২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
ইকবাল হোসেন ওরুফে ইকবাল ওরুফে জাহাঙ্গীর সেলিম। ছবি: ইত্তেফাক

রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নানের সহযোগী জঙ্গি ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর সেলিমকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ আভিযানিক দল।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (২৩ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে কাওরান বাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব মহা-পরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারের পর আসামি জঙ্গি ইকবালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, এইচএসসি পাশ। স্কুল ও কলেজে অধ্যায়রত অবস্থায় ছাত্র দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলো বলে সে জানায়। ২০০১ সালে তার চিন্তা চেতনার ও মনস্তাত্তিক পরিবর্তন আসে তখন ঝিনাইদহের স্থানী এক জঙ্গি সদস্যদের মাধ্যমে সে হরকাতুল জিহাদ বাংলা বাংলাদেশে (হুজিবি) তে যোগদান করে। সে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। ২০০৪ সালে আগস্ট মাসে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় চলে আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে হুজিবি নেতা মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য সমমানদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। মুফতি হান্নানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দলীয় গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করতো।

র‍্যাবের মহা-পরিচালক আরও বলেন, মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। মুফতি হান্নান হামলা পরিচালনার জন্য তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলো। হামলা চলাকালীন সময়ে সে মঞ্চকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়েছিল। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গমন এবং সেখানেই আত্মগোপন অবস্থান করতে থাকে।

২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়িতে এবং পরবর্তী গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। এ সময় আত্মগোপন থাকাকালীন সে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক কখনো রিকশা মেকানিক ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল জানান র‍্যাবের এ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবাল দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায়। প্রবাসে আত্মগোপন থাকাবস্থায় প্রথমে সেলিম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, মালেশিয়া জঙ্গি ইকবাল অবৈধভাবে বসবাস করতো। সেখানে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সনাক্ত হলে ২০২০ সালে শেষের দিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত আসে জঙ্গি ইকবাল আত্মগোপন থেকে আবারও সমমানদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।

পরে তিনি উল্লেখ করেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন লক্ষ্যে র‍্যাব বদ্ধ পরিকর। বাংলাদেশর মাটিতে জঙ্গিদের কোনো ঠাঁই নেই।

ইত্তেফাক/কেএইচ/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x