প্রচারণায় উত্তাপ শঙ্কায় ভোটার

মাঠে ইসির ভূমিকা দৃশ্যমান নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রচারণায় উত্তাপ শঙ্কায় ভোটার
ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ১ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণাযুদ্ধে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও ভোটাররা অনেকটা নীরব রয়েছেন। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দলনিরপেক্ষ ভোটাররা ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কিত রয়েছেন। যদিও দুটি নির্বাচনি সংঘর্ষ ছাড়া এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। সমানতালে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবুও ভোট নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে নানামুখী উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। প্রার্থীরা ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মুখ খুলছেন না কেউই।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনি মাঠে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি এখনো। মাঠ প্রশাসনের ওপর নির্বাচনের ভার ছেড়ে দিয়েছে কমিশন। বিগত সময়ে মাঠ প্রশাসনের বেশিরভাগ নির্বাচনি কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিল। যে কারণে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার প্রতি ভোটারদের অনাস্থা রয়েছে। তবে ইভিএমে ভোট হওয়ায় কারণে ভোটার উপস্থিত আরো কমতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু ঢাকার ভোট ইভিএমে হবে, সেহেতু ভোটারদের আগে আস্থায় আনতে হবে। ভোটাররা অনেকটা নীরব। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে ইভিএমে আস্থা আনতে কমিশন তিনটা কাজ করতে পারে। প্রথমত, ইভিএমটি গ্রহণযোগ্য তৃতীয়পক্ষকে নিয়ে পর্যালোচনা, দ্বিতীয়ত, পেপার ট্রেইল চালু করা এবং তৃতীয়ত, প্রিজাইডিং বা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের হাতে প্রদত্ত ফিঙ্গার ম্যাচিং ক্ষমতা বন্ধ করা। কোনো ভোটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললে ব্যালট পেপারের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। নতুবা নির্বাচনি কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনায় ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। দুই সিটির ১৩ জন মেয়রপ্রার্থীসহ সাড়ে ৭০০ প্রার্থী নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজধানীর অলি-গলি-রাজপথ ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছেন। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং, দিনভর মিছিল, শোভাযাত্রা, উঠান বৈঠকে পার করছেন প্রার্থীরা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গণপরিবহন, রাস্তঘাটে-টিভি টকশোতে নির্বাচনি উত্তাপ সমান্তরালে চলছে। নির্বাচনি পরিবেশ উত্সবে রূপ নিলেও ভোটাররা মুখ খুলছেন না। ভোটের মাঠে সাধারণ ভোটারের আগ্রহের কোনো প্রতিফলন নেই। লোক সমাগমের স্থানগুলোতে দৃশ্যমান হচ্ছে না ভোটের সরব আলোচনা।

নীরব থাকা ভোটারদের বড়ো একটি অংশের মতে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন, চট্টগ্রামের উপনির্বাচন, কয়েকটি সিটি নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে, ভোট দিতে না পারার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া-না যাওয়া সমান মনে করছেন অনেকেই। ভোটের প্রচারণায় বাধা-বিপত্তি নিয়ে দুই রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনে দেড় শতাধিক অভিযোগ আমলে না নেওয়া, প্রার্থীর ওপর হামলায় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়া, ইভিএম নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতায় গোপনকক্ষে প্রকাশ্য ভোট দেওয়ার আশঙ্কায় হতাশ ভোটাররা।

একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী বলেছেন, ভোটের মাঠে ভোটাররা সাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রে যাবেন কি না, তা স্পষ্ট করছেন না। ঢাকার ভোটারদের বড়ো একটি অংশ বাইরের। ভোটের দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই ভোটদানে অনাগ্রহ দেখা গেছে।

আগারগাঁও এলাকার মাসুদ, তছলিম ও লিটন নামের তিন ভোটার জানান, এখন ভোট মানেই ভয়। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলে হয়রানি-হামলার শঙ্কা। ঝক্কি ঝামেলাতে জড়াতে চায় না কেউ। বরং ভোট না দিয়ে বাসায় বসে থাকা নিরাপদ বলে মনে করেন তারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোটেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। ব্যালটে অনুষ্ঠিত ঐ নির্বাচনে উত্তরে ভোট পড়েছিল ৩৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, দক্ষিণে ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উত্তরের উপনির্বাচনে ভোট পড়ে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার ইভিএমে ভোট হওয়ার কারণে ভোটারের উপস্থিতি আরো কমতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকেরই।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত