কয়েদি পালানোর ঘটনায় জেল সুপারের পদাবনতি, সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা

সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কয়েদি পালানোর ঘটনায় জেল সুপারের পদাবনতি, সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগমসহ সাত জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়া জাহানারা বেগমকে পদাবনতি করে জামালপুরে বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, আসামি পলায়নের পরই সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লালমনিরহাট কারাগারে সম্প্রতি পাঠানো উড়ো চিঠি যাচাইয়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

জানা গেছে, গত আগস্টের শুরুর দিকে কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বকর সিদ্দিক পালিয়ে যান। তার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার আবাদ চণ্ডীপুর এলাকায়। গত ২০১১ সালের ১৪ জুন থেকে তিনি বন্দি ছিলেন। এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ঐ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগমকে পদাবনতি করা হয়েছে। আগে তার পদবি ছিল সিনিয়র কারা জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত)। এখন তাকে এক গ্রেড নিচে নামিয়ে জেলার করে জামালপুর কারাগারে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। ঐ কারাগারের আরো ছয় জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দিয়ে তাদের দেশের বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের কারাগারে উড়ো চিঠি ও ফোনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এ ধরনের উড়ো চিঠি ও কাগজ আমাদের কাছে সব সময়ই আসে। তবে আমরা সব সময় তথ্যভিত্তিক কাজ করি। আমাদের কাছে যখন গোয়েন্দা তথ্য আসে, তখনই আমরা ব্যবস্থা নিই। উড়ো চিঠি যেগুলো আসছে, সেগুলো গোয়েন্দাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা যদি মনে করেন এগুলোর কোনো সত্যতা আছে, তাহলে আমরাও ব্যবস্থা নেব।’

‘মিয়ানমার সীমান্তে সেনা মোতায়েন নতুন কিছু নয়’

মিয়ানমার সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে, সেখানে আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে মাঝেমধ্যেই সৈন্য-সামন্ত বাড়ানো হয়। এ ব্যাপারে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকি। এটা নতুন কিছু নয়।’

আমাদের সীমান্তে সেনা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের রোহিঙ্গাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। তার পরও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করে যাচ্ছি। আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো ‘কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব।’

বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজিবি ও বিএসএফ আলোচনা প্রতিবছরই হয়। এই মুহূর্তে আমার কাছে এজেন্ডাগুলো নেই। তবে সীমান্ত হত্যাসহ সব বিষয়ে আলোচনা হবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক রয়েছে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ১ কোটি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সংসদ ভবন চত্বরে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত