নিখোঁজ শিক্ষার্থী সাকিবের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিখোঁজ শিক্ষার্থী সাকিবের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
সাদমান সাকিব রাফি। ছবি: ইত্তেফাক

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে (এপিইউ) পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব রাফি (২৩) নিখোঁজ হয়েছিলেন। তবে এর একদিন পর তার লাশ হাতিরঝিলের পানি থেকে উদ্ধার হলেও তিনি কীভাবে মারা গেলেন-সে প্রশ্নের জবাব মিলছে না।

তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন কোথায়-তাও জানে না কেউ। লাশের পরনের পোশাক সংরক্ষণ করা হয় হাতিরঝিল থানায়।

এক মাস রাখার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসাবে লাশটি রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করে। সোমবার বিকালে সাকিবের মা মনোয়ারা হোসেন হাতিরঝিল থানায় গিয়ে অজ্ঞাত লাশের সেই পোশাক দেখে তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

মনোয়ারা হোসেন বলেন, ‘আমার মানিককে ওরা হত্যা করেছে। আর প্রশাসন বলেছে, আমার ছেলে নাকি জঙ্গিতে যোগদান করেছে। ছেলেটা নিখোঁজের পর একটুও খোঁজ করেনি। তারা শুধু জঙ্গি কার্যক্রমের কথা বলে কোনো তদন্তই করেনি। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার ছেলেকে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসেবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের বাজার কবরস্থানে দাফন করে। সেই তথ্য নিয়ে তিনি মঙ্গলবার সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু একইদিন আরও চারটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করায় তার ছেলের কবর কোনটা তা জানতে পারেননি। এটা তার জন্য বড় বেদনার।’

তিনি বলেন, ‘তার ছেলে তো ঢাকার রাস্তাঘাট চেনে না। সেখানে গেল কীভাবে? পানিতেই বা পড়ল কীভাবে। সে যদি নিজের ইচ্ছেতে পানিতে ডুবে মরে তাহলে তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন কোথায়?।’ তিনি এসবের জবাব পাচ্ছেন না।

হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বোঝা যাবে, কীভাবে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছিল।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x