এলো, মেলা শেষের বেলা

কাল শেষ হচ্ছে বইমেলা
এলো, মেলা শেষের বেলা
[ছবি: ইত্তেফাক]

এই করোনাকালেও তরুণদের পদচারণায় মুখর ছিল বইমেলা। বইমেলা শেষের ঘোষণা আসতেই, অনেকেই তাদের মন খারাপের কথা জানান। বলেন, বইমেলায় বই বিক্রি হলো কি হলো না, সেটা প্রকাশকদের বিষয়। ব্যবসা যখন লাভ-ক্ষতি থাকবে। কিন্তু বইমেলা শেষের দিকে গড়ালেই মন খারাপ হয়ে আসে। আবার এক বছর পর আসবে এই মেলা। বইমেলার চত্বরে সবাই তো আর বই কেনেন না। কিন্তু স্টলে বই দেখে ঘুরে ঘুরে আড্ডা দেওয়ার মধুর সময়টা ফুরিয়ে আসছে মনে করলেই মন খারাপ হয়ে আসে।

আজ বাদে কাল সোমবার বইমেলার শেষ দিন। কঠোর লকডাউন শুরু করার আগে বইমেলার সময় দুই দিন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রকাশকরা, স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, লকডাউন শুরুর আগে বই ও স্টল খুলে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দরকার ছিল। মেলা আগেভাগে শেষ করায় সেটা সহজে করা যাবে। তা না হলে, লকডাউন শুরুর পর মেলা শেষ হলে ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

এদিকে, গতকাল মেলার শেষ শনিবার ও ২৪তম দিনে বিগত কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় একটু বেশি ছিল। এদিনের মেলায় আগত প্রায় সবাই বই কিনেছেন। তবে, প্রকাশকরা জানিয়েছেন শেষবেলায় মেলার বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি। কিছু কিছু স্টলে পাঠকের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও পুরো বইমেলার সামগ্রিক বিক্রি বাড়েনি। ৫টার সময় যদি মেলা বন্ধ করে দেওয়া না হতো তাহলে বিক্রি আরো বাড়ত বলে মনে করেন প্রকাশকরা। তবে, এবারের মেলা প্রকাশকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে এমন মন্তব্য ছিল বেশির ভাগ প্রকাশকের।

এ প্রসঙ্গে সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, করোনার সময়ে গত বছরটা প্রকাশকদের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের বছর। কারোরই কোনো আয় ছিল না। সবার প্রত্যাশা ছিল বইমেলায় সে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু সেটাও হলো না। এর ফলে প্রকাশকরা শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়েনি, তারা অস্তিত্ব সংকটের মুখে। অনেক প্রকাশক তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

এদিকে, বইমেলা ও করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে পাবলিশার্স ফোরাম কাঁটাবন। ফোরামের ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের তালিকা আজ রবিবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন ফোরামের সম্পাদক দেলোয়ার হাসান। এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক গণমাধ্যমকে জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আমরা এ বছর বইমেলা করে সংক্রমণের ঝুঁকিকে বাড়াতে চাইনি। সেই বাস্তবতায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আমরা ভার্চুয়াল বইমেলা করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকাশকরা তাতে রাজি হননি। উলটো বইমেলা করার আয়োজনটিকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রকাশকদের চাপে পড়েই এ বছর বইমেলার আয়োজন করতে হয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় মেলার আয়োজন করেছি। এমনকি লকডাউনের মধ্যেও মেলা চালু রেখেছি।

বইমেলায় তসলিমা নাসরিনের বই ‘একলা চলো’: বইমেলায় সব্যসাচীর স্টলে এসেছে তসলিমা নাসরিনের প্রবন্ধের বই ‘একলা চলো’। একই স্টল থেকে প্রকাশিত হয়েছে সুপ্রীতি ধরের বই ‘সোভিয়েত নারীর দেশে’। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের দিকে ৬৪ নম্বর স্টলে বইগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন বই: বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ দিনে মোট বই প্রকাশ হয়েছে ২ হাজার ৫২৯টি। গতকাল মেলার ২৪তম দিনে নতুন বই এসেছে ১০৮টি। এদিনের বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে গল্পর বই রয়েছে ২০টি, উপন্যাস ৯টি, প্রবন্ধ ১টি, কবিতা ৩৫টি, গবেষণা ২টি, ছড়া ৬টি, শিশুসাহিত্য ৭টি, জীবনী ৪টি, রচনাবলি ১টি, বিজ্ঞান ১টি, ইতিহাসের ৩টি, ধর্মীয় ৭টি, অনুবাদ ৩টি, সায়েন্সফিকশন ১টি ও অন্যান্য ৮টি।

এদিনের উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো—মিজান পাবলিশার্স এনেছে লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদের ধর্মবিষয়ক বই ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম’ সেলিনা হোসেনের শিশুতোষ বই ‘আকাশপরী, আলী ইমামের ‘গল্পগুলো পশুপাখির, প্রিয় বাংলা এনেছে হানিফ সংকেতের ‘সংগত প্রসঙ্গত অসংগত, পাঞ্জেরী এনেছে কিশোর ক্লাসিক অনুবাদ ‘দি মিল অন দি ফ্লস জর্জ ইলিয়ট’ এবং সঙ্গীতা ইমামের শিশু-কিশোর সাহিত্য ‘অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ’ । রয়েল পাবলিশার্স এনেছে তাসমিম সুলতানার উপন্যাস ‘ঝরাপাতা’ ইত্যাদি।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x