ধানমন্ডি লেক থেকে গুলশানে যাবে ওয়াটার ট্যাক্সি

ধানমন্ডি লেক থেকে গুলশানে যাবে ওয়াটার ট্যাক্সি
ধানমন্ডি লেক থেকে গুলশানে যাবে ওয়াটার ট্যাক্সি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী পান্থপথের বিদ্যমান রাস্তায় দখল হওয়া খালটি পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর উপর দিয়ে ধানমন্ডি লেক থেকে নৌকা বা ওয়াটার ট্যাক্সিতে হাতিরঝিল হয়ে গুলশান-বারিধারায় যেতে পারবেন নগরবাসী। দখল হয়ে যাওয়া রাজধানীর পান্থপথ খালটি পুনরুদ্ধার করে ধানমন্ডি লেক ও হাতিরঝিলকে যুক্ত করে তৈরি করা হবে দীর্ঘ এ নৌ-রুট।

১৯৮০-এর দশকেও এই পান্থপথ সড়ক ছিল একটি খাল। এই খালটিসহ আরও অন্তত ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত খাল বিদ্যমান ছিল। যেখানে বর্তমানে বক্স কালভার্টের মাধ্যমে সড়ক করে দেওয়া হয়েছে। ফলে খালগুলো মূল অস্তিত্ব হারিয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসন রাজধানী ঢাকার খালগুলোর মালিক। কিন্তু আশির দশকে খালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পায় ঢাকা ওয়াসা। ২০০১ সালের দিকে অধিকাংশ খাল ভরাট করে তাতে বক্স কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় ওয়াসা। এতে জলাবদ্ধতা না কমে উল্টো বেড়ে যায়। প্রকল্পটি ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৫ জুন একনেকে ঢাকার খালগুলো থেকে বক্স কালভার্ট তুলে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন খালের আগের রূপ ফিরিয়ে আনতে ঢাকা ওয়াসা, রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় পান্থপথ খালটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় রাজউক। খালের মাধ্যমে হাতিরঝিলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে ধানমন্ডি লেক। এসব খাল উদ্ধারে অর্থায়ন করবে রাজউক। হাতিরঝিল লেক ধানমন্ডি লেকের সঙ্গে যুক্ত হলে বারিধারা হতে ধানমন্ডি পর্যন্ত প্রায় এগারো কিলোমিটার অবিচ্ছিন্ন জলপথ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিরঝিল লেক এবং ধানমন্ডি লেকের মধ্যে জলপথে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে পান্থপথ খাল পুনরুদ্ধার ও খাল এলাকার উন্নয়ন করবে সংস্থাটি। বোর্ডসভায় রেজুলেশনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর যথাযথ বসবাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে জলাধারগুলো রক্ষার বিকল্প নেই। অথচ ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন অবৈধ দখলের কারণে এই শহরের খাল, পুকুর, বন্যা প্রবাহ এলাকাগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার প্রতিকারে একদিকে যেমন শক্ত নজরদারি ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি, অন্যদিকে জলাধারগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়াটাও সমভাবে জরুরি।

এতে আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর দুইটি উল্লেখযোগ্য জলাধার হলো—হাতিরঝিল লেক এবং ধানমন্ডি লেক। পান্থপথ খাল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে এই বৃহৎ জলাধার দুটির মধ্যে জলপথে সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে একদিকে যেমন জলাধারের পরিমাণ বাড়বে অন্যদিকে ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কাওরান বাজার প্রভৃতি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। শহরে বন্যা প্রবণতা হ্রাস পাবে। ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি উক্ত এলাকার বসবাসযোগ্যতার উন্নতি হবে। খাল ও খাল সংলগ্ন এলাকায় সরল রৈখিক পার্ক, ওয়াকওয়ে, জগিং লেন, বাইসাইকেল লেন, বিশ্রামের স্থান প্রভৃতির সংস্থান করে উক্ত এলাকার নাগরিক সুবিধাদি সৃজন করা যাবে।

জানা যায়, খাল উদ্ধার ও খাল এলাকার উন্নয়নের নিমিত্তে উক্ত প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি, বিস্তারিত ভৌত জরিপ সম্পাদন এবং ডিটেইলড অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান এর ব্যয় প্রাক্কলন রাজউকের বোর্ড সভায় অনুমোদন করা হয়। ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদনের ব্যয়ভার সরকারি উৎস থেকে গ্রহণ করার নিমিত্তে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন চেয়ে পত্র প্রেরণ করে। পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ১৫ জুলাই এক পত্রে প্রকল্পটি রাজউকের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে মর্মে নির্দেশনা প্রদান করে।

রাজউক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় ১৫ কিলোমিটারের মতো রয়েছে বক্স কালভার্ট । এর ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। এর মধ্যে রয়েছে রাসেল স্কয়ার থেকে গ্রিন রোড হয়ে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা থেকে সোনারগাঁও হোটেল, পান্থপথ থেকে পরীবাগ, ইব্রাহিমপুর বাজার থেকে মিরপুর বাউনিয়া খাল, সেগুনবাগিচা থেকে আরামবাগ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, খিলগাঁও থেকে তিলপাপাড়া পর্যন্তসহ আরও কয়েকটি স্থানে স্বল্পদৈর্ঘ্যের বক্স কালভার্ট সড়ক রয়েছে। রাসেল স্কয়ার থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত পান্থপথের প্রায় পুরো রাস্তাই পড়েছে বক্স কালভার্টের ওপর।

ইত্তেফাক/টিআর

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত