ঢাকার বুকেই গ্রাম-বাংলার ‘মেরাইদ্দা হাট’

ঢাকার বুকেই গ্রাম-বাংলার ‘মেরাইদ্দা হাট’
ঢাকার বুকেই গ্রাম-বাংলার ‘মেরাইদ্দা হাট’।ছবি: ইত্তেফাক

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে সাপ্তাহিক হাট একটি সাধারণ বিষয়। শাক-সবজি, খাবার-দাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। কিন্তু নগর, মহানগরের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশ বেমানান। আর ঠিক তেমন একটি হাট খোদ রাজধানী ঢাকার বুকেই বসে।

রাজধানীর রামপুরার কাছেই মেরাদিয়ায় বসে এই হাট। একে অনেকে চিনে ‘মেরাদিয়া হাট’ নামে। তবে স্থানীয়রা একে ‘মেরাইদ্দা হাট’ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাদের দাবি, এই হাটের বয়স ২০০ থেকে ২৫০ বছর। প্রতি বুধবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থায়ী হয় এই হাট। ভোর থেকেই রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাটুরেরা নৌকায় করে নানান জিনিস নিয়ে নড়াই নদের (রামপুরা খাল) পাড়ে হাজির হন।

হাটে এমন কিছু নেই যা পাওয়া যায়না। মেরাদিয়া, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো এলাকার মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয় এই হাট। রাস্তার দু’পাশে, খালি জায়গায় এখানে-সেখানে সবুজ সবজি, টাটকা মাছ ও রঙিন পণ্যের সমাহার। বাঁশ ও শুঁটকির জন্য এই হাটের বেশ সুনাম আছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই পাওয়া যায় এখানে। কেউ নিয়ে আসেন নিজ বাগানের সবজি, কেউবা নিজ খামারের খাঁটি গরুর দুধ। রাস্তার পাশে যেখানেই একটু খালি স্থান পাওয়া যায় সেখানেই এসব ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খুলে বসেন।

শুধু যে কাঁচামাল বিক্রি হয় এই হাটে এমন না। রাজধানীর নামীদামী মার্কেটের কাপড় বিক্রেতারাও এখানে তাদের মালামাল নিয়ে হাজির হন। বর্তমানে হাটে শাকসবজি ও অন্যান্য জিনিসের তুলনায় কাপড়ের দোকানই বেশি চোখে পড়ে।

এছাড়া হাটে গেলে দেখা গ্রামগঞ্জের হাটের মতো করে চিরপরিচিত মিষ্টি ও মুড়ালির দোকান। কথা হলো হাটের মিষ্টি দোকানী তপন কুমার ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি এখানে মিষ্টি বিক্রি করছি। এখানে ব্যবসা ভালোই হয়। আগে খোলা মাঠে হাট বসতো। এখন মাঠ নেই, তাই রাস্তায় বসতে হয়।

হাটে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এর অন্যতম কারণ বুধবার কর্মদিবস। যার কারণে পুরুষরা এখানে তেমন আসতে পারে না। কিন্তু তাতেও এখানে ক্রেতার কোনো ঘাটতি হয়না। দিন যত বাড়ে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তেই থাকে। মেরাদিয়া, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো এলাকার গৃহিণীরা নিজেদের পছন্দ মতো সামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরেন।

রামপুরা বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সানজিদা রহমান বলেন, মার্কেটের তুলনায় এখানে বেশ কম দামে জামা-কাপড় পাওয়া যায়। তাছাড়া এখানে এক্সোর্ট কোয়ালিটির বিছানার চাদরগুলো খুব টেকসই। ঢাকার অনেক মার্কেটে যা খুঁজলেও পাওয়া যায়না। সকালের দিকে খুন টাটকা সবজি পাওয়া যায়। আমি প্রতি সপ্তাহে এখানে আসার চেষ্টা করি।

স্থানীয়দের দাবি, এই হাট ২০০ থেকে ২৫০ বছর পুরনো হবে। অনেকের দাদা-পরদাদারা এই হাটে বাজার করেছেন। আগে খোলা মাঠে এই হাট বসলেও নগরায়নের প্রভাবে এখন রাস্তার ওপর বসে। আধুনিকায়ন হলেও ঢাকার বুকে এরকম একটি হাট যেন বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয়কেই বহন করে আসছে।

ইত্তেফাক/টিআর/এএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত