বিদেশে থেকেও আইনজীবীরা ভার্চুয়াল আদালতে অংশ নিচ্ছেন :সংসদে আইনমন্ত্রী

বিদেশে থেকেও আইনজীবীরা ভার্চুয়াল আদালতে অংশ নিচ্ছেন :সংসদে আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে দেশের বিচার বিভাগও নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ভার্চুয়ালি আদালতের যে কার্যক্রম চলছে, কোনো কোনো আইনজীবী বিদেশে থেকেও সেখান থেকে সাবমিশন করছেন। এটা সম্ভব হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণেই। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাশের আগে আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের বিষয়ে এমপিদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আগামী ৮ জুলাই ভার্চুয়াল আদালত সম্পর্কিত বিলটি সংসদে পাশের জন্য তোলা হবে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি মুজিবুল হক চুন্নু ছাঁটাই প্রস্তাবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর বিষয় রিভিউ পিটিশন হিসেবে আপিল বিভাগে আছে। যখনই করোনা ভাইরাস আমাদেরকে ছেড়ে যাবে তখনই শুনানি শুরু করব।

ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে, আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করব কি না। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনো নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায়, সঠিক বিচারের অন্তরায়। দেশের স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পার হয়েছে, কিন্তু এখনো আমাদের দেশে বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে পারিনি। আজ বলতে দ্বিধা নেই, সারা বাংলাদেশে চিহ্নিত মাদকসম্রাট, চিহ্নিত মাদকপাচারকারী, চিহ্নিত সরকারি সম্পদ আত্মসাত্কারীরা বিচারের আওতার বাইরে। আজ বিচারব্যবস্থার যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। পুলিশ বাদী ও সাক্ষী হয়ে যেসব মামলা দিচ্ছে, সেসব মামলায় বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় ঘুরছেন, আদালতে ঘুরছেন।

আরও পড়ুন: মাতাল পুলিশ সুপারের কাণ্ড!

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে হারুন বলেন, সরকারি দলের বিপক্ষে রায় দেওয়ায় অনেক অধঃস্তন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আমি মনে করি বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার আগে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করব। এসময় সরকারি দলের এমপিরা প্রতিবাদ করলে হারুন আরো জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ পাকিস্তান আমলের, স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি।’

এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আজ তার (হারুনর রশীদের) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সবকিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাব না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায়বিচার দিয়েছি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা কী দেখেছি সেটা তাকে জবাব দেওয়া দরকার। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজ উনি সংসদে বলছেন ন্যায়বিচারের কথা! শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা শেষ করেছে। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

এর আগে জাপার পীর ফজলুর রহমান ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে বিচার বিভাগের বিষয়ে স্বাধীনতার আগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপির এমপি হারুনের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ। যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক তাদের বিচারে পরিচালিত হতে চাই না। পাকিস্তানি বিচার আমরা চাই না।

জাপার কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সামান্য গরু চুরি করে বছরের পর বছর কোর্টের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। আর হাজার হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করছে, তারা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনে সমতা নেই। আমাদের টাকা দিতে অসুবিধা নেই। জাপার আরেক এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বর্তমানে দেশে যে সংখ্যক বিচারপতি রয়েছেন, তাদের নিয়ে বিদ্যমান মামলাগুলো ৩০ বছরেও শেষ হবে না। মনে হচ্ছে দেশের বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে।

জাপার পীর ফজলুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী ভদ্র মানুষ। এজন্য ভদ্রতার খাতিরে তিনি অল্প দাবি করেছেন। এই মন্ত্রণালয়ের অনেক অর্থের প্রয়োজন।

এমপিদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, আমি ভদ্রলোক। এটার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম। ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছি। উনারা বলেন, ১ হাজার দেন। আমি ২ হাজার কোটি টাকা চাইলে তো উনারা হার্টফেল করতেন। সেই জন্য আমি আস্তে আস্তে চাচ্ছি। আমি কাজ দেখিয়ে অর্থমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে চাই এবং সেটা নিয়ে যেতে চাই। আমাদের বেশকিছু পদক্ষেপ রয়েছে। তবে, করোনা ভাইরাসের কারণে কিছু কাজ শুরু করা যায়নি। আগামী বছর যখন দেখবেন আমি আরো বেশি টাকা চেয়েছি, তখন যেন আপনাদের হার্টফেল না করে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত