আবার ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন

ইরফানের দেহরক্ষীর ঘুষিতে লে. ওয়াসিফের দাঁত পড়ে যায়

ইরফানের দেহরক্ষীর ঘুষিতে লে. ওয়াসিফের দাঁত পড়ে যায়
নিজ বাসা থেকে আটকের পর ইরফান সেলিমকে নিয়ে যাচ্ছে র‌্যাবের একটি দল। ছবি: ফোকাস বাংলা

ইরফান সেলিমের দেহরক্ষী জাহিদের ঘুষিতে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমদ খানের দাঁত পড়ে যায়। এর আগে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে বুলেট প্রুফ জিপ গাড়ি থেকে নেমে ইরফানের সঙ্গে ওয়াসিফের কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে জাহিদসহ অন্যরা ওয়াসিফকে রাস্তায় ফেলে কিল ঘুষি ও লাথি মারে। এ সময় তার স্ত্রী লে. ওয়াসিফকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে জাহিদসহ অন্যরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য জানিয়েছে সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লা ও মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দীপু। ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় তাদেরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে চকবাজার থানায় র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় ইরফান ও জাহিদুলকে সাত দিন করে ১৪ দিন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ইরফান, জাহিদুল ও দীপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ খানকে কেন মারধর করেছেন, কেন তাকে হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেয়া হলো- সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপ-কমিশনার আরো বলেন, র‌্যাবের অভিযানে ইরফানের বাসা থেকে অবৈধ বিদেশি অস্ত্র ও ওয়াকিটকি পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্র ও ওয়াকিটকির বিষয়ে যে অভিযোগগুলো আছে তা খতিয়ে দেখছি আমরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম অসুস্থ হওয়ার আগে পুরো ব্যবসার ভার তিনি একাই সামলাতেন। যখনই তিনি স্ট্রোক করে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তখনই মদিনা গ্রুপের পুরো ব্যবসা নিজে কব্জা করার চেষ্টা করেন ইরফান সেলিম। তার এই অপচেষ্টায় দুই ভাই সোলায়মান সেলিম ও আশিক সেলিম ছিলেন বড় অসহায়। অনেকটা বাধ্য হয়ে সোলেমান সেলিম চুপ হয়ে যান। মদিনা গ্রুপের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা ইরফানের ভয়ে তটস্থ থাকতেন। তার দ্বারা একাধিক কর্মকর্তা মানসিক নির্যাতনের কারণে চাকরি ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন : জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পুলিশ জানায়, বাসা বা অফিস থেকে যখন তিনি বের হতেন তখন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীরা এবং প্রাইভেট বাহিনীর সদস্যরা গাড়ির হুইসেল বাজিয়ে পুরো রাস্তা ফাঁকা করতেন। হুইসেল শোনার পর যদি কারও গাড়ি রাস্তা থেকে দ্রুত না সরতো তাহলে তার প্রাইভেট বাহিনী তাকে সেখানেই মারধর করতেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে লে. ওয়াসিফের মোটরসাইকেল যখন তার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে, ঠিক এমনই ঘটনা ঘটেছে। প্রথম দফায় ইরফান সেলিম গাড়ি থেকে নেমে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপরই তার দেহরক্ষী জাহিদসহ অন্যরা লে. ওয়াসিফকে মারধর করেন। মূলত তার দেহরক্ষী জাহিদের ঘুষিতে লে. ওয়াসিফের দাঁত পড়ে যায়।

গত রবিবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ইরফান সেলিমকে বহনকারী এমপি স্টিকার লাগানো গাড়ি দিয়ে ওই নৌবাহিনী কর্মকর্তার মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। পরদিন সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, মদিনা গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক দীপু, দেহরক্ষী মো. জাহিদ ও গাড়ি চালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ভুক্তভোগী ওয়াসিফ আহমদ খান। ওইদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর চকবাজারের ২৬, দেবীদাস ঘাট লেনে হাজী সেলিমের ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ি’-তে অভিযান চালান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান শেষে অবৈধ ওয়াকিটকি ও মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর রাতেই দুজনকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত