ঢাকা রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬
২০ °সে

বইমেলার একাল সেকাল

বইমেলার একাল সেকাল
ছবি: ইত্তেফাক

ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস। বছরের আর এগারোটি মাসের চেয়ে এ মাসটি সম্পূর্ণ আলাদা। এ মাসটি বাঙালির আবেগকে ধারণ করে যেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয় বইমেলা। আমাদের দেশে প্রধান যে উত্সবগুলো রয়েছে তা থেকে বইমেলা যেন এতটুকুও পিছিয়ে নেই। বর্তমানে বইমেলা বাকি উত্সবগুলোর মতোই রঙিন ও বর্ণিল। বইমেলার কথা মনে হলেই চোখে ভাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ। কিন্তু যদি ফিরে তাকাই নব্বইয়ের দশকের বইমেলার দিকে—দেখব, তখন বইমেলার রূপ ছিল একেবারেই আলাদা। তখন বইমেলা হতো কেবল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই। আর টিএসসির সামনে রাস্তায় বিক্রি হতো ভারতীয় বাংলা বই থেকে শুরু করে নানা মনিহারি পণ্য।

আজকের বইমেলার মতো এত সিকিউরিটির ব্যবস্থাও তখন ছিল না। আমার বাবা লেখক হুমায়ুন আজাদের সাথে বইমেলায় যেতাম, দেখতাম নামকরা লেখকেরা নতুন লেখক-পাঠকদের সঙ্গে বইমেলায় ঘুরছেন। বিভিন্ন বই নিয়ে তর্কবির্তক করছেন। স্টলে সে সময় খুব কম লেখকই বসতেন। বোধকরি বাংলা সাহিত্যের যিনি জাদুকর ছিলেন অর্থাত্ হুমায়ূন আহমেদ—তিনিই বইমেলায় প্রথম কোনো একটি স্টলে বসে পাঠকদের অটোগ্রাফ দেওয়া শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে লেখকদের বইমেলায় স্টলে বসে পাঠকদের সঙ্গে আলাপচারিতার ট্রেন্ড সৃষ্টি হয়। আর এখন তো চাহিদা বাড়তে থাকায় প্রতি বছরই বইমেলার পরিধি বাড়ছে, যা আগে হয়তো আমরা কখনো চিন্তাই করিনি।

তবে, সব কালেই লেখক-পাঠক সবাই বইমেলার প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন। যারা জনপ্রিয় লেখক তারা তো বইমেলার মাসটি বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ ছেড়ে অন্য কোথাও থাকা বোধকরি চিন্তাও করতে পারেন না। বইমেলার প্রতিটি স্টলে থাকে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। লেখকের চারপাশে থাকেন অটোগ্রাফ-শিকারিরা। কিছু কিছু স্টলের সামনে থাকে পাঠকের সারিবদ্ধ লাইন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন