টুকটাক বিক্রি, অনেক স্টল বন্ধ

টুকটাক বিক্রি, অনেক স্টল বন্ধ
ছবি: ফোকাস বাংলা

দুপুরে লকডাউনের প্রভাব ছিল কিন্তু বিকালে সেই প্রভাব কাটিয়ে ভালোই জমেছিল মেলা। বই কিনে ব্যাগ হাতে মেলায় অসংখ্য পাঠকের আনাগোনা মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিল, মঙ্গলবারের বিকাল বেলাটিকে। প্রতি বছরই এ সময় মানুষ লিস্ট ধরে বই কিনতে আসেন।

এখন সেই কেনায় ভাটা পড়লেও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। বিক্রি বেশ ভালোই করেছেন কিছু কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। অপেক্ষাকৃত ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টলেও বিক্রি ছিল।

প্রকাশকরা জানালেন, আজ বুধবার থেকে রাজধানীতে সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন চালু হচ্ছে। এই সুযোগে মেলা নিশ্চয়ই তার পুরোনো চেহারা ফিরে পাবে। ধানমন্ডির বাসিন্দা তানভীর হাসান জোহা ও তার কলিগ নুরফাত রিহা এসেছিলেন বইমেলায়। মেলা ঘুরে ঘুরে বই কিনে হাত ভরে গেছে দুজনের। তানভীর জানান, লকডাউনের কারণে তার মেলায় আসা বরং সহজ হয়েছে। স্টলে স্টলে গিয়ে বই কিনতেও স্বচ্ছন্দ বোধ করেছেন।

গতকাল কথাপ্রকাশ, অবসর, ঐতিহ্য, অন্যপ্রকাশ, তাম্র্রলিপি, প্রথমার স্টলে পাঠকের বেশ ভালো সমাবেশ দেখা গেছে। প্রথমার বিক্রয় প্রতিনিধি জানালেন লকডাউনের প্রথম দিনের তুলনায় বিক্রি বেশ ভালো। এদিকে অধ্যয়ন প্রকাশনীর প্রকাশক তাসনুভা আদিবা জানালেন, গতকাল মেলায় সকাল থেকেই পাঠকের আনাগোনা ছিল। ‘এটা ঠিক যে, স্বাভাবিক সময়ের মতো বিক্রি হচ্ছে না। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে বিক্রি তুলনামূলক ভালো’—আদিবার মন্তব্য।

কাকলী প্রকাশনীর প্রকাশক এ কে নাছির আহমেদ সেলিম বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, বইমেলা বন্ধ করার দায়িত্ব কেউ নিতে চাইছে না। প্রকাশক নেতারা বলছেন না মেলা বন্ধ হোক অপরদিকে বাংলা একাডেমিও এই দায়িত্ব নিচ্ছে না। এটা তো ঠিক এ বছরের মেলার সুর কেটে গেছে। মেলা সেই আগের মতো আর জমবে না। এখন শুধু কোনো মতে দিন পাড়ি দেওয়া।

বেশকিছু স্টল বন্ধ: এরইমধ্যে ৩০টিরও বেশি স্টল বন্ধ ছিল। তারা তাদের স্টল আর খুলবেন না বলে জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, লকডাউনের কারণে যাতায়াত, স্টলের কর্মীদের খাওয়া-দাওয়ার খরচ করে ক্ষতির পাল্লা আরো ভারী হচ্ছে। সে কারণেই তারা আর স্টল খুলবেন না। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—তিউড়ি, ইছামতি, শৈলী, গৌরব, এক রঙা এক ঘুড়ি, স্বরবৃত্ত, রাবেয়া বুক হাউস, গতিধারা, বটেশ্বর বর্ণন, নিমফিয়া পাবলিকেশন্স, বাবুই, নৃ, সুলেখা, শিল্পতরু, হাসি, দেশজ, ইন্তামিন, নহলী, আবরার, নোলক, কলম, বিবর্তন, সপ্তবর্ণ, উপমা, অন্তরা, কথাসম্ভার, প্রীতম, গ্রন্থচিত্র, বর্ণপ্রকাশ, জনান্তিক, গণপ্রকাশনী প্রভৃতি।

এ প্রসঙ্গে চারুলিপির প্রকাশক হুমায়ুন কবীর বলেন, বইমেলায় এবার প্রথম থেকে জমেনি। লকডাউনের কারণে তা আরো ম্রিয়মাণ হয়েছে। প্যাভিলিয়ন যারা দিয়েছে তারাও প্রতিদিনের খরচ উঠাতে পারছে না। অনেক প্রকাশকই বিপণন কর্মী কমিয়েছে। ছোট প্রকাশনীর অবস্থা আরো শোচনীয়। অনেক প্রকাশনী সারাদিনে একটি বইও বিক্রি করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তাদের বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ খোলা রাখলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে থাকবে।

নতুন বই: বইমেলার ২০তম দিনে গতকাল নতুন বই এসেছে ২৮টি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য: অন্যপ্রকাশের আতাউর রহমানের ‘রসগল্পের রাজকোষ’, শহীদ আল আমিনের ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’, সেলিনা হোসেনের ‘বধ্যভূমিতে বসন্ত বাতাস’, কাকলী এনেছে অনার্য মুর্শিদ ও রামশংকর দেবনাথ সম্পাদিত ‘অনলাইন সাক্ষাৎকার: নির্মলেন্দু গুণ’, কথাপ্রকাশ এনেছে আনিসুল হকের ‘গুড্ডুবুড়া কমিকস-২’, মাশরুর আরেফিনের ‘পরিস্থিতি যেহেতু আগুন হয়ে আছে’, ঐতিহ্য এনেছে অ্যারমা দত্তের ‘আমার দাদু শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও অন্যান্য’, বিভাস এনেছে ধ্রুব এষের ‘করোনাধারা’, রয়েল পাবলিশার্স এনেছে মশিউর রহমানের ‘বিজ্ঞানের মজা মজার বিজ্ঞান’ প্রভৃতি।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x