বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি

ময়ূরের ধাক্কায় নিমেষেই তলিয়ে গেল মর্নিং বার্ড

৩২ জনের লাশ উদ্ধার, অনেকে নিখোঁজ, স্বজনের খোঁজে নদীতীরে ও মর্গে ভিড়, সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি ৫০ ফুট পানির নিচে লঞ্চের অবস্থান শনাক্ত  ফুটেজ দেখে মনে হয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড :খালিদ মাহমুদ
ময়ূরের ধাক্কায় নিমেষেই তলিয়ে গেল মর্নিং বার্ড
স্বজনের লাশের পাশে বসে আহাজারি করছেন এক নারী । ছবি—আব্দুল গনি

বিশাল আকৃতির ময়ূর-২ লঞ্চটি সজোরে আঘাত করে অপেক্ষাকৃত ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে যায় প্রায় ১০০ যাত্রী বহন করা মর্নিং বার্ড। এত দ্রুত ঘটনা ঘটে যায় যে, যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগই পায়নি। করোনার কারণে অধিকাংশ যাত্রীর মুখে ছিল মাস্ক। ফলে মুহূর্তেই পানির মধ্যে নিঃশ্বাস আটকে যায় যাত্রীদের। গতকাল সকাল সোয়া ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত লঞ্চটি উদ্ধার করা যায়নি।

তবে ৫০ ফুট পানির নিচে অবস্থান নিশ্চিত করা গেলেও ভেতরে কত জনের লাশ আটকে আছে, সেটাও নিশ্চিত করতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছে। তবে সংখ্যাটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক আবহাওয়ায় শান্ত নদীতে ঘটে গেছে এই দুর্ঘটনা। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচল করে বড় লঞ্চ আকৃতির এমভি ময়ূর-২। আর মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম (কাঠপট্টি) থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড।

ময়ূর-২ লঞ্চটি কেরানীগঞ্জে অলস বসে থাকাবস্থায় পেছনে চালিয়ে এসে লালকুঠি ঘাটের দিকে আসার সময়ে মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। তবে একটি ডকইয়ার্ডের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মর্নিং বার্ড লঞ্চটির বাম পাশ দিয়ে ময়ূর-২ লঞ্চটি যাওয়ার সময়ে আঘাত হানে। একপর্যায়ে ময়ূর-২ লঞ্চের সামনে চলে আসলে ধাক্কায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড। সবমিলিয়ে ১৫ সেকেন্ডে ঘটে এ দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদশীদের মতে, লঞ্চটির যাত্রী সংখ্যা ৭০-৮০ জন। আবার কারো মতে ১০০-র বেশি ছিল যাত্রী। হঠাত্ ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা বুঝে ওঠার আগেই লঞ্চ ডুবে যাওয়ায় প্রাণহানি বেশি হয়েছে। বেশ কিছু যাত্রী সাঁতরে কিনারে আসতে পেরেছে। এ লঞ্চটিতে মুুন্সীগঞ্জের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা বেশি যাতায়াত করতেন। ময়ূর-২ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে র্যাব হেলিকপ্টার দিয়ে টহল দিয়েছে।

লঞ্চডুবির পরপরই আশপাশে থাকা নৌকা ও ট্রলার মাঝি ও যাত্রীরা উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে বিভিন্ন সংস্থার ডুবুরিরা এতে অংশ নেন। যে স্থানে লঞ্চটি ডুবেছে, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ ফুট পানির গভীরতা রয়েছে। লঞ্চটি উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জে থাকা বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় রওনা হয়ে দুপুরে শ্যামপুর পর্যন্ত আসলেও পোস্তগোলা ব্রিজের উচ্চতা কম থাকায় সেখানে আটকে যায়। পরে স্থানীয় পদ্ধতিতে লঞ্চটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌসচিব সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বর্ণনা :ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী মুন্সীগঞ্জের মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি ঘাট থেকে প্রায় ১০০ জন যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার জন্য সোজা চলছিল। তখন ময়ূর-২ নামের অন্য একটা লঞ্চ আড়াআড়িভাবে ঘোরানো হচ্ছিল। ওই সময় ময়ূর লঞ্চের পেছনের অংশ ধাক্কা দেয় আমাদের লঞ্চটিকে। ধাক্কা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটা কাত হয়ে ডুবে যায়। লঞ্চটি তলিয়ে যেতে ৩০ সেকেন্ড সময় নেয়নি।’ মাসুদ আরো বলেন, আমি কেবিনে ছিলাম। জানালার গ্লাস খুলে আমি বের হয়ে আসি। ভেতরে আমার আপন দুই মামা আফজাল শেখ ও বাচ্চু শেখ ছিলেন। তারা তো বের হতে পারেননি।’ মাসুদ আরো জানান, নিহতদের অধিকাংশেরই বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তারা পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করতেন। অধিকাংশ যাত্রীই সকালে ঢাকায় আসতেন বিকালে চলে যেতেন।

স্বজনদের আহাজারি :মৃত সত্য রঞ্জনের বড় মেয়ে দোলা বণিক বলেন, ‘আমার বাবার মিটফোর্ডে ওষুধের দোকান আছে। আমি থাকি ঢাকায়। আমার বাবা প্রতিদিন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন। আবার কাজ শেষে চলে যান। গত পরশু দিন (শনিবার) আমার বাবা আমার বাসায় আসেন। আমি বাবাকে বলি, বাবা, এখন করোনা ভাইরাস। তুমি লঞ্চে করে যাতায়াত না করে আমার বাসায় থেকে ব্যবসা করো। কিন্তু আমার বাবা কথা শুনল না। চলে গেল। সেটাই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ দেখা।

ফল ব্যবসায়ী আবু সাঈদ মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার সদরঘাটের বাদামতলীতে যাচ্ছিলেন ফল কিনতে। মুন্সীগঞ্জের বাসা থেকে সকাল ৭টায় রওনা হন। কাঠপট্টি ঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন। আবু সাঈদের কোনো খবর পাচ্ছেন না তার স্বজনেরা। আবু সাঈদের স্ত্রী নূর জাহান বেগম জানান, ‘অভাবের সংসার। করোনায় অনেক দিন ফলের দোকান বন্ধ। আয় নেই। এখন আবার ব্যবসা শুরু হয়েছে। আমার স্বামী ফল কেনার জন্য ঢাকায় আসেন। সকাল সকাল লঞ্চ ধরতে হবে বলে খেয়েও আসেননি।’

প্রিয়জনের খোঁজে নদী তীরে-মর্গে ভিড় :কেউ লাশ পেয়েছেন, কেউ লাশের সন্ধানে বসে আছেন। সবাই অঝোরে কাঁদছেন। তবে বেশির ভাগই সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বজনদের লাশ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর। দুর্ঘটনার পর থেকে স্বজনেরা ছুটে আসতে থাকে নদীর পাড়ে। অনেকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তাদের জন্য ছুটে আসা প্রিয়জনেরা হাসিমুখে ফিরছে। তবে লঞ্চের যাত্রীদের বড় অংশই তীরে উঠতে পারেনি। ভাগিনার লাশ শনাক্ত করে মুন্সীগঞ্জের শাকিল মিটফোর্ড মর্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগিনা নিয়মিত মুন্সীগঞ্জ থেকে ইসলামপুরে আসত। আজকের লঞ্চ দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে। আমরা তার লাশ শনাক্ত করেছি।’

ভগ্নিপতির লাশের জন্য পাগলপ্রায় ষাটোর্ধ্ব নারায়ণগঞ্জের মো. সেলিম। তিনি বলেন, ‘তার ভগ্নিপতির নাম মনির হোসেন। বয়স ৫০ বছরের মতো হবে। লঞ্চে করে তিনি ঢাকায় আসছিলেন। লঞ্চডুবির পর থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। সকাল থেকে তার ফোন বন্ধ।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে :বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, ‘ময়ূর-২ নামের লঞ্চ সদরঘাটের লালকুঠি ঘাট থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। দুই লঞ্চের চালকদের অসতর্কতায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন জানান, ধাক্কা দেওয়া লঞ্চ ময়ূর-২ জব্দ করা হয়েছে। তবে লঞ্চের চালক লঞ্চ ফেলে পালিয়ে গেছেন। দুটি লঞ্চের ফিটনেসসহ যাবতীয় নথিপত্র যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

নৌপুলিশের সদরঘাট থানার ওসি রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ময়ূর-২ লঞ্চটি তার চালক বা তার সহকারী চালাচ্ছিলেন। ঘটনার পর ঐ লঞ্চের স্টাফরা সবাই পালিয়ে গেছেন।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পরপরই আমাদের উদ্ধাকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। আমরা সেখানে ৫০ ফুট পানির নিচে ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছি। উদ্ধার তত্পরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসলে কত প্রাণহানি হয়েছে সেটা নিশ্চিত বলা যাবে না। রাতেও উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে।’

নিহতদের পরিচয় ও লাশ হস্তান্তর :দুর্ঘটনার পর ডুবুরি দল একের পর এক লাশ উদ্ধার করে সাদা ব্যাগে ভরে নৌকার ওপর রাখে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নৌকায় শুধু সারি সারি লাশ দেখা যায়। পরে লাশগুলো নেওয়া হয় পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিডফোর্ড হাসপাতাল মর্গে। স্বজন হারানোর বেদনায় মিটফোর্ডের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

লাশ উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের মধ্যে আট নারী, তিন শিশু ও ২১ জন পুরুষ রয়েছেন। নিহত ৩১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—সত্যরঞ্জন (৬৫), মিজানুর (৩২), সাইদুল (৬২), সুফিয়া বেগম (৫০), মনিরুজ্জামান (৪২), সূবর্ণা আক্তার (২৮), মুক্তা (১২), গোলাম হোসেন ভূঁইয়া (৫০), আবজাল শেখ (৪৮), বিউটি (৩৮), ময়না (৩৫), আমির হোসেন (৫৫), মো. নাইম (১৭), শাহাদাত (৪৪), শামীম ব্যাপারী (৪৭), মিল্লাত (৩৫), আবু তাহের (৫৮), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজা খাতুন (৩৮), সুমন তালুকদার (৩৫), আয়শা বেগম (৩৫), হাসিনা রহমান (৪০), আলম ব্যাপারী (৩৮), মোসা. মারুফা (২৮), শহিদুল হোসেন (৪১), তালহা (২), ইসমাইল শরীফ (৩৫), তামিম (২৮) ও সাইদুল ইসলাম (৪২)।

সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি :লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা) রফিকুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন জসিম উদ্দিন সরকার, বিআইডব্লিউটিসির প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের এক জন প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের এক জন উপযুক্ত প্রতিনিধি, নৌ পুলিশের এক জন উপযুক্ত প্রতিনিধি। কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে মৃতদের পরিবার :লঞ্চডুবির ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘোষণা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া লাশ দাফনের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ঘটনা পরিকল্পিত হতে পারে। তবে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি লঞ্চের মালিক দোষী হন, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

উদ্ধারকাজের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সার্বক্ষণিক উদ্ধারকাজের খোঁজ-খবর রাখছেন বলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, সরকারপ্রধান লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীর প্রতি ওবায়দুল কাদেরের আহ্বান :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি যাত্রীবাহী লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত সবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজনসহ শোকসন্তপ্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি তিনি উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জেপির শোক প্রকাশ :জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখ ও শোকাবহ ঘটনা। নেতৃবৃন্দ লঞ্চডুবির এই দুর্ঘটনার দ্রুত তদন্ত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত