ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৭ °সে


মাকে বাঁচাতে মনিকার সাহায্যের আবেদন

মাকে বাঁচাতে মনিকার সাহায্যের আবেদন
মায়ের সঙ্গে মনিকা বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

গর্ভধারিণী মাকে বাঁচাতে আকুতি জানিয়েছেন মনিকা বিশ্বাস। মাকে বাঁচাতে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। ইতোমধ্যে মায়ের কিডনির জন্য খোঁজা হচ্ছে ডোনার। এদিকে মায়ের সঙ্গে ম্যাচ হয়েছে মনিকার কিডনির। তাই ডোনার না মিললে হয়তো মনিকাই কিডনি দিবেন তার মাকে। চাকরি করে যে বেতন পেতো সেটা দিয়েই এতদিন চিকিৎসা চালিয়ে এসেছেন তিনি। তবে এখন আর সম্ভব হচ্ছে না তার পক্ষে। মনিকা বিশ্বাস তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে জানিয়েছেন মাকে বাঁচানোর আবেদন।

তিনি ফেসবুকে লেখেন, মা এই অর্থটা প্রতিটি সন্তান কিছু দিয়েই বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখেন। আমিও পারবো না। পৃথিবীতে খারাপ সন্তান আছে কিন্তু খারাপ মা নেই। বা থাকলেও আমি বোধগম্য নই সে বিষয়ে।

আমার মাকে নিয়ে ছবি দিবো, আবেগ করে ভালবাসি বলবো আর সাধারণদের মতো করে এটাই স্বাভাবিক থাকার কথা ছিল। কিন্তু ওই যে সবার ভাগ্যে সব হয় না। আমার মাকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে অন্যভাবে। আমি ছোটকাল হতেই মাকে সংগ্রামী জীবন পার করতে দেখেছি। ছোটবেলায় বাবার জব চলে গেছিলো মা তখন টিউশন করে পরিবারের হাল ধরেছিলেন বাবা বলেছিলেন। নিজের ঘরে খাবার নাই তবু আত্মীয়স্বজনের জন্য করতে দেখেছি বাবা মাকে দুজনকেই। অনেক চড়াইউৎরাই পার করে সুখের মুখ যখনি দেখলেন আমরা দুই ভাইবোন বড় হলাম। তখনি নতুন ঝড় এলো মায়ের জীবনে। মায়ের কিডনি নষ্ট ধরা পড়লো ২০১৪ সালে। ডাক্তার বললেন মেডিসিন খান, এতে আর সমস্যা হবে না। মেডিসিন চলছিল সে অসুস্থ হয় আবার সুস্থ হয় এভাবেই চলছিল।

২০১৬ সালে আমার মাষ্টার্স শেষ হয়।চাকুরী খোঁজে ছুটলাম। পেলাম বেসরকারি চাকুরী। ২০১৮ সালের এপ্রিলে জয়েনিং করার পর পর বাবা অফিস হতে আসার পর মন খারাপ করে থাকতেন জিজ্ঞাস করলে বলতেন তার চাকুরী আর থাকবে না হয়তো। বয়স্ক লোকদের ছাটাই চলছে। মা তখন অসুস্থ সে বাবাকে সাহস দিতেন বলতেন গেলে যাবে চাকুরী... মেয়ে এখন চাকুরী করে আর ছেলেও কিছু করবে ঠিক চলে যাবে আমাদের। কিছুতেই মাকে সাহস হারাতে দেখিনি। যথারীতি বাবার চাকুরী গেলো। অবসরজনীত অসুস্থ হয়ে পড়ে মানসিক টেনশনে বাবার সেটাই হলো। যেখানে সেখানে মাথা ঘুড়িয়ে পড়ে যান। মা এতোদিন তাকে দেখভাল করে রাখতেন।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মা অনেক অসুস্থ হন, সারা শরীর কালচে আর হাতপায়ে জল এসে গেছে বুঝলাম, বাবা অসুস্থ তবু তাকে বললাম মাকে ডাক্তার চেকাপ করিয়ে আনতে। ডাক্তারের কাছে গেলে ভর্তি করায় আর ডায়ালাইসিস শুরুর কথা বলে তার মানে কিডনি আর কাজ করছে না। এর আগে ডাক্তার ডায়ালাইসিস দিতে হবে বা কোনো ধারনা বাবা বা আমাকে ডাক্তার বলেনি।

নানাদিক ছুটতে লাগলাম। যেখানেই যাই সব ডাক্তাররাই বলেন, ডায়ালাইসিস দিতে হবে রোগীকে বাঁচাতে। শুরু হলো যুদ্ধ পরিবারের সবার। একদিন পর পর ডায়ালাইসিস, হুম এতোদিন কষ্ট হলেও নিতে পেরেছিল ডায়ালাইসিস। এর মধ্য নানান দূর্ঘটনা ছিলোই। মাথায় আঘাত পাওয়া, পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলা। প্রতিমাসে দুব্যাগ রক্ত দেওয়ায় সি ভাইরাসে আক্রান্ত। কিছুদিন আগে হাতের ফিষ্টুলা নষ্ট হয়ে যাওয়া। এতো কিছু সামলে নেন শারীরিক-মানসিক শক্তিধর আমার মা।

সেদিন মা ডাক্তারের কাছে কান্না করে বলছিলেন আমি আমার সন্তানদের কাছে আর কিছুদিন বাচতে চাই। ডাক্তার ট্রান্সপারেন্ট ছাড়া আর কিছু বলছে না। ট্রান্সপারেন্ট করাতে দেশে ১০ লাখ লাগবে, যা আমার বা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

আমি সন্তান হয়ে মাকে বাঁচাতে পারবো না। একটা অসুখের কাছে হেরে যেতে হবে। এতো দিন কাছের কিছু মানুষ জানতেন যে একটা যুদ্ধ করে যাচ্ছি। নিজের পরিবার নিজের সব তাই কাউকে জানাতে চাইনি সত্যি অর্থে। এখন যখন লড়াইটা একা লড়লে আমি আর পারবো না। সামর্থ্য নেই আমার আর একার। যা ছিল একবছরে চিকিৎসা বাবদ শেষ। তাই আমি আমার সহযোদ্ধাদের জানিয়েছি তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন করবেন আশ্বস্ত করেছেন।

আর এছাড়া আমি আমার ফেসবুকের সকল বন্ধুদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি মাকে বাঁচাতে। আপনারা সবাই যার যার জায়গা হতে নিজেরা যাই পারেন সাহায্য করবেন এবং অন্যদের জানাবেন প্লিজ। সবাই এক সঙ্গে এই যুদ্ধে লড়ে গেলে আমি আমার মাকে বাঁচাতে পারবো এটা আমার বিশ্বাস।

আর্থিক সহযোগিতার জন্য বিকাশ এবং একাউন্ট নাম্বার দেয়া হলো,

বিকাশ: ০১৯১৮১৭৮৩৪০

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট :

Monika Rani Biswas

Acc No : ০১৭৩২০৯০০০০০৭১৪৮

UCBL, Elefhant Road Branch

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন