বইমেলায় বিদায়ের সুর!

বইমেলায় বিদায়ের সুর!
ছবি: ইত্তেফাক

বইমেলা কি আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে? সরাসরি কেউ কিছু না বললেও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর কথায় তারই আভাস পাওয়া গেছে। সেদিক থেকে বলতে গেলে আজ রবিবার ১৮তম দিনটিই এ বছরের বইমেলার শেষ দিন! গতকাল টেলিফোনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ইত্তেফাককে বলেন, বইমেলা বন্ধ হবে নাকি চলমান থাকবে সে সিদ্ধান্ত আজ রবিবার মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নেওয়া হবে। তবে মেলা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। কারণ মানুষের জীবন আগে। যেভাবে করোনা বিস্তার লাভ করছে সে পরিস্থিতিতে মেলা চলমান রাখার ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছে না। আমি ব্যক্তিগত মেলা চলমান রাখতে চাইলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তা অনুমোদন দেয় না। লকডাউন দিলে বইমেলা চালু থাকার সুযোগ নেই।

এদিকে, বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বইমেলার ভবিষ্যত্ কী সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা কেউ দেয়নি। তারা সাংবাদিক ও প্রকাশকদের এড়িয়ে চলছেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সারাদিন অফিসেই ছিলেন না। তিনি অফিসে এসেছেন বিকালে। কারো ফোনও ধরেননি। প্রকাশকরা আলোচনা করতে চাইলেও তিনি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেননি।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনী সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, বইমেলা চলবে কি না, সে বিষয়ে শনিবার পর্যন্ত কিছুই জানি না। এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করার পরেও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও রাজি হননি। সব মিলিয়ে প্রকাশকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তিনি সব প্রকাশকের পক্ষে জানান, আমরা চাই লকডাউনের পরে বইমেলা সচল হোক। কারণ এক বছর পর বইমেলা করতে এসে প্রকাশকরা আরো ক্ষতির মুখে পড়েছে।

প্রকাশকদের মধ্যে হতাশা: প্রকাশকদের মধ্যেও মেলা নিয়ে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। বড় বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি স্বীকার করে টিকে গেলেও শঙ্কায় আছেন ছোট প্রকাশনাগুলো। এবারের বইমেলায় তেমন বিক্রি হয়নি। অনেক প্রকাশনী স্টলের সাজসজ্জা ও কর্মচারীদের বেতনের খরচ পর্যন্ত তুলতে পারেনি। প্রতি বছর মেলার শেষদিকে বইয়ের বিক্রি বেড়ে যায়, এ ধারণা নিয়েই তারা কিছুটা আশায় ছিলেন। এখন বইমেলা বন্ধ হয়ে গেলে অবিক্রীত বইগুলোর বোঝা বয়ে বেড়ানোর ভার কীভাবে বইবেন সে আশঙ্কার কথা জানালেন প্রকাশকরা।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, এবারের বইমেলা শুরু থেকে জমেনি। যখন জমতে শুরু করল তখনই মেলার সময় কমিয়ে দেওয়া হলো। এখন লকডাউনের কবলে পড়ল বইমেলা। প্রকাশকদের অবস্থা সঙ্গিন।

গতকাল ছুটির দিনটি পাঠকের আনাগোনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। স্টলে স্টলে বিক্রিও জমে উঠেছিল। সকালে তেমন ভিড় দেখা না গেলেও বিকাল গড়াতেই মানুষের ঢল দেখা গেছে। বইপ্রেমীরা দল বেঁধে এসেছিলেন বই কিনতে। মেলা আজ রবিবার খোলা থাকবে কি না, এ নিয়েও নানা জনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে প্রকাশকদের।

নতুন বই: গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৪টি। এর মধ্যে বলাকা প্রকাশন এনেছে তৌহিদ আহমেদের ‘শেখ মুজিবের ছবি’, রাহানুমা প্রকাশনী এনেছে কাজী রোজীর ‘এরই নাম স্বাধীনতা’ এবং আসলাম সানীর ‘ছন্দ ছড়ায় জীবন গড়া’, ময়ূরপঙ্খী এনেছে মঞ্জু সরকারের ‘অপুর দাদু গাছ’, চারুলিপি এনেছে সন্জীদা খাতুনের ‘বালক রনির কীর্তিকাণ্ড’, ক্রিয়েটিভ এনেছে মিলু শামসের ‘অতসীর স্কুল’, অনুপম এনেছে মিনার মনসুর সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধের উপেক্ষিত বীর যোদ্ধারা’, জনপ্রিয় প্রকাশনী এনেছে শ্যামসুন্দর সিকদারের ‘নীল রঙের সাহস’ ও পেন্সিল এনেছে মনিজা রহমানের ‘হৃদয়বোধক চিহ্ন’।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x