করোনার আবরণে ভাষার মাস ও বইমেলা প্রসঙ্গ

করোনার আবরণে ভাষার মাস ও বইমেলা প্রসঙ্গ
ছবি: ইত্তেফাক

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের মতে, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল বসন্তকালের পরিসর। এই সময়ে দুটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস আমরা পালন করে থাকি, যার মধ্যে একটি হলো ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, অপরটি হলো ২৬শে মার্চ (১২ই চৈত্র) স্বাধীনতা দিবস।

এই দিবস দুটিতে জাতীয়ভাবে একুশে ও স্বাধীনতার পদক প্রদান করে সরকার শিল্প, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ অবদনাকারীদের মধ্যে, যা আমাদের মানবিক জগেক আরো সংগঠিত করে ভবিষ্যতের কাজে মনোনিবেশ করতে।

আবার আমাদের সমাজে বসন্তকালে বাসন্তী পূজার সংখ্যা ও কলেবর অনেক কমে গেছে এবং অষ্টমী তিথিতে লাঙ্গলবন্দের মেলা, দেশ জুড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তথা নদীর ঘাটগুলোতে পুণ্যার্থীদের স্নান, বিভিন্ন মেলা বিশেষত গ্রামীণ জনপদে আগের স্বকীয়তা হারিয়েছে।

তার আগেই ২ ফেব্রুয়ারি (১৯ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ) বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে ১৮ মার্চ, ২০২১ বইমেলার শুরুটা হয়, যা আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। দেশের সরকারপ্রধানের বক্তব্যে আরো উঠে এসেছে যে এই গ্রন্থমেলা অনেক নবীন লেখককে তাদের সাহিত্যচর্চার কর্মফল প্রকাশের সুযোগ করে দেয় এবং নতুন পাঠক তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখে।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে নানা সংগ্রামের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই এক মহাবিস্ময়কর ব্যাপার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আবেগময় এই ভাষণ থেকে বেরিয়ে আসে বাংলা ভাষাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম, যা ১৯৪৭-এর দেশ বিভক্তির পর থেকে শুরু হয়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত রূপ নেয়, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১-এর স্বাধীনতার সংগ্রামসহ স্বাধীন-সার্ভবৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা মূল চারনীতি যথাক্রমে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে।

একুশের ভাষা আন্দোলন আমাদের শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা প্রতি বিছর কালের বৈচিত্র্যে শীত-বসন্তে আমাদের কাছে উপস্থিত হয় বহুমাত্রিকতায়, যাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রাণের মেলা। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাবু চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ধমান হাউজ এলাকায় বইমেলার উদ্বোদন করেছিলেন। এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বইমেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসচেতনতাকে।

মাস্ক ছাড়া বইমেলায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি প্রবেশপথে এ বিষয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মাস্ক থাকলে তবেই একজন মেলায় প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। এরপর শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে এবং তা ঠিক থাকলে স্যানিটাইজ করা হয়। সবশেষে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে মূল মেলায় ঢুকতে পারছেন লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীরা। এছাড়া মেলার ভেতরে ঢোকার পর কেউ যেন মাস্ক না খুলে ফেলে, সে বিষয়টিও নজরদারিতে রাখবে প্রশাসন ও একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে হচ্ছে এবারের মেলা। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিটসহ মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে।

সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি পাঁচটি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল দেওয়া হয়েছে। একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন, তাদের বইও বিক্রি বা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করছে। বাংলা একাডেমির তিনটি প্যাভিলিয়ন, শিশু-কিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য একটি এবং সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকারের একটি স্টল রয়েছে।

এবারের একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে বিভিন্ন খাতে যথা : কবিতায়, কথাসাহিত্যে, প্রবন্ধে, গবেষণায়, অনুবাদে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে, ভ্রমণকাহিনিতে, নাটকে, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে ও শিশুসাহিত্যে।

দেশের প্রধানমন্ত্রীর মতোই অনেক সাহিত্যিক মনে করেন বইমেলা শুধু কেনাবেচা নয়, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গণতন্ত্রের আন্দোলন, জাতীয়তাবাদীর চিন্তাচেতনার প্রকাশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই গ্রন্থমেলার সঙ্গে জড়িত আছে সংস্থা হিসেবে বাংলা একাডেমি, বই প্রকাশক সংস্থা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার বুক স্টল, লেখক ও অগণিত পাঠক।

এসব অংশীদারের নিজস্ব একটা ব্যাবসায়িক দিক রয়েছে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার অন্তরালে। বাংলা একাডেমি তাদের আয়োজনের অংশ হিসেবে যে স্টল বরাদ্দ দিয়ে থাকে, সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব আসে। আবার যারা স্টল বরাদ্দ নিয়ে তাদের বই প্রদর্শনের আয়োজন করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে, যার মধ্যে রয়েছে পূর্বে আলোচিত প্রকাশক, লেখক, ব্যবসায়ী, যাদেরও দিন শেষে আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব রাখতে হয় এই মেলাকে ঘিরে।

ছবি: ফোকাস বাংলা

এই বইমেলা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, যার সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা জড়িত তথা বেকারত্বের অবসান ঘটায়। সেই হিসাবে একুশে বইমেলা বই বিক্রেতা, প্রকাশক, ছাপাখানা, বই বাইন্ডিং ইত্যাদি খাতের সঙ্গে জড়িতদেরও কর্মসংন্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

এই দিক থেকে ভাষার মাসের গুরুত্ব অপরিসীম যেমন—বিজ্ঞাপন ব্যবসা, দৈনিক পত্রিকা থেকে শুরু করে অনলাইন নিউজ পোস্ট ও বইমেলাকেন্দ্রিক বুলেটিনে ছাপানো হয় কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় পণ্য হিসেবে বই ক্রেতার বহুরূপিতা যেমন—কেউ ছাত্রছাত্রী, কেউ গবেষক, কেহ শৌখিন ক্রেতা, কেউ আবার কবি-সাহিত্যিক, কেউ শিশু শ্রেণির, কেউ আবার প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি, যারা নিজের প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করার জন্য ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়।

একটি তথ্যে দেখা যায় যে ২০২০ সালের বইমেলায় ৮০ কোটি টাকার ওপরে বই বিক্রি হয়েছিল এবং বর্তমান বছরে এই অঙ্ক করোনার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে হয়। বিশেষত আমাদের মতো বই পাঠের চর্চাবিমুখ মানুষের দেশে। তবুও বইগুলো বইপ্রেমী মানুষের বাসার সৌন্দর্যবর্ধনের উপকরণ বটে, যা বইমেলারই অবদান।

কারণ বইয়ের চেয়ে সুন্দর কিছু আছে বলে মনে হয় না, যা প্রতিটি সৃজনশীল সংস্কৃতিমনা মানুষই বোঝেন। তারা বছরের এই ক্ষণটির দিকে তাকিয়ে থাকেন, কখন ফেব্রুয়ারি মাস আসবে আর প্রকাশনা সংস্থা তথা মুদ্রণকর্মীরা তাদের বিনিদ্র রজনি কাটাবেন মেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নতুন বই মুদ্রণের প্রয়াসে, যা প্রকাশনাশিল্পের জন্য একটি আলোকিত দিক।

প্রতিদিনই মেলায় নতুন বই আসছে, যা মেলার নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে প্রচার করা হয়ে থাকে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা তাদের বিধিবদ্ধ দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিশেষ ব্যক্তিদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ করে তাদের নির্ধারিত চ্যানেলগুলোতে সংবাদের অংশ হিসেবে প্রচার করছেন প্রতিনিয়ত। এই ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এবং এই একই মাসের ২১ তারিখটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি বৈদেশিক অঙ্গনে অনেক প্রসারিত হয়েছে।

এখন সাহিত্যের মানদণ্ডে আমরা যদি এই সময়কে ঘিরে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সৃষ্টির বিষয়গুলোকে মূল্যায়ন করি, তাহলে দেখা যাবে কবিতা ও উপন্যাসের ক্ষেত্রে একটা শূন্যতার আভাস। অর্থাত্ সাহিত্যের অন্যান্য শাখার চেয়ে এই শাখা দুটিতে সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে সৃষ্টি কম, যদিও মানের কথা বিবেচনায় না-ই আনি।

আবার অন্যান্য শাখায় লেখক থাকলেও মানসম্মত লেখার স্বল্পতা পরিলক্ষিত হয় এই ফেব্রুয়ারি মাস ঘিরে। যারা সাহিত্য সমালোচক, তারা বলছেন মানসম্মত সাহিত্য ও সাহিত্যিকের সংখ্যা ক্রমাবনতিশীল বিধায় আগ্রহে ও পেশায় দুটোতেই কেমন একটা স্থবিরতা পরিলক্ষিত হয় সৃষ্টিশীল কাজে।

বিষয়টি এমন যে, সাহিত্য সৃষ্টি বা সাহিত্যিক হওয়া একটা ব্যক্তিগত আগ্রহের ব্যাপার, যা একটি অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রস্ফুটিত হয়, যার ধারাবাহিকতা অনেক দিন পর্যন্ত চলে। এটি কোনো অনুকরণের বিষয় কিংবা শৌখিন বিষয় নয়। এই জায়গাটিতেই সংকট রয়েছে। কেউ যদি এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তবে আর্থিক দৈন্যতার সম্মুখীন হতে হবে এটাই বাস্তব।

বিশেষত প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতির যুগে যেখানে জ্ঞানচর্চার ফসলের বাজার সংগঠিত নয় আবার সামাজিক স্বীকৃতিও সহজেই ধরা দেয় না, যার ফলে ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাও ক্ষীণ হয়ে আসছে প্রজন্মশূন্যতার কারণে। যারা চলে যাচ্ছে আর যারা আসছে, তাদের মধ্যে গুণগত পার্থক্য আকাশ-জমিন, যা শুধু সাহিত্য বা ভাষার ক্ষেত্রেই নয়, জীবনের সর্বক্ষেত্রে। ফলে মনের খোরাকের জন্য যে সাহিত্য প্রয়োজন, সে জায়গাটিতে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব রয়েছে, যার ফলে অস্থিরতা বা অসন্তোষ বা অস্বস্তি এখন প্রায় সব পরিবারেই নিত্যদিনের সাথি, যা মনের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

এ ধরনের একটি আত্মসামাজিক পরিস্থিতিতে সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক কিংবা কবি সৃষ্টি বিশেষত ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে কতটুকু অবদান রাখবে তা ভেবে দেখার বিষয়। যারা জনপ্রিয়তা চায়, তাদের জন্য এ ধরনের মেলা সাহিত্য কেনাবেচার একটি ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু ভালো সাহিত্য বা সৃজনশীল সাহিত্যসৃষ্টি কতটুকু সম্ভব হবে, তা-ও দেখার বিষয়।

তবে আয়োজক সংস্থা বাংলা একাডেমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও তাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে এই মেলার আয়োজন করতে হয় বিশেষত দেশের সাবির্ক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে। কারণ অতীতের অনেক জীবনহানির ঘটনা এই মেলাকে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়েছে, যা আমাদের একুশের চেতনাকে বিনষ্ট করেছে।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সৃজনশীল প্রকাশনার চর্চা, সৃজনশীল সাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্র এই মেলায় আগত কবি-সাহিত্যিক-দর্শনার্থীদের জীবনের ঝুঁকি যে বাড়িয়ে দেয়, তা আমাদের মনে রাখতে হবে অতীতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই আমাদের মতাদর্শগত বিরোধগুলো রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে, গ্রন্থমেলা কোনোভাবেই তার ক্ষেত্র হতে পারে না বা ক্ষেত্র হতে দেওয়া যায় না।

তাহলে ঘোষিত প্রাণের মেলা কথাটির কোনো গুরুত্বই থাকে না, যদিও এর মধ্যে অনেক আবেগ রয়েছে, যা দিয়ে সত্যিকার অর্থে জীবন চলে না। এখন যারা সাধারণ মানুষ কিংবা ছাত্রছাত্রী, তাদের কাছে এসব কথার অর্থ নিরর্থক বলে মনে হতেই পারে।

লেখক: কৃষি অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x