রাজধানীতে বোমা-অস্ত্রের সঙ্গে বেড়েছে ইয়াবার সরবরাহ

এক সপ্তাহে জব্দ ৭০ হাজার ইয়াবা, উত্তরায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আরো চার জন গ্রেফতার
রাজধানীতে বোমা-অস্ত্রের সঙ্গে বেড়েছে ইয়াবার সরবরাহ
রাজধানীতে বোমা-অস্ত্রের সঙ্গে বেড়েছে ইয়াবার সরবরাহ। প্রতীকী ছবি

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত কয়েক মাস রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা খুব একটা ছিল না। মাদক ব্যবসায়ীরাও ছিল অনেকটা কোণঠাসা। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীতে বাড়তে শুরু করেছে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা। এর পাশাপাশি বেড়েছে ইয়াবা সরবরাহ। গত সাত দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করেছে ৭০ হাজার ইয়াবা। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ২০ মাদক কারবারিকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে তিনি জানিয়েছেন, শীতের শুরু। প্রতি বছরের এই সময়ে রাজনীতির অঙ্গনটাও কিছুটা চাঙ্গা থাকে। আর সুযোগটাকেই ব্যবহার করার চেষ্টা করে মাদক কারবারি ও পেশাদার দুর্বৃত্তরা। ঐ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে কোনো অবস্থায় দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর সুযোগ পাবে না।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার শফিকুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ ফেরদৌস মজুমদার মাসুদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতের দেওয়া তথ্যমতে, তার অপর সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সম্প্রতি এই চক্র রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির পায়তারা করছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, উত্তরা এলাকা থেকে ৩১টি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধারের ঘটনায় আরো চার জনকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সোহরাব হোসেন. তৌহিদুল ইসলাম, মো. সেলিম মিয়া ও মো. উজ্জ্বল মিয়া। এর আগে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছিল মামুন পারভেজ ও সুমন শেখকে। তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ইয়াবা জব্দ ও মাদক কারবারি আটক :মহানগর পুলিশের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার পিস ইয়াবা, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বাধিক।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশ শনিবার পল্টন মডেল থানার নাইটিংগেল মোড় এলাকা থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে মাদক কারবারি মোসা. ইয়াসমিন আক্তার ও মো. আমির হোসেনকে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ মাদক কারবারি নাজিম উদ্দিন ও মো. সেলিমকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। একই দিন গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের একটি টিম যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জব্দ করে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা। গ্রেফতার করা হয় মাদক কারবারি হারুন অর রশিদ, মো. রুবেল খান, রেজাউল করিম ও মো. কাউছার হাওলাদারকে। গত সোমবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি টিম গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে জব্দ করে প্রায় ৭ হাজার পিস ইয়াবা। গ্রেফতার করে চার মাদক কারবারিকে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ফারুক হোসেন, বিল্লাল হোসেন, রাসেল মিয়া ও মোছা. রেহেনা বেগম।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন কৌশলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল। গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (রমনা) একটি টিম মিরপুর এলাকার রাব্বানী হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে মাদক কারবারি মো. সিদ্দিকী, শফিকুল ইসলাম ও ছোটন কান্তিকে। গত রবিবার বাড্ডা থানার পুলিশ ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে মাদক কারবারি শাহ আলমকে।

এ ব্যাপারে বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আলম স্বীকার করেছে, সে কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত