ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৬ °সে

বাড়ছে শিশু নির্যাতনের ঘটনা

বাড়ছে শিশু নির্যাতনের ঘটনা
প্রতীকি ছবি

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিবেদন মতে—২০১৯ এ শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ। শিশুহত্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। বেশ কয়েক বছর যাবত্ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা। বিজ্ঞজন বিচারহীনতাকে দায়ী করলেও, দেখা দেয় না শিশুর পক্ষে সুবিচারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা। অথচ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দৃষ্টান্ত স্থাপন জরুরি বলেও মত দেন তারা।

শিশু অধিকার ফোরাম বলছে, ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৩৮১ শিশু বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হয়। যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ১ হাজার ৩৮৩ শিশু। ফলে প্রতি মাসে ৩৬৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। আর প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮৪ শিশু। অপমৃত্যু হয় ২ হাজার ৮৮ শিশুর। এর মধ্যে ৪৪৮ জন শিশু খুন হয়। প্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায় ৫৭১ জন ধর্ষণ, ৯৪ জন গণর্ধষণ, ২৪ প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ১৮৩ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ২০১৭ সালে মোট যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুর সংখ্যা ৯০২ জন। ২০১৬ সালের প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা ৭১৫ জন।

২০১১ সাল থেকে শিশু অধিকার পরিস্থিতি প্রকাশ করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমএফজে)। তাদের গত বছরের শিশু অধিকার পরিস্থিতিতে ৯০২ জন শিশুকে ধর্ষণ, ২৫২ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা ও ৮৮ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয় । হত্যা করা হয় ৩২৯ জন শিশুকে। এমএফজের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে ৩৫৬ জন শিশুকে ধর্ষণ, ৮৬ জনকে যৌন নির্যাতন, গণধর্ষণের শিকার ৫৬ শিশু, ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ১১৫ জন শিশুকে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাত্ ঐ বছর মোট যৌন নির্যাতনের ঘটনা ৬১৩।

আরো পড়ুন : করোনা ভীতি পালটে দিল মানুষের মনোজগৎ

এই অবস্থা চলতে থাকলে এ বছর শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন আরো বাড়বে বলে জানান শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ। তিনি শিশু নির্যাতন বন্ধে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি শিশু খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের ক্ষেত্রে অপরাধগুলোকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করার সুপারিশ করেন। আর শাস্তি কার্যকর করার ওপর জোর দেন এই শিশু অধিকার কর্মী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে বেশি প্রকাশিত হচ্ছে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা এমন কথার প্রতিবাদ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নিবার্হী শাহিন আনাম বলেন, শিশু নির্যাতন ঘটছে এটাই বড়ো কথা। কতটা নিষ্ঠুর হলে প্রতিবন্ধী শিশু ও বাদ পড়ে না এই পাশবিকতা থেকে। আমরা শিশু নির্যাতন বন্ধ দেখতে চাই । অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—তা যেভাবেই হোক।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্ট্ররাল প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন বলেন, বিচার দেরিতে হয় এটা বিচার প্রক্রিয়ারই একটি দিক, আবার সংবাদগুলো বেশি প্রকাশিত হয় এটাও ঠিক। তবে সরকার শিশু নির্যাতন বন্ধে আন্তরিক। বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকর দিয়েও অপরাধী পার পায়। তারপরও কিছু কিছু ঘটনার বিচার করা হয়েছে। আবার শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধে কাজ চলছে, নতুন আইনের বিষয়টিও ভাবছে সরকার।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন