অনুপস্থিত ভোটারদের ভোটদান সপ্তাহ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর

অনুপস্থিত ভোটারদের ভোটদান সপ্তাহ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর
ফাইল ছবি

অনুপস্থিত ভোটারদের জন্য আয়োজিত ভোটদান সপ্তাহে অংশ নিয়ে সক্রিয় ভোটার হোন এবং ভোট দেয়ার জন্য যা যা করতে হবে, সেই প্রয়োজনীয় কাজগুলো করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট দিন!

এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিত ভোটারদের ভোটদান সপ্তাহ সেপ্টেম্বর ২৭ থেকে অক্টোবর ৪ তারিখ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য ভোটার নিবন্ধন এবং ব্যালটের জন্য অনুরোধ করার শেষ সময় ৫ অক্টোবর। আপনি প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন কিংবা ইতোমধ্যে ব্যালট পেয়েছেন ও অতীতের নির্বাচনগুলোতে অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ভোট দিয়েছেন, যেটাই হোক না কেন, আপনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পরামর্শ/সুপারিশ হলো বিদেশে থাকার কারণে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর ফেডারেল পোস্ট কার্ড অ্যাপ্লিকেশন (এফপিসিএ) পূরণ করুন।

আপনি যদি ইতোমধ্যে ২০২০ সালে ফেডারেল পোস্ট কার্ড অ্যাপ্লিকেশন (এফপিসিএ) পূরণ করে থাকেন এবং আপনার ব্যালট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরবরাহের জন্য অনুরোধ করে থাকেন এবং অনুরোধকৃত ব্যালট এখনো যদি হাতে না পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি শিগগিরই নিজের জন্য উন্মুক্ত ব্যালট পেপার পাবেন কিংবা কিভাবে আপনার ব্যালট পেতে পারেন সে বিষয়ে নির্দেশনা পাবেন। আপনি ব্যালটের জন্য অনুরোধ করা সত্ত্বেও এখনো যদি ব্যালট না পেয়ে থাকেন, বা আপনি যদি নিজের অনুপস্থিত ব্যালটের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত না হন তবে আপনার স্থানীয় নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

আপনি ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে ভোট দেয়ার সহায়তা পেতে পারেন। কয়েকটি স্টেট/রাজ্য আপনাকে পূরণকৃত ব্যালট ইলেকট্রনিক্যালি জমা দেওয়া অনুমোদন করে কিন্তু অন্যদের বেলায় সেটা করা যায় না। যদি আপনার স্টেট পূরণকৃত ব্যালট ডাকযোগে পেতে চায়, সেক্ষেত্রে আপনি ঢাকার মাদানী এভিনিউতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রবেশ গেটে গার্ডদের বুথে রাখা ড্রপ বক্সে আপনার পূরণকৃত ব্যালট জমা দিতে পারেন। ব্যালট শুধু কার্যদিবসে নির্ধারিত সময়ে (দূতাবাস পালন করে এমন ছুটির দিনগুলো বাদে সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট ড্রপ বক্সে জমা দেয়া যাবে)। দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানো হলে সেটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

আপনি যদি বিদেশে থাকা অবস্থায় আগে কখনো ভোট না দিয়ে থাকেন, তাতে কোন অসুবিধা নেই। ভোট দেয়ার এই প্রক্রিয়াটি সহজ — শুধু নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

ফেডারেল পোস্ট কার্ড অ্যাপ্লিকেশন (এফপিসিএ) পূরণ করুন

.

আপনি যদি প্রথমবারের মতো ভোটার হন বা বিগত নির্বাচনগুলোতে বিদেশে অবস্থান করায় অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ভোট দিয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের পরামর্শ হলো এই শরতে আপনার ব্যালট পাওয়ার জন্য আপনি এফপিসিএ পূরণ করুন। এটি পূরণ করার মাধ্যমে আপনি ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধিত হবেন এবং আপনি যে বছর এফপিসিএ জমা দিচ্ছেন সেই বছরের ওই সময়কালে ফেডারেল অফিসের সবগুলো নির্বাচনে (প্রেসিডেন্সিয়াল, স্টেট প্রাইমারি, রান-অফ, স্পেশাল এবং নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের) ভোট দিতে অনুপস্থিত ব্যালটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট ও টেরিটোরির স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা এফপিসিএ গ্রহণ করেন। এফপিসিএ সহজে পূরণ করার সুবিধার্থে এফভিএপি ডট গভ এ আপনাকে সহায়তা করার জন্য অনলাইন ভোটিং সহকারী আছে। ভোটিং সহকারী আপনার স্টেটের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নাবলী জিজ্ঞাসা করবে এবং আপনাকে জানাবে যে, আপনাকে ইলেকট্রনিক ব্যালট সরবরাহ করা সম্ভব হবে নাকি হবে না। আপনি যে স্টেট-এরই ভোটার হোন না কেন, আমরা আপনাকে সবসময় বলব আপনি আপনার স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে উন্মুক্ত ব্যালট ইলেকট্রনিক্যালি (ইমেইলে, ইন্টারনেটে ডাউনলোড করার জন্য, কিংবা ফ্যাক্স ইত্যাদির মাধ্যমে; কীভাবে পাঠানো হবে সেটা আপনার স্টেটের নির্বাচন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে) আপনাকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করুন। ইলেকট্রনিক্যালি ব্যালট পাওয়ার সুবিধা পেতে আপনার ই-মেইল ঠিকানা অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করুন। অনলাইন ভোটিং সহকারী একটি মুদ্রণযোগ্য/প্রিন্টারে প্রিন্ট করা যায় এমন একটি এফপিসিএ তৈরি করবে; যা আপনি প্রিন্ট নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করতে পারবেন।

ফেডারেল পোস্ট কার্ড অ্যাপ্লিকেশন (এফপিসিএ) জমা দেয়া

আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মাধ্যমে আপনার এফপিসিএ পাঠানোর কথা ভাবেন, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক ঢাকার মাদানী এভিনিউতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রবেশ গেটের গার্ডদের বুথে স্থাপিত ড্রপ বক্সে আপনার এফপিসিএ শুধু কার্যদিবসে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিন (দূতাবাস পালন করে এমন ছুটির দিনগুলো বাদে সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে জমা দেয়া যাবে)। এছাড়াও আপনি নিজ খরচে আন্তর্জাতিক ডাক কিংবা পেশাদার কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আপনার এফপিসিএ সরাসরি আপনার স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে পারেন।

আপনার ব্যালট বুঝে নিন

আপনার এফপিসিএ জমা দেয়ার পরে, বেশিরভাগ স্টেট আপনাকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে এবং ব্যালট পাওয়ার পদ্ধতি বাছাই করার সুযোগ দেবে। স্টেটগুলো এখন বিদেশে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিক যারা এফপিসিএ পূরণ করেছেন তাদের কাছে ফেডারেল নির্বাচনের ৪৫ দিন আগে (১৯ সেপ্টেম্বর) ব্যালট পাঠাচ্ছে।

আপনার পূরণ করা ব্যালট ২ অক্টোবরের মধ্যে ফিরিয়ে দিন

আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মাধ্যমে আপনার পূরণ করা ব্যালট পেপার আপনার নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ফেরত পাঠানোর কথা ভেবে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে অবশ্যই অক্টোবরের ২ তারিখ কিংবা তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পৌঁছে দিন। কারণ বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটদানের জেলাগুলোতে পৌঁছাতে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আপনি নিজে কিংবা আপনার বন্ধু, সহকর্মী কিংবা প্রতিনিধিদের যে কেউ দূতাবাস গেটে রাখা ড্রপ বক্সে ব্যালট পেপার পৌঁছে দিতে পারেন। তবে যিনিই পৌঁছান না কেন, ব্যালট পেপারটি অবশ্যই পোস্টেজ-পেইড বা ডাকমাসুলযুক্ত খামে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ পোস্টেজের জন্য নির্ধারিত খামে ভরে খামের উপর আপনার স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের ঠিকানা লিখে তবেই ড্রপবক্সে ফেলতে হবে। আপনি এফভিএপি ডট গভ ওয়েবসাইট থেকে পোস্টেজ পেইড খাম ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

নির্বাচনের আগে যদি আপনার ব্যালট সংগ্রহ ও পূরণকৃত ব্যালট পেপার ফেরত পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকে তবে ফেডারেল রাইট-ইন অ্যাবসেনটি ব্যালট (এফডব্লিউএবি) ব্যবহার করুন। এটা হলো ব্যাকআপ ব্যালট, যা আপনি সময়মতো ব্যালট না পাওয়ার কারণে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনি এফডব্লিউএবি পূরণ করে পাঠানোর পর যদি আবেদনকৃত ব্যালট আপনার হাতে এসে পৌঁছায় তাহলে এটাও পূরণ করে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে। আপনি দু'টো ব্যালট পাঠালেও গণনার সময় একটি মাত্র গণনা করা হবে। এফডব্লিউএবি পূরণ করার জন্য এফভিএপি ডট গভ এ থাকা অনলাইন সহকারীর সহায়তা নিন। এফডব্লিউএবি পূরণ করার প্রক্রিয়া চলাকালে অনলাইন সহকারী আপনার স্টেটের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করবে যাতে করে এফডব্লিউএবি যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়। ব্যালট পূরণ করার পর, প্রিন্ট নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করতে হবে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য এফভিএপি ডট গভ ওয়েবসাইট দেখুন।

আপনার ভোট গুরুত্বপূর্ণ

গত দশ বছরে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নির্বাচনে ০.১% এরও কম ব্যবধানে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। সকল স্টেটকে অবশ্যই প্রতিটি অনুপস্থিত ব্যালট গণনা করতে হবে যদি ব্যালটটি বৈধ হয় এবং অনুপস্থিত ব্যালট পেপার প্রাপ্তির নির্ধারিত সময়সীমার (বিভিন্ন স্টেটে এই সময়সীমা ভিন্ন) মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায়।

সচেতন ও শিক্ষিত ভোটার হোন। নির্বাচনের প্রার্থীদের ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানার জন্য ও ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দরকারি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গবেষণায় সহায়তা পেতে আপনি এফভিএপি লিঙ্ক পৃষ্ঠাগুলো দেখুন। এছাড়াও আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে জাতীয় ও আপনার এলাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো অনলাইনে পড়তে পারেন এবং নিবন্ধসমূহ ও তথ্য খুঁজে পেতে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে পারেন।

নির্বাচনের তারিখ এবং সময়কাল সম্পর্কে ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য পেতে, এফভিএপি-র ভোটিং অ্যালার্টস ([email protected]) সাবস্ক্রাইব করতে পারেন। এছাড়াও এফভিএপি ফেসবুক ও টুইটার- এর মাধ্যমে ভোটিং অ্যালার্টস বা ভোটের সতর্কতাগুলো সম্পর্কে জানায়।

আপনার বিদেশ থেকে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধিত হওয়া সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহপূর্বক আমাদের ওয়েবসাইট দেখুন: https://bd.usembassy.gov/u-s-citizen-services/voting/ কিংবা ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভোটিং অ্যাসিস্ট্যান্স অফিসার এর সাথে (৮৮০) (২) ৫৫৬৬-২০০০ ফোন নম্বরে কিংবা ই-মেইলে [email protected] যোগাযোগ করুন।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত