বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মাঝে সম্প্রীতি বজায় রাখতে পিস কনফারেন্স আয়োজিত

বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মাঝে সম্প্রীতি বজায় রাখতে পিস কনফারেন্স আয়োজিত
ছবি: সংগৃহীত

দ্যা আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এবং ডাইভারসিটি ফর পিস ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অনলাইন পিস উইকের প্রথম আয়োজন অনলাইন পিস কনফারেন্স।

দিনব্যাপী এ আয়োজনের শুরুতেই দ্যা আর্থ সোসাইটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মামুন মিয়া আমাদের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের পিটিআইবি প্রোজেক্ট ম্যানেজার রবার্ট স্টলম্যান বলেন, বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এ দেশে রয়েছে বৈচিত্র্যময় জনগণের বসবাস তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত আমাদের দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তাদের দৈনন্দিন জীবনে যেসব বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো প্রশমনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

এরপর নিজেরা করি এর সেক্রেটারি ও মানবাধিকার কর্মী এবং ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বাংলাদেশের কোঅরডিনেটর খুশি কবির বলেন, আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষেরই একে অপরের প্রতি চিন্তার মাঝে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। একটি পরিবারে যেমন প্রতিটি সদস্যের চিন্তা-চেতনা এক হয়না ঠিক তেমনি আমাদের সকলেরই বোঝা উচিত যে আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন ভিন্ন হবে। আমাদের সকলেরই উচিত আদিবাসীদের সম্মান রক্ষার পাশাপাশি তাদের প্রথাগত অধিকারও নিশ্চিত করা। এ সময় তরুণদের মাঝে অনেকেই তার কাছে নানা প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার রক্ষা ও বজায় রাখতে তাদের করণীয় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করে।

সেইভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ তায়াবুল বাশার তার বক্তব্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্য বজায় রেখে কিভাবে আমরা সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে পারি সে বিষয়ে তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আন্তঃ ধর্মীয় সম্প্রীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তঃ ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যকীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী মারুফুল ইসলাম তার বক্তব্যের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি মূলত তার বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সমাজের সকল বৈচিত্র্যকে বজায় রাখতে এবং প্রচার করার জন্য প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

এরপরই উপস্থিত তরুণদের সঙ্গে একটি মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা করা হয় যার মাধ্যমে তরুণরা বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য তাদের নিজ নিজ মতামতও প্রদান করার সুযোগ পায়।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর পরই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ পিস কনফারেন্সে যোগদান করেন। তিনি সমাজ গঠনে শান্তি ও সহিষ্ণুতার প্রচার ও প্রসারের জন্য তরুণরা কিভাবে এগিয়ে আসতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে তরুণদের উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেন যেন তরুণরা তাদের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

সবশেষে, দ্যা আর্থ সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত একটি পিস বিল্ডিং জরিপে তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পিস কনফারেন্সটি সমাপ্ত হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x