বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

তদন্ত হলেও বাস্তবায়ন হয় না সুপারিশ

কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে মেরিন আদালতে
তদন্ত হলেও বাস্তবায়ন হয় না সুপারিশ
ছবি: ইত্তেফাক

প্রতিবছরই লঞ্চ দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়। বেশির ভাগ রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে না। কিছু কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না। দেখা গেছে নৌদুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, তদন্ত করছে। কিন্তু ফল শূন্য। নৌদুর্ঘটনা থামছে না। আবার ছোট ছোট দুর্ঘটনাগুলো কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি বলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নৌপথ বিশেষজ্ঞ বলছেন, ছোট লঞ্চকে বড় লঞ্চ ধাক্কা মেরে ডুবিয়ে দিল, এটা স্বেচ্ছাচারিতা। তার মানে যারা লঞ্চ চালাচ্ছেন তারা দায়িত্বশীল ও যোগ্য নন। তবে কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়ন হয় না বলে দুর্ঘটনাও বন্ধ হচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটার পর ড্রাইভারকে শাস্তি দিলেই শেষ হয়ে যায় না। এটাকে ফলোআপ করার জন্য মনিটরিং গ্রুপ গঠন করলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, সি সি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের গাফিলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়। সোমবার বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

আরও পড়ুন: মাতাল পুলিশ সুপারেরকাণ্ড!

পরবর্তীতে এ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় একজন যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বাধীন মেরিন আদালতে। আদালতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পর্যায়ের এক জন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, গত দুই বছর নৌদুর্ঘটনা তুলনামূলক আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

সরকারি হিসাবেই বাংলাদেশের মানুষের ৩৫ ভাগ যাতায়াতই সম্পন্ন হয় নৌপথে। আর এ নৌপথেই লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রতিবছর মারা যায় শত শত মানুষ। এ ধরনের দুর্ঘটনা খুব নিয়মিতভাবে হলেও, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে খুব সামান্যই। এখনো প্রচুর লঞ্চ রয়েছে ফিটনেসবিহীন, জীবন রক্ষাকারী যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই অধিকাংশ লঞ্চে। এছাড়াও দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও এসব লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করার অভিযোগ তো আছেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গতকালের ঘটনার আগে সদরঘাটে চলতি বছরেই ১২টি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে লঞ্চে-লঞ্চে সংঘর্ষ ছয়টি এবং লঞ্চের সঙ্গে ছোট নৌকার সংঘর্ষ ছয়টি। এই ছোট ছোট দুর্ঘটনাগুলো কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। ৫০০টির বেশি তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং তিনটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাকিগুলো কী হয়েছে তার সঠিক তথ্য নেই মন্ত্রণালয়ের কারোর কাছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে, ২০১৯ সালে সারাদেশে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে ১১৬টি। এর মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাক্কার কারণে ডুবেছে ৪৪টি জলযান। ‘জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষ্যে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি ৫০ বছরে নৌদুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশের আয়োজন করে। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ বছরে দেশে নৌদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ হাজার ৫০৮ জন। এর মধ্যে গত ১২ বছরের মধ্যে ২০০৭ সালে নৌদুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার সংখ্যা ২ হাজার ১৭৭ জন।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দুর্ঘটনাকে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে। এখন কেউ যদি আইন না মানেন, তাদের বিরুদ্ধ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতনও হতে হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত