বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

করোনাকালেও থেমে নেই শিশু নির্যাতন

শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য
করোনাকালেও থেমে নেই শিশু নির্যাতন
এই করোনাকালেও থেকে নেই শিশু নির্যাতন। ছবি: প্রতীকী

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও দেশে থেমে নেই শিশু নির্যাতন। বরং তা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ৩৮৭ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৫৫২ শিশুর। এছাড়া হত্যার শিকার হয়েছে ১২২ শিশু। যৌন নির্যাতনে শিকার হয়েছে ৩৬৫ জন। অপহরণ ও নিখোঁজ হয়েছে ১১২ জন। নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে ৯৪ জন। বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে ৪৫ জন। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএফ) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সমন্বয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাদের ধারণা, প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে বাস্তব সংখ্যা আরো বেশি। তবে মহামারি কোভিড-১৯-এর কারণে লকডাউন চলাকালীন সময়ে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাস শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ হয়নি। সুতরাং এই প্রতিবেদন প্রকৃতপক্ষে পাঁচ মাসের তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐ সময়ের মধ্যে আত্মহত্যা করেছে ৭৯ শিশু। সড়ক দুর্ঘটনায় শিকার ১২২ জন, পানিতে ডুবে ২০৮ জন এবং বিদ্যুতায়িত হয়ে ২৪ জন ছাড়াও সাপের কামড়, গাছ থেকে পড়ে, আগুনে পোড়ার মতো বিভিন্ন কারণে মারা গেছে আরো ১১৯ শিশু।

এদিকে হত্যার শিকার হয়েছে ১২২ শিশু। যার মধ্যে অপহরণের পর খুন করা হয়েছে ১৩ জনকে, পিতা-মাতার হাতে খুন হয়েছে ১০ জন, ধর্ষণের পরে খুন হয় ১২ জন এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে চার জনকে। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৩৬৫টি। যার মধ্যে ধর্ষণ ২২৭টি, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ৬০টি, যৌন হয়রানি ৬৬টি এবং পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছে ৯ শিশু। এ বছর ধর্ষণের ২২৭টি ঘটনার মধ্যে গণধর্ষণ ৩৬টি, প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের ঘটনা ছয়টি এবং ধর্ষণের পরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১২টি। পাঁচ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে। অপহরণ বা নিখোঁজ-সংক্রান্ত ঘটনার শিকার হয়েছে ১১২ শিশু। যার মধ্যে নিখোঁজের ঘটনা ৪১টি, অপহরণ ৫৫টি এবং অপহরণের চেষ্টা করা হয় ১২ শিশুকে। উল্লেখ্য, অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৩ শিশুকে এবং ১৩ শিশুকে নিখোঁজের পর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া হত্যার চেষ্টা করা হয় ২২ শিশুকে, ৬১ শিশুকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়, যার মধ্যে ৯ শিশু বাবা-মায়ের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক দ্বারা নির্যাতন, কথিত চুরির অভিযোগে নির্যাতনও এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ৪৫টি। যার মধ্যে ৩১ শিশুকে বাল্যবিবাহ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং ১০ শিশু বাল্যবিবাহের শিকার হয়।

ইত্তেফাক এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত