ঢাকা বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
৩০ °সে

ঋণের দায়ে মেয়েকে ধর্ষণে বাবার সম্মতি, গ্রেফতার ২

ঋণের দায়ে মেয়েকে ধর্ষণে বাবার সম্মতি, গ্রেফতার ২
ছবি: প্রতীকী, সংগৃহীত

এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিল বাবা। তাগাদা দিলেও সেই টাকা শোধ করতে পারেনি সে। টাকা দিতে না পারায় মেয়েকে ধর্ষণের প্রস্তাব দেয় সেই ব্যবসায়ী। আর এতে রাজিও হয় শিশুটির বাবা। মেয়েকে তুলে দেয় ধর্ষকের হাতে।

এমন ভয়ানক ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রধান অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপর তাকে নিয়ে আসা হয় কামরাঙ্গীরচর থানায়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১৩ বছরের শিশুটিকে প্রায় এক বছর ধরে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।

কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই শেখ মোরশেদ আলী জানান, গ্রেফতারকৃত আবুল হোসেনকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হবে। এ মামলায় মঙ্গলবার গ্রেফতার শিশুটির বাবাকে বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মুরগি ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের অধীনে কাজ করতো শিশুটির বাবা। ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। টাকা শোধ করতে না পেরে আবুলের কুপ্রস্তাবে রাজি হয় বাবা। প্রতিবেশী এক নারী ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশের কাছে ফোন করে জানায় বিষয়টি। পরে এ ঘটনায় মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা হয়। মামলা দায়েরের পর রাতেই ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে শিশুটির বাবাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পালিয়ে যায় আবুল। ওই দিন রাতে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। এ খবর জানতে পেরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুপুরে তাকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, মেয়েটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছে। তার মা এখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকেন। মেয়েটি ও তার ভাই বাবার সঙ্গে থাকত। তাদের বাবা আবুলের অধীনে কাজ করার পাশাপাশি রিকশাভ্যান চালাতো।

আবুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, মেয়েটির বাবার সহায়তায় সে এক বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মেয়েটির বাসাতেই এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের কথা কাউকে না বলতে মেয়েটিকে হুমকি দেওয়া হয়। অনেক সময় তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়েও ধর্ষণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। সে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে আদালতে হাজির করে এ ঘটনার ব্যাপারে জবানবন্দি নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন