বইমেলায় সাড়া জাগিয়েছে ‘আমি অদ্ভুত মেয়ে’

বইমেলায় সাড়া জাগিয়েছে ‘আমি অদ্ভুত মেয়ে’
বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রখ্যাত অভিনেতা মোশাররফ করিম। ছবি : দৈনিক ইত্তেফাক

এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে নন্দিত নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক শফিকুর রহমান শান্তনু এর নতুন উপন্যাস ’আমি অদ্ভুত মেয়ে’। গত ৭ ফ্রেব্রুয়ারি মেলায় আসার পর থেকেই পাঠকদের কাছে যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে বইটি। সেদিন মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রখ্যাত অভিনেতা মোশাররফ করিম।

মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি বলেন, ‘শান্তনুর লেখা নাটকে প্রচুর কাজ করেছি। ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করেছে নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগে। তখন থেকেই পরিচয়। তারপর নাটক লেখা শুরু করল। বেশ ভালো লিখে। ভালো লাগে। এবং আমি, আমরা অপেক্ষা করি, কবে ওর একটা স্ক্রিপ্ট আমি পাবো এবং তাতে অভিনয় করবো। সেই লেখার ছাপ ’আমি অদ্ভুত মেয়ে’ এই উপন্যাসে পেতেই পারি। এর আগেও ও বেশ কয়েকটা বই লিখেছে এবং সবগুলোই আমার ভালো লেগেছে।’

বইটি প্রকাশ করেছে স্টুডেন্ট ওয়েজ। প্রচ্ছদ করেছেন শিবু কুমার শীল। অলংকরণ করেছেন নাজনীন মিষ্টি। বইমেলার প্যাভেলিয়ন ২০ এ পাওয়া যাচ্ছে। প্রকাশক সূত্রে জানা যায়, বইটির প্রথম মুদ্রণ ইতোমধ্যেই শেষের দিকে। বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হল-

‘এখানে কথা বলার মানুষও খুব একটা নেই। বেশিরভাগ সময় বিছানার পাশে জানলা দিয়ে বাইরের আকাশ আর বৈদ্যুতিক তারে একটা শালিক দেখেই কেটে যায় আমার। এই একঘেয়ে ক্লান্তিকর শুয়ে থাকার প্রতিটা মুহূর্ত্তে টের পাই, জীবন আনন্দময়। তখন মনে হয়, আমরা প্রবল তৃষ্ণা নিয়ে যা চাই, তা পাই না। রাত দুপুরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে অন্ধকারে পাশের বিছানা থেকে মা’র কান্না শুনতে পাই। বাবা বিরক্ত মুখে তাকে চাপা গলায় ধমক দেয়, যা হবার হবে। এত চিন্তা করো কেন?

আমি আবার ঘুমিয়ে পড়ি। মাকে একদিন বললাম, মা, আমার মনে হচ্ছে, আমি আর বাঁচবো না।’

এই গল্পটা ফারিয়ার। সে কি একজন মৃত্যুপথযাত্রী? তার বেড়ে ওঠা নিঝুম মফস্বলের দুরন্ত বন্ধুদের এ্যাডভেঞ্চারের গল্পও এটা। মা বাবা আর দাদিকে নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার। তারা প্রত্যেকেই অদ্ভুত। বাবা সবসময় হেলমেট পড়ে ঘুরে বেড়ায়। দাদি পালেন এক এতিম ভূতের বাচ্চা। মায়ের বিচিত্র স্বভাব ফারিয়ার মধ্যে তৈরি করে অলৌকিক পৃথিবী। আমরা প্রত্যেকে মনে মনে হয়তো এমন একটা পৃথিবীই চাই।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত