ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
৩৭ °সে

অগ্রযাত্রার অগ্রদূত ৩

‘আংকেল আমার খুব বিপদ, আমি কাঁঠালবাগান বাজারে যাব’

‘আংকেল আমার খুব বিপদ, আমি কাঁঠালবাগান বাজারে যাব’
‘আংকেল আমার খুব বিপদ, আমি কাঁঠালবাগান বাজারে যাব’

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত এগারটার সময় আমি শ্যামলী থেকে আমার বাসা গ্রিনরোডের দিকে আসছি। এমন সময় দেখতে পায় একটি মেয়ে রিশাওয়ালার সঙ্গে কথা বলছে। আমি শুধু রানিংয়ে শুনতে পাই। মেয়েটা বলছে, আংকেল আমার খুব বিপদ। আমি কাঁঠালবাগান বাজারে যাব।

তখন আমি আমার বাইক থামিয়ে মেয়েটিকে ডাকি, আপু তুমি কোথায় যাবা? মেয়েটি বলে, আমি কাঁঠালবাগান যাব। আমি বলি, তুমি যদি কিছু মনে না করো তাহলে আমার সঙ্গে যেতে পারো, কারণ আমি কাঁঠালবাগানে ২১১ নাম্বার বাসায় থাকি। মেয়েটি কথা না বাড়িয়ে আমার বাইকে উঠে বসে বলে, তাড়াতাড়ি এইখান থেকে চলেন।

আমিও দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করি। মেয়েটি বিব্রত হতে পারে ভেবে তাকেও কিছু জিগ্যেস করি না। ভেতরে কৌতূহল হচ্ছিল।

কি এমন বিপদে সে পড়েছে। আবার এটাও বুঝতে পারছিলাম, এই শহরে একটা মেয়ের জন্যে নানা বিপদ ওৎ পেতে থাকে।

কিছু পথ আসার পর মেয়েটা বলে, ভাইয়া আপনাকে মনে হয় আল্লাহু পাঠিয়েছে। আমি বলি, কি হয়েছে আমাকে বলা যায়? মেয়েটি বলে, ভাইয়া আগে কাঁঠালবাগান যান। তারপর বলবো।

আমি মেয়েটার বাসার সামনে আসার পর দেখি, মেয়েটার মা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি বাইক থেকে নেমে তার মাকে বলে, মা, এই ভাইয়া আমাকে রিশাওয়ালার সঙ্গে কথা বলতে দেখে আমাকে ডেকে বাইকে করে নিয়ে এসেছে। তখন মেয়েটার মা আমাকে বলে, বাবা তুমি আজ আমার অনেক বড় উপকার করলে!

পরে আমাকে ভাড়া দিতে যায়। আমি বলি আন্টি লাগবে না। আমি এমনিতেই আসছিলাম তাই এতো রাতে একলা রিশাওয়ালার সঙ্গে কথা বলা দেখে আর কেমন যেনও ভয় পাচ্ছিলো আপনার মেয়ে। আমি আস্তে আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। আমার কানে কাঁঠালবাগান বাজারের কথা শুনে নিয়ে এলাম। আল্লাহ তোমার ভালো করুক।

আমি বললাম, আন্টি, আমি তাহলে আসি। ঠিক তখন মেয়েটা আমার পায়ে হাত দিয়ে বলে, ভাইয়া আমার সম্মান বাঁচিয়েছেন। আপনি আর একটু দেরি হলে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতো ভাইয়া।

তখন আন্টি আমার হাত ধরে বলে, বাবা কখনও কাউকে বলো না যে, এই বাসার মেয়েকে আমি একদিন বাঁচিয়েছি তাহলে আমার মানসম্মানের ব্যাপার, বোঝোইতো!

আমি বলি, কাউকে বলবো না। এরপরে ওর সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে। ও সালাম দিয়েছে। আমি প্রতিউত্তর দিয়ে চলে গেছি। কিছু বলিনি। কারণ আমি জানি, নীরবতার মাঝে কিছু স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতা থাকে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন