বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

ফেসবুকে নারী সেজে বন্ধুত্ব, পরে উপহারের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় ২২ লাখ টাকা

প্রতারক চক্রের সদস্য ৩ বিদেশি গ্রেফতার
ফেসবুকে নারী সেজে বন্ধুত্ব, পরে উপহারের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় ২২ লাখ টাকা
ফেসবুকে নারী সেজে বন্ধুত্ব, পরে উপহারের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় ২২ লাখ টাকা। ছবি: প্রতীকী

ফেসবুকে নারী সেজে বন্ধুত্ব, তারপর উপহারের লোভ দেখিয়ে ফয়সাল নামে ঢাকার এক যুবকের কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- সোলেমান নিউগেন টেগমো বার্টিন (৪৭), নিউগেন টাওজার্জ ক্রিস্টিয়ান (৩৮) ও একোনগো আরনাস্ট ইব্রাহিম (৪২)।

সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ মো. রেজাউল হায়দার জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা কোন দেশের নাগরিক তা এখনো স্বীকার করেনি।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, প্রতারক চক্রের গ্রেফতারকৃত সদস্যরা নারী সেজে ফেক আইডি ব্যবহার করে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ওরফে ফয়সালের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

চক্রের এক সদস্য নিজেকে আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফয়সালকে কুরিয়ার এজেন্টের মাধ্যমে উপহার পাঠাবে বলে জানায়। এরপর উপহার পাঠানোর কথা বলে এ চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ফয়সালের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ব্যাপারে ফয়সাল রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, বিদেশি তিন জন বেশ আক্রমণাত্মক। গ্রেফতারের সময় তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর কয়েকবার হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

রেজাউল হায়দার বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি তারা ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কিনা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তিন জনের কারো কাছেই পাসপোর্টের কোনো কপি পাওয়া যায়নি। আমরা ধারণা করছি তাদের ভিসার মেয়াদ নেই। অবৈধভাবে তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব এবং তাদের চক্রে আরো কোনো সদস্য আছে কি না, জেনে তাদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

তাদের প্রতারণার ধরন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার জানান, প্রথমে তারা ফেসবুকে ফেক আইডি এবং নাম ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে তারা। এরপর প্রতারক চক্রের সদস্যরা লোকজনদের বিভিন্ন দামি গিফট পাঠায় এবং সেটি কাস্টমসে আটকে আছে, ছাড়িয়ে আনতে হবে বলে মোটা অংকের টাকা চায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি কেউ কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদেরকে প্রতারণার কাজে সহায়তা করে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত