বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

করোনায় কাওরান বাজারে শ্রমিকদের নিঃসঙ্গ ইফতারী

করোনায় কাওরান বাজারে শ্রমিকদের নিঃসঙ্গ ইফতারী
কাওরান বাজারে একাকি ইফতার করছেন একজন শ্রমিক। ছবি: ইত্তেফাক

কাওরান বাজারের ভ্যানচালক আমিন উদ্দিন। সারাদিন খাটাখাটুনির পর একা একা নিজের ভ্যানের ওপরেই ইফতার নিয়ে বসেছেন। যত্সামান্য আয়োজন; ছোলা, চপ আর একটু মুড়ি। কাছে গিয়ে আলাপ শুরু করতেই তিনি বলেন, আগের মতো কি আর অবস্থা আছে ? একাই কোনো রকম বসে ইফতারি সারছি। এক সময় সবাই মিলে বসে ইফতারি করতাম, কত আয়োজন ছিল। এখন কেউ কাউকে ডাকে না ইফতার করার সময়। যে যার মতো ছোটো পরিসরে ইফতার করছে।

গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে ইফতারির আগ মুহূর্তে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। যে কাওরান বাজারে সন্ধ্যা হলেই লোকে লোকারণ্য থাকত, কাঁচা বাজারের আড়তগুলোতে খুচরা ও পাইকারি ক্রেতা ও বিক্রেতা ও শ্রমিকের সমাগম বসত, সেখানে এখন হাতেগোনা কিছু মানুষ। নেই তেমন ভিড়। প্রতিবছর রমজানের সময় গোল হয়ে বসে দলবদ্ধভাবে ইফতারি করা ছিল এখানকার দিনমজুর ও দোকানিদের চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ ও ইফতারসামগ্রীর দোকানও সেভাবে না বসায় এবার তেমন কোনো আয়োজন ছাড়াই চলছে ইফতারি। দুই জনে মিলে আড়তে বসে ইফতারি করা ষাটোর্ধ্ব এক জন বলেন, ইফতারসামগ্রী নিয়ে কি ইফতার করব? একসঙ্গে তো চার জন বসে ইফতারিই করা যাচ্ছে না।

দিনমজুর-শ্রমিকদের সারাদিন যে রোজগার তা দিয়ে ইফতারি কিনে খাওয়া একরকম বিলাসিতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনি এক জন হামিদ আলী। বাড়ি থেকে একটু চিড়া আর গুড় নিয়ে এসেছেন ইফতারির জন্য। কেমন কাটছে পবিত্র রমজানের দিনগুলো? কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেটের দায়ে বের হয়েছি এই করোনার সময়েও। কোনো রকম বেঁচে আছি। আমাদের খোঁজ কে নেয়? কিনে ইফতারি খাওয়ার মতো টাকাও তো নেই পকেটে। তাই এসব দিয়েই ইফতার করছি।

এদিকে এ বছর হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ছাড়া ফুটপাতে ইফতারির বাজার বসতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ফুটপাতগুলো ফাঁকা। তবে কাওরান বাজারে ফুটপাতে ভ্যানের ওপর ইফতারসামগ্রী বিক্রির দোকান দেখা গেছে। আব্দুল আলীম নামে ফুটপাতের সেই দোকানদার জানান, একদম বিক্রি নেই। আগের বছরও যেখানে এমন দোকান দিয়ে বিক্রি করে দিশাহারা হয়ে যেতাম সেখানে এ বছর তেমন ক্রেতাই নেই। মানুষই তো বাইরে নেই, কারা কিনবে? বড়ো বিপদে আছি। একদিকে পুলিশ বসতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে ক্রেতা নেই। আমরা কী করে খাব? কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। কাওরান বাজারের মতো অন্যান্য এলাকাতেও আগের মতো ইফতারির সময় যে উত্সবের আমেজ ছিল সেটি এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত