ঢাকা রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৭
১৭ °সে

রুম্পা-সৈকতের কথোপকথন হতো সামাজিক মাধ্যমে

রুম্পা-সৈকতের কথোপকথন হতো সামাজিক মাধ্যমে
রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা ও তার কথিত প্রেমিক সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে না তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সেই রহস্য ভেদে থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগ ও সিআইডি।

ইতিমধ্যে রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিক সৈকতকে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় আবারও নিজেকে জড়িত না থাকার কথা জানিয়েছেন আব্দুর রহমান সৈকত। এতে একই বিত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে মামলার তদন্ত। তার মৃত্যুর বিষয়ের নানা অংক মিলাতে পারছেন না মামলার তদন্তকারীরা। আবার সৈকতকে ঘিরে তাদের মধ্যে সন্দেহের ঘোর কাটছে না। সবকিছু রহস্য থেকে যাচ্ছে।

এদিকে রুম্পার মৃত্যুর বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে একত্রিত হয়ে কর্মসূচিটি পালন করেন। তাদের হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ‘রুম্পা হত্যার বিচার চাই, ‘বিচার হতেই হবে', ‘আর কত?’ ‘স্টপ, স্টপ, স্টপ’সহ নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। এরপর আবারো মূল গেটের সামনে তারা অবস্থান নেন।

আন্দোলনের মুখপাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জিসাদ মোহাম্মদ বলেন, রুম্পা হত্যার পাঁচদিন পার হলেও হত্যার কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। রুম্পা হত্যার রহস্য তার সহপাঠীরা জানতে চায়, তাই দ্রুত এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। গত চারদিন ধরে আমরা ক্যাম্পাসের মধ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসন এখনো ঘুমিয়ে আছে। তাই রবিবার আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে রুম্পার ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলে আগামী বুধবার থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ নাহিদ নিয়াজ বলেন, রুম্পার মতো একটি মেধাবী ছাত্রীকে আমরা অকালে হারিয়েছি। আর কোনো সন্তানকে আমরা অকালে হারাতে চাই না। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এ আন্দোলন শুধু আমাদের নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। রুম্পার অকাল মৃত্যুও বিষয়টি আমরা জানতে চাই। এ দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালবে বলে জানান তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈকতের সঙ্গে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে কথোপকথন হতো। মোবাইল ফোনে খুব কমই কথা হতো। কিন্তু একপর্যায়ে গত তিন চার মাস আগে সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয় বলে রুম্পাকে জানিয়ে দেন সৈকত। কিন্তু রুম্পা সৈকতের প্রতি খুবই দুর্বল ছিলেন। তার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে চাইতেন। সৈকতকে নিয়ে খুব স্বপ্ন দেখতেন। আবেগও ছিলো খুব বেশি। ঘটনার দিন সৈকতের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভালো জামাও পড়েন। ওই জামা পড়েই তিনি ক্যাম্পাসে যান। কিন্তু সৈকত রুম্পার যাওয়ার বিষয়টি জানতেন না। ক্যাম্পাসে রুম্পাকে দেখে সৈকতও অবাক হন। ওই সময় সৈকত সম্পর্ক না রাখার বিষয়টি আবারো রুম্পাকে জানান। এ নিয়ে রুম্পা বিমর্ষ ছিলেন।

ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়া পাওয়া যায়নি মারধরের জখমের চিহ্নও। তবে রুম্পার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তিনি উপর থেকে পড়েছেন। এর ফলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরো বলেন, মৃতদেহ থেকে হাই ভেজাইনাল সোয়াব, ভিসেরা, রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কেমিক্যাল এ্যানালাইসিস এবং মাইক্রোবায়োলজিক্যাল এ্যানালাইসিস রিপোর্ট আমাদের কাছে না আসবে এ ব্যাপারে আমরা চূড়ান্ত মতামত দিতে পারবো না। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেতে কিছু সময় লাগবে। তবে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরীক্ষাগার থেকে রুম্পার ডিএনএ নমুনা, ভিসেরা ও ব্লাড পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে। ফরেনসিক বিভাগে রিপোর্টটি পৌঁছানোর পর রুম্পাকে ধর্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন