ঢাকা শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৯ °সে


নতুনভাবে ঋণের সাথে করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে : বিএনপি

নতুনভাবে ঋণের সাথে করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে : বিএনপি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই বাজেটে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির কথা চিন্তা করেই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নতুনভাবে ঋণের সাথে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, এ বাজেটেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

খসরু বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত দেশ বাংলাদেশ। এই অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়।এটি একটি ঋণনির্ভর বাজেট।

আরও পড়ুন : বৃষ্টিতে ভেসে গেল ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচও

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় এক ব্রিফিংএ তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের কারণে অর্থনীতি পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়বে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।

তিনি বলেন, যে বাজেট আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে, যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশে চলছে, এটা একটি শ্রেণির সুযোগ-সুবিধার জন্য মাত্র। জনগণকে বাইরে রেখে যেমন নির্বাচন করেছে, তেমনি অর্থনীতিতেও জনগণকে বাইরে রেখেই বাজেট দিয়েছে।

আমীর খসরু বলেন, সুশাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট। ঋণনির্ভর অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, সার্ভের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।যেভাবে জনগণ একাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি এই বাজেটও গ্রহণ করবে না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি এবার বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করেনি। এর কারণও পরিষ্কার। এ সরকার কারও যুক্তি-পরামর্শ গ্রহণ করে না। একেবারেই স্বৈরাচারী কায়দায় সব কিছু করে। সেখানে বিকল্প বাজেট ভাবনা দিয়ে কী হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের কোনো ভাবনা, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করে না। অযথা এ নিয়ে কথা বলে লাভ কী? সে কারণে আমরা বিকল্প বাজেট ভাবনা দেয়া থেকে বিরত আছি।

তবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রতিক্রিয়া দেয়া হবে বলে জানান এই বিএনপি নেতা। বিকাল ৪টায় দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরকে নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেটের বিষয়ে বিএনপি'র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিতক্রিয়া জানাবেন।

ইত্তেফাক/কেআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন