চাহিদা আছে নাটকের বইয়ের, প্রকাশে আগ্রহ নেই প্রকাশকের

চাহিদা আছে নাটকের বইয়ের, প্রকাশে আগ্রহ নেই প্রকাশকের
রুমা মোদক। ছবি: সংগৃহীত

নাটক কি সাহিত্য? নাট্যসাহিত্য কি সাহিত্যের আলাদা কোনো শাখা হিসেবে স্বীকৃত? নাট্যভাষ্য যা কি না দৃশ্যকাব্যের সমার্থক, মঞ্চে উঠলে, দর্শক সকাশে যে মাধ্যমটির প্রাণ তা কি পাঠমূল্য দাবি করে? কিংবা থাকা উচিত? বহুল চর্চিত এই প্রসঙ্গগুলো নাটকের পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রে জরুরি বিবেচ্য।

মূলত দেশব্যাপী থিয়েটার চর্চাই যখন হুমকির মুখে তখন সংগত কারণেই নাটকের পাণ্ডুলিপি প্রকাশে প্রকাশকদের অনীহা রয়েছে। কারণ নাটকের বইয়ের ক্রেতা কম। নাকি পাঠক কম। চক্রটি অবিচ্ছেদ্য। নাটকের বইয়ের পাঠক কারা? যারা নাটকের সঙ্গে সংযুক্ত শুধু তারাই? তবে নাটক সংশ্লিষ্ট অভিনেতা ও কলাকুশলীরাই কি শুধু নাটকের পাঠক? এ প্রশ্ন অনেকেরই। কেননা, দেশব্যাপী থিয়েটার চর্চা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। ঢাকার বাইরে নিয়মিত নাট্যচর্চা করা দলের সংখ্যা হাতে গোনা। এই হাতে গোনা দলের হাতে গোনা সদস্যের কজন আর বই কিনে নাটক পড়েন? পাঠক কিনেন না, তাই প্রকাশক বই প্রকাশে অনাগ্রহী।

অন্যদিকে নাট্যকার হিসেবে প্রতিনিয়ত আমি বিভিন্ন নাটকের দলের কাছে নাটকের বইয়ের অভাববিষয়ক অভিযোগ শুনি। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বলেন, আমার নাটকের বই কিনতে পাওয়া গেলে তারা পড়তে পারতেন, মঞ্চে আনতে পারতেন। আমার নিজ দল জীবন সংকেত ছাড়া বাইরের যেসব দল আমার নাটক মঞ্চস্থ করেছেন, তারা সবাই ব্যক্তিগতভাবে আমার পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছেন। বই প্রকাশ হচ্ছে না বলে তারা পাচ্ছেন না। বই পেলে অন্য কোনো দলও হয়তো নাটক করতে আগ্রহী হতো।

মঞ্চে আমার বিশের অধিক নাটক মঞ্চস্থ হলেও আমার নাটকের প্রকাশনা দুটি। ‘মুক্তিযুদ্ধের তিনটি নাটক’, প্রকাশ করেছে চৈতন্য। আরেকটি ‘অন্তর্গত’, প্রকাশ করেছে দেশ প্রকাশনী। এর আগে ২০০৩ সালের দিকে পাঁচ তরুণের পাঁচটি নাটক নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেছিল টিমওয়ার্ক নামে একটি প্রকাশনা। যাতে আমার একটি নাটক অন্তর্ভুক্ত ছিল।

একাধিক প্রকাশনীর সঙ্গে আলাপ করে দেখেছি, তারা নাটকের বই প্রকাশে আগ্রহী নয়, যতটা আগ্রহী উপন্যাস বা সাহিত্যের অন্যান্য বিষয় প্রকাশে। কোনো কোনো প্রকাশক আবার নাটকের সংকলন বা সমগ্র প্রকাশে আগ্রহী। যে ক্রেতা নাটকের বই কিনেন, তিনি নাট্যকারের অনেকগুলো নাটক একসঙ্গে পেতে চান। তবে নাট্যসাহিত্যে দেশে প্রচলিত কিছু পুরস্কার রয়েছে। অথচ সে পুরস্কার দেওয়ার লেখক খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলা একাডেমিতে একাধিক বার এই ঘটনা ঘটেছে।

এই উপযুক্ত লোক যাচাই প্রক্রিয়াটি কি? প্রকাশনা। মঞ্চায়ন নয় কেন। নাটকের প্রাণ মঞ্চ। কিন্তু প্রকাশ না হলে তা বিবেচনাতেই আসে না। কাজেই যতই মঞ্চকে প্রাণ বলি, প্রকাশ না হলে তার মূল্যায়ন হয় না। আবার ‘বিক্রি হয় না’ বলে প্রকাশক নাটকের বই প্রকাশ করতে অনাগ্রহী। অতএব উপযুক্ত লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল তো বটেই। তাহলে এই চক্র ভাঙবে কে?

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x