ছুটির দিনে বেড়েছে বিক্রি

ছুটির দিনে বেড়েছে বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

করোনাকালের বইমেলা হিসেবে গতকালের মেলা ভালোই জমে উঠেছিল। স্টলে ক্রেতার আনাগোনা, বইয়ের ব্যাগ হাতে পাঠকের ঘোরাফেরা, স্বাধীনতা চত্বরকে ঘিরে সেলফি তোলা—সবকিছুই ছুটির দিনের মেলাকে জমে উঠবার চেহারা দিয়েছিলো।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দুপুর গড়াতেই মেলায় পাঠকের আনাগোনা বেড়ে চলে। জমে ওঠে বইমেলা। মেলার শেষ সপ্তাহে যা হয় মানুষ লিস্ট করে বই কেনে। তেমন আগ্রহী পাঠকদেরও দেখা গেল বই কিনতে। এছাড়া, জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের ক্রেতারাও ভিড় করেছিলেন স্টলে স্টলে।

তবে শেষ শুক্রবার হিসেবে যেভাবে মেলা জমে উঠবার প্রত্যাশা প্রকাশকরা করেছিলেন সেটা হয়নি। এখন মেলার শেষ দিন পর্যন্ত কি হয় এমন প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন কেউ কেউ। অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, শেষ শুক্রবারের মেলা নিয়ে যে প্রত্যাশা করেছিলাম সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শুক্রবারে বেশি ভিড় থাকে বলে আরেক দিন নিরিবিলি পরিবেশে এসে বই কিনবেন এমন চিন্তা থেকেও অনেকে হয়তো মেলায় আসেননি। এখন শেষবেলায় যদি বিক্রি বাড়ে—এমন আশা করা ছাড়া আর উপায় কী। শেষ দিন পর্যন্ত কি হয় দেখতে চাই।

প্রতিবছর ছুটির দিনে শিশু চত্বরে মানুষের ভিড় থাকে বেশি। মা-বাবাদের সঙ্গে শিশুরা মেলায় আসে বই কিনতে। এবারের মেলায় শিশুদের অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে। শিশু চত্বরও একবারেই ফাঁকা। শিশুদের বই যারা প্রকাশ করেন তাদের বিক্রি এবার একেবারেই নেই। ময়ূরপঙ্খি প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি জানালেন, বইমেলায় পাঠকরা এলেও শিশু চত্বরে কারো পা পড়ে না। শিশুদের বই বিক্রি এবার খুব খারাপ।

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন দেওয়াসহ নানা কারণেই এবারের বইমেলায় পাঠকের সেই ঢল নেই।

মেলা মাঠে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

গণমাধ্যমের চলমান সংকটের ভেতরে-বাইরের অনালোচিত বিষয় নিয়ে সাংবাদিক নিয়ন মতিয়ুলের লেখা ‘গণমাধ্যম অন্দরের ইতি-নেতি’ বইটি এসেছে অমর একুশে বইমেলায়। দেশীয় গণমাধ্যমের সংকট-সম্ভাবনার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনলাইন সাংবাদিকতার নানা দিকও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। শুক্রবার বিকালে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরে প্রথমে বলাকা প্রকাশন স্টলে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন একঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মী। পরে মেলার নির্ধারিত মঞ্চেও মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

নতুন বই: গতকাল বইমেলার ২৩তম দিনের মেলা শুরু হয়, নতুন বই এসেছে ৮৮টি। এরমধ্যে গল্প-১০, উপন্যাস-৯, প্রবন্ধ-৬, কবিতা-৩৪, গবেষণা-১, ছড়া-১, শিশুসাহিত্য-২, জীবনী-৩, মুক্তিযুদ্ধ-৪, নাটক-১, বিজ্ঞান-২, ভ্রমণ-১, ইতিহাস-২, রাজনীতি-১, বঙ্গবন্ধু-৩, রম্য/ধাঁধা-২, ধর্মীয়-১, সায়েন্স ফিকশন-২, অন্যান্য-৩টি বই। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে কথাপ্রকাশ এনেছে মাসরুর আরেফিনের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে সৌমেন সাহার ‘পল্টুর অ্যাডভেঞ্চার অজ্ঞাত দেশ’, আগামী প্রকাশনী এনেছে প্রফেসর আব্দুল খালেকের ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্ব’, সময় প্রকাশন এনেছে সুমী শারমীনের ‘জলেশ্বরী পত্রাবলী’, এশিয়া পাবলিকেশন্স এনেছে অনীশ দাস অপু অনূদিত ‘আতঙ্কের দ্বীপ’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে রফিকুর রশীদের ‘বড়ো মানুষের স্কুলে যাওয়া’, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’, পাঠক সমাবেশ এনেছে ড. সুনীল কান্তি দে’র ‘বঙ্গবন্ধুর দৈনন্দিন জীবন ও তার অনুসারীগণ (১ম খণ্ড), অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে শামসুজ্জামান খানের ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’, বেহুলা বাংলা এনেছে সুহিতা সুলতানার ‘কোয়ারেন্টাইন’ প্রভৃতি।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x