ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৬ °সে


এডিপির জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
এডিপির জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগসহ সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে পরিবহন খাতে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ অধিবেশন কক্ষে যান। পরে অনুমতি নিয়ে প্রথমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পেশ করেন। এরপর শুরু করেন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বেড়েছে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগসহ অন্যান্য প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

আগামী অর্থবছরে জন্য খাত ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিহন খাতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা,যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা,পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা,যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ। অন্যান্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে-শিক্ষার প্রসার ও গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২১ হাজার ৩ ৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা,যা এডিপির ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।ৎ

আরও পড়ুন: বেতন-ভাতা-ভর্তুকিতে সরকারের বরাদ্দ ৬০ শতাংশ, উন্নয়নে ৪০

স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য,পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা যা মোট এডিপির ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জনে কৃষিখাতে খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম দশ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা,রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

বাসস

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন