ডিএনসিসির অভিযানে পুলিশ বক্সও রক্ষা পেলো না

ডিএনসিসির অভিযানে পুলিশ বক্সও রক্ষা পেলো না
ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তিন জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় বৃহস্পতিবার গুলশান, বনানী ও প্রগতি সরণিতে আরো প্রায় সাত শতাধিক অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া স্পট নিলামের মাধ্যমে এসব সাইনবোর্ড ও অন্যান্য মালামাল ১ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা বিক্রয় করা হয়। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করা, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা এবং অন্যান্য অপরাধে ১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়ে অনিয়মের এ চিত্র। রাজধানীর গুলশান বনানী ও বাড্ডা এলাকায় একযোগে চলে অবৈধ বিলবোর্ড সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান। এসময় গুলশান এলাকার নামিদামি সব প্রতিষ্ঠানের অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়। এমনকি ফুটপাত দখল করে থাকা ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্স গুঁড়িয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অবৈধ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড উচ্ছেদ চলাকালে গুলশান ১ নম্বর গোলচত্বরে পরিদর্শনে আসেন ডিএনসিসি মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, যত্রতত্রভাবে যারা বড় বড় সাইনবোর্ড, বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা করছেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের পাওনা ট্যাক্স তারা দিচ্ছেন না। এধরনের বিলবোর্ড একশতভাগ অবৈধ। আমরা এ বিলবোর্ডের পারমিশন দেইনি। এ ধরনের বিলবোর্ড যারা লাগাচ্ছেন, তাদেরকে সাবধান করে বলছি এগুলো অবৈধ। এগুলোকে কোনমতেই আমরা পারমিশন দিবো না।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনে ব্যবসা করছে। আমি বলতে চাই, আপনারা যারা এখানে ব্যবসা করছেন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গুলশানে লাইসেন্স নিয়ে গুলশানে ব্যবসা করতে হবে, মোহাম্মদপুরের লাইসেন্স নিয়ে গুলশানে ব্যবসা করা যাবে না।

আজ গুলশান ১ নম্বর গোলচত্বরে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, প্যানাফ্লেক্স ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ করা এসব সামগ্রী ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকায় বিক্রয় করা হয়। এসময় যথাযথভাবে সাইনবোর্ড স্থাপন না করায় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় শান্তা গ্রুপকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বনানী ১১ নম্বর সড়কে অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় দুই শতাধিক সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অন্যান্য অপরাধে মোট ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া প্রগতি সরণির শহজাদপুরে অঞ্চল-৬ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিনের পরিচালনায় উচ্ছেদ অভিযানে মোট দুই শতাধিক সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃত এসব সিনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি নিলামে ২৫ হাজার টাকা নিলামে বিক্রয় করা হয়। এছাড়া ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করা এবং ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত