আশা-নিরাশার বইমেলা

আশা-নিরাশার বইমেলা
[ছবি: ফোকাস বাংলা]

বাংলা একাডেমির নতুন নতুন নিয়মকানুনের ভারে ভারাক্রান্ত প্রকাশকেরা। অথচ প্রতি বছর বইমেলায় অংশগ্রহণ করছেন তারা। বইমেলা পরিচালনা কমিটিতে থাকেন দুই সমিতির নামমাত্র চার জন প্রকাশক। এর বাইরে বাংলা একাডেমির সদস্য ছাড়া অন্য যারা কমিটিতে থাকেন, তাদের মিটিংয়ের বাইরে বইমেলা চলাকালীন কাউকে মাঠে খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না।

এদিকে বাংলা একাডেমি ও বইমেলা কমিটি, প্রকাশক ও প্রকাশক সমিতিকে পাশ কাটিয়ে স্টল বিন্যাস থেকে শুরু করে সব কাজ তারা নিজেরাই করেন। প্রকাশকদের তোয়াক্কা করেন না। এবারের বইমেলায় শুধু স্টল বিন্যাসের কারণে এমন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আছে যে তারা দিনের পর দিন একটি টাকাও বিক্রি করতে পারেননি। বইমেলায় এখনো অনেক স্টল বন্ধ দেখতে পাওয়া যায় এবং কিছু কিছু স্টল শুরু থেকে তৈরিও করেনি। এ বছর মেলায় এই স্টল বিন্যাসের কারণে প্রকাশকেরা বই প্রকাশও করেছেন খুব কম। প্রকাশকদের স্টল ভাড়া, সাজসজ্জা, পরিবহন, বিক্রয় প্রতিনিধি ও তাদের প্রতিদিনের খরচ বহন করাটাও এখন কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত এক বছর ধরেই প্রকাশকেরা ঘরে বসে আছেন। বই বিক্রি নেই। প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য খাতের মানুষও কাজের অভাবে ঘরে বসে আছেন। তাই পুস্তক প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককেই জীবন নির্বাহ করতে হয়েছে খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে।

২০২১ সালের অমর একুশে বইমেলা প্রকাশক ও স্টল মালিকদের জন্য সুখের খবর ছিল, বইমেলায় অংশগ্রহণ করাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ—হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপন আমাদের প্রকাশকদের জীবনে এক পরম পাওয়া। কিন্তু বইমেলার শুরুতেই করোনার থাবা সবকিছুই এলোমেলো করে দিল। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকদের পাশে দাঁড়াবে—এটাই কামনা।

লেখক: যুগ্মনির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x