বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

সেবাই ব্রত ডাক্তার দম্পতি তুষার-তাজরিনার

সেবাই ব্রত ডাক্তার দম্পতি তুষার-তাজরিনার
তুষার ও তাজরিনা।ছবি: ইত্তেফাক

করোনায় আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। বৈশ্বিক এ মহামারিতে পর্যদুস্ত বাংলাদেশও। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন ডাক্তাররাও। অনেক এলাকাতেই ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না চিকিৎসাসেবা। অনেক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন। ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের বাইরেই অনেক রোগী মারা যাওয়ার খবরও আসছে পত্রিকার পাতায়।

তবে করোনার এ দুঃসময়ে ব্যতিক্রম ডাক্তার দম্পতি ডা. রেজাউল করিম তুষার ও তার স্ত্রী ডা. তাহরিমা তাজ রিনা। ঢাকা শহরের মধ্যে রেডজোনে থাকা পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা এই দম্পতি। এই এলাকার মানুষদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তারা দু’জন। কারণ স্থানীয়রা লক ডাউনের কারণে বন্দি থাকা মানুষদের চিকিৎসাসেবা নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছেন তুষার ও তাজ রিনা। টেলিসেবার মাধ্যমে সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন এ দম্পতি। শুধু টেলিসেবাই নয়, প্রয়োজনে বাসায় গিয়েও রোগী দেখছেন।

ডা. রেজাউল করিম তুষার মেডিকেল অফিসার হিসেবে ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু এনেস্থিসিয়া বিভাগে কর্মরত। আর তার স্ত্রী ডা. তাহরিমা তাজ রিনা নবজাতক মা ও শিশু হাসপাতালের ব্রেস্ট কেয়ার সেন্টারের সনোলোজিস্ট। করোনার এই মহামারিতে নিজেদের দায়িত্বের কথা ভেবেই হাসপাতালের ডিউটি শেষে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এলাকার মানুষদের। এছাড়াও নিজ ব্যাচের বন্ধু ও তাদের পরিবারের যেকোন সমস্যায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তারা।

আরো পড়ুন: জামালপুরে যমুনার পানি বিপদসীমার ২৫ সেমি ওপরে প্রবাহিত

ডা. রেজাউল করিম তুষার বলেন, ‘করোনার এ মহামারিতে রেড জোনের আওতায় লকডাউন এ রাজাবাজার বাসিদের জরুরি টেলিসেবা দিচ্ছি। কোভিড সাসপেক্টেড, কোভিড পজিটিভ, কোভিড নেগেটিভ, সব রুগীর অপারেশন এর জরুরি এনেস্থিসিয়া নিশ্চিত করছি। নিজ ব্যাচের বন্ধুদেরও টেলিসেবা দিচ্ছি নিরলসভাবে। এটা আমার দায়িত্ব ভেবে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। দেশের জনসংখ্যা অনুয়ায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। এই মহামারিতে যদি আমরা সেবা না দেই তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? আমি ও আমার স্ত্রী নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। এরপরেও যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাই, তার জন্য আমরা ভীত নই। করোনায় ভীত হয়ে আমরাই যদি পিছ পা হয়ে যাই, তাহলে সাধারণের অবস্থা আরো জটিল হবে। বৈশ্বিক এ মহামারিতে এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশে অনেক ডাক্তারই শহীদ হয়েছেন। তাই বলে কিন্তু আমরা থেমে নেই। চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করে যাচ্ছেন। সরকারও আমাদের পর্যাপ্ত সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সবার উচিৎ নিজ নিজ অবস্থান থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা। আজ আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি বলে আপনি/আপনারা ইচ্ছেমতো বাইরে ঘোরাফেরা করবেন, তা কিন্তু না। জনগণ একটু সাবধান হলেই আমাদের দেশে করোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাক্তাররাই ফ্রন্ট লাইন ফাইটার। তারাই এখন আশার আলো দেখাচ্ছেন সবাইকে। নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তাররা।

মানুষের সেবার কথা চিন্তা করে নিজের ও নিজের পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে রেখেই সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে যাওয়া প্রসঙ্গে তুষার বলেন, ‘আমাদের কাছে মানুষকে সেবা দেওয়াটাই প্রধান কাজ। আর এভাবে সেবা দিতে পেরে আমি ও আমার স্ত্রী গর্বিত। যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে আমি ও আমার স্ত্রী মানুষের সেবা করে যাবো।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত