নিম্নস্ল্যাবের সিগারেটে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নিম্নস্ল্যাবের সিগারেটে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ফাইল ছবি।

নিম্নস্ল্যাবের সিগারেট বিক্রিতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ স্লাবের এক হাজার শলাকা সিগারেটের মূল্য ৩৯০০ টাকা। যাতে কোম্পানির উৎপাদনসহ যাবতীয় খরচ, লাভ ও রাজস্ব রয়েছে। কিন্তু এসব সিগারেট ৪০০ টাকা ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৩৫০০ টাকায়। বিভিন্ন বিদেশী সিগারেট বিক্রিতে এমন কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি একটি দেশীয় সিগারেট কোম্পানি এ নিয়ে কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগ করে। কমিশনারেট বাজার যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। পরে কমিশনারেট থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। এনবিআর বিষয়টির তদন্ত করছে বলে জানা যায়।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৬-৭ অর্থবছর পর্যন্ত দেশীয় সিগারেট কোম্পানি ছিল ১৫টি। মোট সিগারেট বাজারের ৭০ শতাংশই ছিল দেশীয় কোম্পানির। বর্তমানে দেশীয় ২৪টি ও বিদেশী দুইটি কোম্পানির নিম্নস্ল্যাবের সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে। দেশীয় কোম্পানির মধ্যে হাতেগোনা ৪-৫টি কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৪ বছরের ব্যবধানে নিম্নস্ল্যাবের সিগারেটের দেশীয় কোম্পানির বাজার হিস্যা মাত্র ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর দুইটি বহুজাতিক কোম্পানির বাজার হিস্যা ৯১ শতাংশ। তাদের নিম্নস্ল্যাবে সিগারেট বিক্রির পরিমাণ ৮৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

কমিশনারেটের চিঠিতে বলা হয়, বিদেশী কোম্পানিগুলো নিম্নস্তরের সিগারেট ৩৯০০ টাকার স্থলে ৩৫০০ টাকায় অর্থাৎ প্রতি হাজার শলাকায় ৪০০ টাকা কম দামে বিক্রয় করছে। এর ফলে এ খাতে রাজস্ব আদায় কমে যাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, শুধু একটি দেশীয় কোম্পানি থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় কমেছে ১৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উৎপাদন খরচ একই হওয়া সত্ত্বেও বিদেশী কোম্পানিগুলো উৎপাদিত নিম্নস্তরের সিগারেট দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রতি হাজার শলাকায় ৪০০ টাকা কমে বিক্রয় করে আসছে। অথচ প্রতি হাজার শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেট উৎপাদনে উৎপাদন ও বিক্রয় খরচ তিন হাজার ৮৬২ টাকা এক পয়সা। কিন্তু এক হাজার শলাকা সিগারেট দেশীয় কোম্পানি বিক্রয় করে তিন হাজার ৯০০ টাকা। কিন্তু উৎপাদন একই হওয়া সত্ত্বেও বিদেশী কোম্পানি একই সিগারেট ৪০০ টাকা কম দামে বিক্রি করছে তিন হাজার ৫০০ টাকা।

এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত বাজার বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। দেশীয় সিগারেট শিল্প বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও কমেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হাজার শলাকা তিন হাজার ৯০০ টাকা। বিদেশী কোম্পানিগুলো প্রতি হাজারে ৪০০ টাকা কমে তিন হাজার ৫০০ টাকায় নিম্নস্তরের সিগারেট বাজারজাত করছে। ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে টিকে থাকার লক্ষ্যে ৪০০ টাকা লোকসান দিয়ে একই দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতি হাজার শলাকা সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে নিট ৩৬২ টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি ব্যত্যয় হয় তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত