কার দেওয়া আগুনে পুড়ে মরল সাব্বির

 প্রেমিকার সামনে ২০ মিনিট ধরে দগ্ধ
কার দেওয়া আগুনে পুড়ে মরল সাব্বির
রাজধানীর মিরপুর। ছবি : গুগল ম্যাপ

রাজধানীর মিরপুরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাব্বির আহমেদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট মিরপুরের বি ব্লকের ২ নম্বর এভিনিউয়ের ১০ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় প্রেমিকার ফ্ল্যাটে দগ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ৫ সেপ্টেম্বর মারা যান।

নিহত সাব্বিরের পরিবারের দাবি, প্রেমিকা মীর সোনিয়া ও তার পরিবারের প্ররোচনায় এ ঘটনা ঘটেছে। সোনিয়ার পরিবার বলছে, সাব্বির দাহ্য পদার্থ গায়ে মেখে শরীরে আগুন দিয়েছে।

শাহআলী থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মৃতের চাচা এমাম লস্কর বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যা যদি হয়েও থাকে, সে ক্ষেত্রে আত্মহত্যায় কেউ প্ররোচনা দিয়েছেন কি না- সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রায় তিন বছর প্রেমের সম্পর্ক। রূপনগর আবাসিক এলাকায় সাব্বিরের বাসা। মিরপুরের বি ব্লকের এভিনিউ-২ এর ১০ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বাবা-মার সঙ্গে থাকেন মীর সোনিয়া। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাব্বির আহমেদ ও মীর সোনিয়া। হঠাৎ সোনিয়াকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এতে ভেঙ্গে পড়েন সাব্বির। ৩১ আগস্ট শেষবারের মত সোনিয়ার বাসায় যান সাব্বির। এরপর সাব্বিরের পরিবারের কাছে খবর আসে যে সাব্বির অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পরে ৫ সেপ্টেম্বর মারা যান সাব্বির। পরিবারের দাবি, ফোনে সাব্বিরকে ডেকে নিয়ে গেছে সোনিয়ার পরিবারের কেউ।

সাব্বিরের মা নাহিদা খন্দকার বলেন, ‘ওকে টেলিফোন করে ডেকে নিয়ে গেছে যে সোনিয়াকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলাপ আলোচনা করার জন্য। ওই দিন রাতে সাব্বিরের ভাই দোকান থেকে ফিরে এসে বলে যে সাব্বিরকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কিছু সময় পরে তার মোবাইল ফোনে মামুন নামে একজন ফোন করে জানায় যে সাব্বির অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি।

মামলার বাদী সাব্বিরের চাচা এমাম লস্কর বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাব্বিরের শরীরের দগ্ধ স্থান পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের আগুন তার গায়ে জ্বলেছে। এ কারণে তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এই ঘটনাটি আমার কাছে খুবই অস্বাভাবিক মনে হয়। সোনিয়াদের ড্রইং রুমের মধ্যে ৫/৬ জন মানুষ ছিলেন। তার মধ্যে একজন ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত পুড়েছে। তাহলে সেখানে অন্য যারা ছিলেন, তারা কি করলেন যে আগুন নিভাতে পারলেন না। তার জীবনটা বাঁচাইতে পারলেন না।

আরো পড়ুন : মুজিববর্ষে ঘর পাবেন ৮ লাখ দুস্থ পরিবার: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পুলিশ জানায়, তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের শুরু থেকেই সাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে জানাশোনা ছিল সোনিয়ার। রূপনগরে সাব্বিরের বাসার সিসিটিভির ফুটেজে পুলিশ দেখতে পায় যে, ঘটনার দিন ৩১ আগস্টের আগে ২৯ আগস্ট সাব্বিরের বাসায় যান সোনিয়া।

সাব্বিরের মা নাহিদা খন্দকার বলেন, ‘আমি সোনিয়াকে ছেলের বউ হিসাবে ধরে নিয়েছিলাম। ও তো আমার বাড়ির বউ হবে। বাসায় সব সময় আসা যাওয়া করত। আমার ছোট মেয়েকে ঘুরতে নিয়ে যেতো। ছোট মেয়েকে গিফটও দিত। খুবই একটা ভাল সম্পর্ক ছিল।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে মিরপুরের বি ব্লকের ২ নম্বর এভিনিউয়ের সোনিয়ার ফ্ল্যাটে তালাবদ্ধ পায় পুলিশ।

এ ব্যাপারে মীর সোনিয়া বলেন, সাব্বির দাহ্য পদার্থ গায়ে মেখে আমাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে গ্যাস লাইটার দিয়ে শরীরে আগুন দিয়েছেন। আমি দরজা খুলেই দেখি যে গায়ে ফিনাইল বা কেরোসিন ঢেলে দাঁড়িয়ে আছে সে। ফ্লোরে কেরোসিন পড়ে আছে। ওর হাতে শুধু গ্যাস লাইটারটা ছিল ওই সময়। সঙ্গে যে ব্যাগ নিয়ে এসেছিল, সেটা সিঁড়িতে পড়ে ছিল। বাসায় ঢুকে সে শরীরে গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারিনি।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত