স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে আরও অনেকের নাম আসতে পারে: দুদক সচিব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে আরও অনেকের নাম আসতে পারে: দুদক সচিব
ফাইল ছবি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট কাজ করছে। দুদকের অনুসন্ধান শেষে আরো অনেকের নাম আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত।

তিনি বলেছেন, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বদলি ও বিভিন্ন উপায়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমন ৪৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গোয়েন্দা ইউনিট ইতিমধ্যে তাদের ব্যপারে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে। এই ৪৫ জনের দুর্নীতির সঙ্গে আর কারো সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে দুদক সচিব এসব কথা বলেন।

দুদক সচিব বলেন, ২০১৯ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৫ জনের সম্পদের খোঁজ নিতে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। এরই মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজন জড়িত থাকার ফলে সব মিলিয়ে ৫১ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করার পর ধরার চেয়ে আগে থেকে প্রতিরোধ করা ভালো। সেজন্য আমরা প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে সুপারিশ করেছি। তাহলে দুর্নীতি কমে যাবে। সেই অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলোর ব্যবস্থা নেওয়া দায়িত্ব। এছাড়া অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করছে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের যে ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক তারা হলেন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর মহাখালী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-২) কবির আহমেদ চৌধুরী ও মো. হুমায়ুন কবীর, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার অফিস সহকারী খাইরুল আলম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মজিবুর রহমান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিত্সা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী রেজাউল ইসলাম, মহাপরিচালক দফতরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ, কুড়িগ্রম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক আবদুল­াহ হেল কাফি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী মো. তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী মো. ফয়জুর রহমান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব সহকারী আব্দুল হালিম ও সুব্রত কুমার দাস, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সচিব মো. আনায়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মো. শাহজাহান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের স্টোর কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হাসেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আব্দুল মজিদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টোর ম্যানেজার ইপিআই হেলাল তরফদার, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতারের স্টোর কিপার সাফায়েত হোসেন ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

এই তালিকায় আরও আছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব রক্ষণ কর্মকতা মো. মজিবুল হক মুন্সি এবং তার স্ত্রী রিফাত আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূইয়া এবং তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়ি চালক মো. আব্দুল মালেক এবং তার স্ত্রী নার্গিস বেগম, গোপলগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান এবং দুই স্ত্রী বিলকিচ রহমান ও মোসা: রেহেনা আক্তার (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের স্টাফ নার্স), রংপুর মেডিকের কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. ইমদাদুল হক এবং তার স্ত্রী মোছা. উম্মে রুমান ফেন্সী, ঢাকার জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহমুদুজ্জামান এবং তার স্ত্রী মোছা: সাবিনা ইয়াছমিন, গাজিপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ষ্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ বিভাগের অফিস সহকারী কামরুল হাসান এবং তার স্ত্রী ডা: উম্মে হাবিবা, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলীম।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত