পুলিশের দক্ষতা ও সেবার অনন্য নজির

পুলিশের দক্ষতা ও সেবার অনন্য নজির
পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ছবি: ফাইল, সংগৃহীত

রাজধানী থেকে বহু দূরে কোনো একটি উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে গভীর রাতে পারিবারিক ঝামেলায় পড়েছিলেন এক নারী। ঐ নারী তাত্ক্ষণিক ফোন করেন ঢাকায় থাকা এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে।

কথা বলার মধ্যেই কেউ একজন নারীর হাত থেকে মোবাইল ফোনটি সম্ভবত কেড়ে নেন। জনপ্রতিনিধি ঘটনা পুরোপুরি বুঝেওঠার আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঐ নারী যে নম্বর থেকে কল করেছিলেন, জনপ্রতিনিধি ঐ নম্বরে ফিরতি কল দেন। কিন্তু কলটি রিসিভ করেন আরেক জন।

জনপ্রতিনিধির সন্দেহ, সম্ভবত ঐ নারী কোনো বিপদে পড়েছেন। কিন্তু তিনি ঐ নারীর নাম-ঠিকানা কিছুই জানেন না। যে নম্বর থেকে নারী কল করেছিলেন, শুধু সেই নম্বরটিই আছে। রাত তখন দেড়টা কি দুইটা বাজে। এমন গভীর রাতেই জনপ্রতিনিধি ফোন করলেন সংশ্লিষ্ট থানায়।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বললেন, ‘একজন নারী ফোন করেছিলেন, সম্ভবত তার কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমি তার নাম-ঠিকানা কিছুই জানি না। আমার কাছে শুধু তার মোবাইল নম্বরটি রয়েছে।’ একথা বলে ওসিকে জনপ্রতিনিধি অনুরোধ জানিয়ে বললেন, ‘এটা তার নম্বর, কাউকে দিয়ে একটু দেখবেন কী সমস্যা।’

ওসি মোবাইল নম্বরটি নিলেন। শুধু মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই ওসি নারীর নাম ঠিকানা খুঁজে বের করলেন। এমনকি গভীর রাতে ওসি নিজেই ঐ নারীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সমস্যা জানলেন এবং সমাধান দিলেন।

শুধু একটি মোবাইল নম্বর ধরে সব মিলিয়ে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই নারীর ঠিকানা বের করে এবং সমস্যা জেনে ও সেটির সমাধান দিয়ে ওসি আবার অবহিত করলেন জনপ্রতিনিধিকে। কোন এলাকার কোন নারী, কী সমস্যায় পড়েছেন, সমাধান হয়েছে কি না, সেটি জানার জন্য উদ্বেগ নিয়ে জেগে ছিলেন জনপ্রতিনিধিও। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে গভীর রাতে ওসি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্যার সমাধান করায় তাকে ধন্যবাদ জানান জনপ্রতিনিধি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত