়ক হিসেবে। এ সড়কের পাশে রয়েছে হাসপাতাল, কলেজ, মার্কেটসহ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হাসপাতাল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় দেওয়া আছে ২ নম্বর রোড।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ঢাকার বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করা হয়। সড়কের কাজ চলাকালীন যেসব নামফলক নষ্ট হয় সেগুলো আবার নতুন করে নামফলক করা হয়।

সড়ক মুক্তিযোদ্ধার নামে হলেও এখনো কেন সাধারণ মানুষ জানেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সচেতনতার অভাব। আমরা চেষ্টা করছি মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে। সড়কের পাশে থাকা বাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান মালিকদের সচেতন হওয়ার দরকার। যারা পুরনো ঠিকানায় বাড়ির খাজনা দিতে সিটি করপোরেশনে আসছে তাদের খাজনাও নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x