সৃজনশীল বই কেনায় অতিরিক্ত বরাদ্দ জরুরি

সৃজনশীল বই কেনায় অতিরিক্ত বরাদ্দ জরুরি
ছবি: ফোকাস বাংলা

অমর একুশে বইমেলা এবার একুশের মাসে হতে পারেনি। বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘অমর একুশে বইমেলা’ বাঙালি জাতির গর্ব। নানান প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তিতে স্বাধীনতার মাসে বইমেলার তারিখ নির্ধারিত হয়। সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতায় শুরু হয় বইমেলা। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মেলা চলার সময় পরিবর্তন করেন, পরে সারা দেশ লকডাউনে পতিত হলে বইমেলাও পতিত হয় সংকটে। সরকারের আন্তরিকতায় অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও বইমেলা চালু থাকে।

প্রকাশকদের সহযোগিতার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিয়মান। কিন্তু সব সময় সব উদ্যোগ অনুকূলে থাকে না বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বইমেলা চালু রাখার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ আমাদের হয়নি। বিরূপ কথাই তাদের শুনতে হয়েছে বেশি। বইমেলা তো এক মাসের ব্যাপার। গত এক বছর ধরেই প্রকাশকরা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করছে। আশা ছিল বইমেলা ঘুরে দাঁড়াবার একটা সুযোগ হয়তো সৃষ্টি করবে। কিন্তু বিধি বাম, বইমেলায় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রকাশকদের ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য বছরের বইমেলার মতো এবার বই বিক্রি হবে না—এ রকম একটা আশঙ্কা ছিল কিন্তু এত কম হবে তা ধারণা করতে পারিনি। গত বছরের তুলনায় এবারের বই বিক্রি ৮০ শতাংশের চেয়েও কম। গত বছর যার বিক্রি হয়েছে ১০ লাখ টাকা, এবার তার ২ লাখ টাকার বই বিক্রি হওয়াও অনিশ্চিত। গত এক বছর দেশের সৃজনশীল প্রকাশকরা বহু কষ্টে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছিল ‘বইমেলা ২০২১’-এ ঘুরে দাঁড়াবার আশায়, সে অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে।

প্রধানমন্ত্রী একজন সৃজনশীল ও মননশীল লেখক। প্রকাশনা ও প্রকাশকদের সঙ্গে তার পরিচয় দীর্ঘ দিনের। তিনি অন্য অনেকের চেয়ে অনেক বেশি জানেন এদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা জগেক। দীর্ঘদিন ধরে এই বইমেলার উদ্বোধন করছেন। সর্বাধিকবার বইমেলার উদ্বোধনের রেকর্ড তিনি করেছেন। সুতরাং বইমেলার সুখ-দুঃখ তাকেও আলোড়িত করে। বইমেলার আয়োজনে জড়িত বাংলা একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি অধিদপ্তর। এর মহাপরিচালক একজন কবি। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সংস্কৃতিমনা পরিবারের সদস্য। ইতিমধ্যে তিনি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার আন্তরিকতা ও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বইমেলার সঙ্গে সম্পর্কিত পলিসি মেকার সবাই বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব ভালো করে জানেন এবং বোঝেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাদের পক্ষ থেকে আমরা এমন একটি ঘোষণা পাব, যা প্রকাশকদের হতাশা কাটিয়ে উজ্জীবিত হওয়ার সাহস জোগাবে।

প্রকাশকদের প্রতিনিধি এবং সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন—সামনের বাজেটে সৃজনশীল বই ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করে সরাসরি প্রকাশকদের কাছ থেকে বই ক্রয়ের নির্দেশনা প্রদান করে এই খাতকে পৃষ্ঠপোষকতা করবেন। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ প্রতিষ্ঠাসহ সব সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার এবং অফিস ও প্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ সচল করার নির্দেশনা প্রদান করবেন এবং সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বঙ্গবন্ধু কর্নারের’ জন্য বাজেট বৃদ্ধি ও দ্রুত বই ক্রয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সরকারি ক্রয়ে সব প্রতিনিধিত্বশীল সৃজনশীল প্রকাশক ও লেখকদের বই অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাচ্ছি। এই প্রক্রিয়াতেই দেশের সৃজনশীল লেখক ও প্রকাশকদের টিকে থাকার পথ তৈরির সূচনা হতে পারে। সৃজনশীল লেখক ও প্রকাশকরা আত্মমর্যাদা নিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াতে চায়। তাই সাহায্য নয়, সহযোগিতা আমাদের কাম্য।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। প্রকাশক, সময় প্রকাশন।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x