দিনবদলের পালায় বাংলাদেশ

দিনবদলের পালায় বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

বিজ্ঞান ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে মানুষকে পৌঁছে দিয়েছে আধুনিক সভ্য ইতিহাসের মণিকোঠায়। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আধুনিক এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য ও সত্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে। সময়ের বিবর্তনে রাজনীতি, অর্থনীতি, জলবায়ুর পরিবর্তনসহ নানা কারণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্ব প্রেক্ষাপট। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির অনেক উন্নতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশেও লেগেছে প্রযুক্তি নামের জাদুর কাঠির ছোঁয়া। ‘দিন বদল’ মানে এ দেশের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন। এর বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে সততার সঙ্গে। সময়কে কাজে লাগাতে হবে তাহলেই জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে। এ লক্ষ্য নিয়েই দিন বদলের পালায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে প্রথমেই জোর দিতে হবে সর্বক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি, ব্যবসাবাণিজ্য, ব্যাংক-বিমা ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সংযোগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে দিনবদলের পালায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সুপার হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উেক্ষপণ করেছে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার উন্নতি ছাড়া জাতির উন্নতি আশা করা যায় না। দীর্ঘদিন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে চলছিল বলে শিক্ষাক্ষেত্রে উত্কর্ষ সাধিত হয়নি। সম্প্রতি এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুলে দিয়েছে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি। এ পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা। যার ফলে ঘরে বসেও অনলাইনের মাধ্যমে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। দিনবদলের পালায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ দেশের যুবসমাজ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হলে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে স্বল্প পুুঁজি নিয়েও কাজ করা সম্ভব। কারো অর্থনৈতিক সংকটে সরকার সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার মাধ্যমে ব্যক্তিকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে বেকার সমস্যাও অনেকাংশে লাঘব হতে পারে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় এ দেশের সিংহভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এ দেশের কৃষকরা নিরক্ষর হওয়ায় কৃৃৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে না পারায় সনাতন পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ফলে উত্পাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি ঘটাতে না পারলে বাংলাদেশকে দিনবদলের পালায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। মানুষ কাজ করে খাদ্য সংস্থানের জন্য। তাই দিনবদলের পালার প্রধান লক্ষ্য হতে হবে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন। এক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে হলেও দিনবদলের পালার স্বার্থে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের প্রায় সব কর্মকাণ্ডই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কলকারখানা অফিস ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার অনস্বীকার্য। বিদ্যুৎ ছাড়া উত্পাদনের কথা চিন্তা করা যায় না। আর উত্পাদন ছাড়া মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এই অসম্ভব ব্যাপারটিই সম্ভব হয়ে উঠেছে বিদ্যুতের ব্যবহার দিয়ে। একটি পরিপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তির কাঠামো গড়ে ওঠার জন্য যথাযথ বিদ্যুতের ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। তাই বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে।

বর্তমান পৃথিবী তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবী। পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে যে জাতি যত বেশি প্রযুক্তিতে দক্ষ, সে জাতির সার্বিক অবস্থা ও তত বেশি উন্নত। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে দিনবদলের পালায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। তবেই দিনবদলের পালায় বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x