ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


ব্যবসায়ীদের আহাজারি পুড়ে গেছে ২১ দোকান

রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুন
ব্যবসায়ীদের আহাজারি পুড়ে গেছে ২১ দোকান
গত বুধবার রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুন লেগে পুড়ে যায় বেশ কয়েকটি দোকান। দোকান মালিকদের অনেকেই আগুন নেভার পর খুঁজে দেখেন কোনো কিছু অবশিষ্ট আছে কি না —আব্দুল গনি

রাজধানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে দোতলার ২১টি দোকান। এছাড়া আগুনের তাপে ও নেভানোর সময় পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো কিছু দোকান। ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে পুড়ে যাওয়া এই মার্কেটটির সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভিড়। তাদের অনেকেই আহাজারি করে বলছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে টিকাটুলীর রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

একপর্যায়ে রাত সোয়া ৮টায় আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। এতে এক জন সামান্য আহত হন। পুরো মার্কেটটি রাজধানী সুপার মার্কেট নামে পরিচিত হলেও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মূলত নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো বিভিন্ন মালিকের। সেগুলোয় নানারকম মালপত্র ছিল। আগুনে প্রায় সবই পুড়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে তদন্ত কমিটি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোতলার ২১টি দোকান পুড়লেও আগুন নেভানোর সময় ছিটানো পানিতে দোতলা ও নিচতলার অনেক দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়েছে।

মার্কেটটির দোতলায় উত্তর-পশ্চিম দিকে যে অংশে আগুনের সূত্রপাত, ঐ অংশের নিচতলায় অন্তত ৪০টি গয়নার দোকান রয়েছে। ‘আল মাহের জুয়েলার্স’ নামে একটি গয়নার দোকানের মালিক আবু তাহের জানান, আগুন লাগার পর তিনি ও তার কর্মচারীরা বের হওয়ার সময় দোকানের সাটার নামাতে পারলেও তালা দিতে পারেননি। অন্য দোকানগুলোর অবস্থাও ছিল তার মতো।

দোতলায় শান্তা গার্মেন্টস নামে একটি দোকানের মালিক আল আমিন জানান, দোকান ছাড়াও সেখানে তার দুটি গুদাম রয়েছে। গুদামে প্রায় ২৮ লাখ টাকার মালপত্র ছিল। সবই পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া ফোমের গুদামের কর্মী রাসেল জানান, গুদামের পাশে ঝালাইয়ের কাজ চলছিল। সেখানে থেকে স্ফুলিঙ্গ এসে ফোমের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তে আগুন ধরে যায় দোকানে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিমা করা আছে। এ কারণে তিনি জিডি করলেও ক্ষতিগ্রস্ত অন্য কেউ কোনো মামলা বা অভিযোগ করেননি। ঘটনাস্থলে এখনো পুলিশ মোতায়েন আছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, এ মার্কেটে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন স্থানীয় কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজু। তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দিতে পারেন। তাছাড়া মাত্র ৪০ দিন আগে মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়। তখন বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটিসহ যেসব দুর্বলতা ধরা পড়ে তা সংস্কার করেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মার্কেটে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না। কয়েকটি স্টিংগুইশার থাকলেও সেগুলো ছিল খালি। অবশ্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, নাশকতার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন