বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
২৮ °সে

ভাড়াটে খুনির সঙ্গে থাকা বোমা থানায় বিস্ফোরণ

এক জনের কবজি উড়ে গেছে, চার পুলিশসহ পাঁচ জন আহত, জঙ্গি সম্পৃক্ততা মেলেনি
ভাড়াটে খুনির সঙ্গে থাকা বোমা থানায় বিস্ফোরণ
বিস্ফোরণের পর পল্লবী থানার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান—ইত্তেফাক

রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনি তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানার পুলিশ। আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও এই সন্ত্রাসীদের কাছে ছিল ওয়েট মেশিন-সদৃশ বোমা। থানার মধ্যেই সেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে।

গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে চার জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে থানায় কাজ করা অপুলিশ সদস্য রিয়াজুল ইসলামের কবজি উড়ে গেছে। স্প্লিন্টারে আহত হয়েছেন অন্য সবাই। থানা ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল। এই সন্ত্রাসীদের সহযোগীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিরা হলেন পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইমরানুল ইসলাম, উপপরিদর্শক রুমি বেভারেজ হায়দার এবং শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক সজীব খান ও অঙ্কুর কুমার এবং থানার পুলিশের কাজে সহযোগিতা করা অপুলিশ সদস্য রিয়াজুল ইসলাম।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ব্লকের আবাসিক সার্জন আলাউদ্দিন বলেন, রিয়াজুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর। তার বাম হাতের কবজি বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় তা কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া তার ডান হাতের একটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটিও রাখা যায়নি। তার পেটে বড় ধরনের ইনজুরি আছে। রুমির বাম হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। ইমরানুলের পায়ে স্প্লিন্টারের আঘাত ও সজীবের কানে শব্দের আঘাত লেগেছে। এছাড়া অঙ্কুশ কুমারের চোখে আঘাত লেগেছে। তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। তবে আহত সবাই আশঙ্কামুক্ত বলেই জানিয়েছেন তিনি।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে পল্লবীর কালশী কবরস্থানে অভিযান চালিয়ে তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি গুলি ও একটি ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের মতো ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেপ্তার তিন জন পুলিশকে জানায়, ঐ ওজন মাপার যন্ত্রে ‘বোমা রয়েছে’। এরপর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ইমরানুলের কক্ষে ঐ ওজন মাপার মেশিন পরীক্ষা করেন। পরে আরেকটি বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়, তারা পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণ ঘটে। ডিজিটাল ডিভাইসটির মধ্য বোমা রাখা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, একটি নয়, দুটি তাজা বোমা ছিল। অন্য বোমাটি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিষ্ক্রিয় করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শহীদুল ইসলাম (২৩), মোশাররফ হোসেন (২৬) ও রফিকুল ইসলাম (৪০)। এদের গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগে (ডিবি) নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সহযোগী। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা এসব বোমা ও অস্ত্র মজুত করেছেন। তবে পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সাধারণ কোনো অপরাধীর এ ধরনের বোমা তৈরি করার কথা নয়। এসব বোমা জঙ্গি সদস্যরা তৈরি করে থাকে। বিষয়টি তদন্ত করলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।

আরো পড়ুনঃ রাজধানীর পরিবহন সন্ত্রাসীদের হাতে গজারিয়ায় তিন খুন

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আসার আগেই একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। আইইডির আদলে তৈরি হাতবোমাগুলো খুবই সাধারণ মানের। সন্ত্রাসীরা এসব কেন, কী উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।’

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর পল্লবী থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যে রুমে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই রুমের দুটি জানালার মধ্যে একটি ভেঙে নিচে রাস্তায় পড়েছে। অপরটি ওপরে ঝুলে আছে। বোমার বিস্ফোরিত অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। থানা ঘিরে উত্সুক মানুষের ভিড়। থানার গেটে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। থানায় আগতদের গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় গতকাল দুপুরে পল্লবী থানার সামনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যারা মিরপুরভিত্তিক অপরাধ করে থাকে, গ্রেপ্তারকৃতরা তাদেরই সদস্য। তারা একটি অপরাধ করার জন্য এসেছিল, সেই অপরাধ হতে পারে কাউকে খুন করা, কোনো সম্পত্তিসংক্রান্ত অথবা ডাকাতি করা। আমরা বিষয়টা তদন্ত করে দেখছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এটি কোনো জঙ্গিসংশ্লিষ্ট হামলার পরিকল্পনার অংশ কি না, জানতে চাইলে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে যাদের আমরা গ্রেফতার করেছি তারা কোনো জঙ্গি গ্রুপের সদস্য নয়। তবে তারা কোনো না কোনো ক্রিমিনাল গ্রুপের সদস্য।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশ জুড়ে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সেখানে পুলিশকে টার্গেট করে বা পুলিশ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত