তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বিষয়ক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত

তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বিষয়ক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

করোনা পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বিষয়ক অনলাইন পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের উদ্যোগে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত অনলাইন পাঠচক্রে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ-গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের প্রশিক্ষণ-গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে নারী আন্দোলন, নারীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। সংগঠনের বহুমাত্রিক কাজের একটি অংশ হচ্ছে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তরুণদের জন্য পাঠচক্রের আয়োজন করা। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তরুণদের যুক্ত করা, যাতে তারা নিজ মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিপদকালীন অবস্থা কাটিয়ে উঠতে তিনি আলোচনায় উপস্থিত তরুণদের নিজ নিজ ভাবনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

পাঠচক্রে উপস্থিত আলোচকেরা বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সকলের জন্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই নিয়ে এসেছে। ইতিবাচক দিক হলো- দীর্ঘসময় বাড়িতে থাকায় পরিবারকে সময় দেওয়া যাচ্ছে, ঘরের কাজ ভাগাভাগি করে করা যাচ্ছে, যা আগে কেবল নারীদের কাজ বলে মনে করা হত। যেসকল তরুণরা চাকরিতে যুক্ত হবে তাদের ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অনেকে কাজ হারিয়েছে তবে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে অনলাইনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে উঠছে।অন্যদিকে নেতিবাচক দিকগুলো হলো-অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে এতে পরিবারের সকলের ওপর একধরণের মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকার এককালীন অর্থ সহায়তার পরিবর্তে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেকসই করতে সাবসিডিয়ারি প্রদান করতে পারে। এতে অনেকের চাকরি বাঁচবে, প্রতিষ্ঠান টেকসই হবে। পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘসময় ঘরে অবস্থান করার ফলে মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। এটি দূর করতে মানসিকভাবে নিজেদের বুস্ট আপ করতে হবে, প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং করতে হবে।’

গ্রামের মানুষ করোনা বিষয়ে একেবারেই সচেতন নয় উল্লেখ করে বক্তরা বলেন, ‘তাদের সচেতন করতে অনলাইনে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।পাশাপাশি করোনা সংকট মোকাবেলায় নিজ নিজ প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হতে কাজ করা, বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য সামাজিক সহায়তা দিতে হবে।’

বক্তরা বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো আর্থিক অভাবের কারণে এই সময়ে বাল্য বিবাহ বেড়েছে। এমনকি লেখাপড়া করতে থাকা মেয়েদের ও বিয়ে দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে।’

দেশের ৬৫% জনগোষ্ঠী হলো তরুণ, তাই এইসকল অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে প্রত্যেককে নিজ নিজ স্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি স্বেচ্ছাসেবী গণনারী সংগঠন। সংগঠন নারীর অধিকারকে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে তাই কাজের ধারাও বহুমাত্রিক। সংগঠন মনে করে নারীর অধিকার অর্জন কেবল নারীর একার লড়াই নয়, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা দূর করে এই লড়াই নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে হতে হবে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে সামাজিক বিপর্যয় দূর হবে তবে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াবে। এর খারাপ দিক ও ভালো দিক দুটোই আছে। এই সংকট পারিবারিক সহিংসতাকে বৃদ্ধি করেছে, যার শিকার বেশি হচ্ছে নারীরা তবে ঘরের কাজ ও বাইরের কাজের তফাৎ করত অনেকে সেই ধারণার পরিবর্তন এনেছে।’

অনেকে কাজ হারিয়েছে তবে অনলাইনে উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে নিজে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। তবে গ্রামের মানুষ করোনার ভয়াবহতা নিয়ে এখনো সচেতন নয়। তাদেরকে সচেতন করতে সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করার কথা তুলে ধরেন।’

সর্বোপরি করোনা পরবর্তী অভিঘাত কাটিয়ে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সকলকে সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পাঠচক্রে আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন-হুমায়রা খাতুন, সদস্য, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ পরিষদ; উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস মাহীর ফয়সাল ফাইয়াজ, মিরপুর বাংলা কলেজে ডিগ্রীতে অধ্যয়নরত মেঘলা রহমান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টর ছাত্রী সাজিয়া আফরিন সুলতানা মিথিল, গণনেট অনলাইন সল্যুশন লিমিটেড এর সিআরএম এক্সিকিউটিভ সামীরা আজমেরী, তিতুমীর সরকারি বাংলা কলেজার ছাত্র হাদিয়াতুল হাসান ব্রিটিশ কাউন্সিল এর এক্সাম সুপারভাইজার ফাহমিদা ফাহমি,শারমিন, অভিনেত্রী ও আবৃত্তিকার আজমী আনজুম আয়াশকা,জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিপার্টমেন্টের ছাত্রী সুমাইয়া ইমতিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী দিপ্তী রানী সিকদার, সিনিয়র আইনজীবী ও সদস্য, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি; সালেহা বানু সাবা; সহকারী প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা ও সদস্য, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি; শাহজাদী শামীমা আফজালী; সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা ও সদস্য, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি; আফরুজা আরমান; সহযোগী রিসার্চ ও ট্রেনিং অফিসার ও সদস্য, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং জিনাত আরা; লাইব্রেরিয়ান ও ডকুমেন্টালিস্ট, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত