ধর্ষণের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী মহিলা পরিষদের মানববন্ধন 

ধর্ষণের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী মহিলা পরিষদের মানববন্ধন 
ধর্ষণের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী মহিলা পরিষদের মানববন্ধন।ছবি: ইত্তেফাক

সাভারের নীলা রায় হত্যা, খাগড়াছড়ির প্রতিবন্ধী আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণ ও সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‘নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, নারী হত্যা, ধর্ষণ বন্ধ কর’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি একই সাথে সংগঠনের ৫৭টি জেলা শাখায় পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘বর্তমানে কোভিডকালীন সময়ে যখন মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করছে তখন নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি সমগ্র সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। দেশের সমগ্র দিকে প্রতিটি স্তরের নারী ও শিশুরা হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।’

ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়ে চলা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে তিনি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি নারীর জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য নগরী গড়তে প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে, ঘটনার দ্রুত বিচার, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দাবি জানান তিনি।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কাছে জনগণ আজ অবরুদ্ধ উল্লেখ করে সংগঠনের সহ-সভাপতি মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে করোনার ভয়াবহতার চেয়ে নারীর প্রতি নির্যাতন ও নিরাপত্তহীনতার ভয় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীর বিচার লক্ষ্য করা যায় না। এই ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের দিক থেকে কেবল অপরাধীকে বহিষ্কার করতে দেখা যায়, এটি যথেষ্ট নয়।’

আরও পড়ুন: মোদি সরকার থাকলে, ভারত-পাকিস্তান সিরিজ অসম্ভব : আফ্রিদি

সংগঠনের লিগ্যাল এইড ও লবি পরিচালক অ্যাড. মাকছুদা আক্তার লাইলী বলেন, ‘করোনা মহামারিতে সমগ্র দেশ ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সহিংসতা মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এতটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে যে করোনার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে আজ সকলকে সম্মিলিতভাবে রাস্তায় দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।’

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বৃদ্ধির ঘটনা রোধ করতে হলে প্রশাসন, রাজনীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সমাজবিরোধী চক্র গড়ে এটিকে প্রতিহত করতে হবে। এই সিন্ডিকেট দূর না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকবে।’

এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট নারীর প্রতি সহিংসতাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামীর সঞ্চালনায় এছাড়াও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস, সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন ও সংগঠনের কর্মকর্তাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত